ঢাকা ১১:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৫

নিজ বাড়িতে যুবলীগ কর্মী খুন, সুষ্ঠু তদন্ত ও শাস্তির দাবি এমপি মোরশেদ আলমের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪০:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৪ ১২ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

 

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার নাটেশ্বর ইউনিয়ন থেকে যুবলীগ কর্মী শহিদুজ্জামান পলাশের (৩৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

রোববার (১৪ জানুয়ারি) সকালের দিকে মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, গতকাল শনিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার নাটেশ্বর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের পূর্ব মির্জানগর গ্রামের জামাল হোসেনের বাড়িতে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত শহিদুজ্জামান ওরফে পলাশ ওই গ্রামের জামাল হোসেনের ছেলে এবং স্থানীয় যুবলীগ কর্মী ছিল।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বাক্সশারহাট বাজারে পলাশ এশার নামাজ আদায় করে। এরপর সে ওই বাজারে তার মোটরসাইকেল রেখে মুঠোফোনে কে বা কাহারার কল পেয়ে বাজারের বাহিরে যায়। একপর্যায়ে রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য নিহতের বাড়ির পাশের লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারে পলাশ তার বাড়িতে খুন হয়েছে। খবর পেয়ে সোনাইমুড়ী থানার পুলিশ গভীর রাতে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম জানান, পলাশ ৪-৫ বছর আগে সৌদি থেকে দেশে আসেন। বর্তমানে ইতালি যাওয়ার জন্য চেষ্টা করছে। সে ২ সন্তানের জনক ছিল। ঘটনার সময় তার স্ত্রী বাড়িতে ছিলনা। শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে তার বাড়িতেই সেই খুন হয়। তার মাথায়-নাকে আঘাতের চিহৃ রয়েছে।

 

এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে খুনিদের শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ মোরশেদ আলম। মোরশেদ আলম জানান, তিনি গত ১০ বছর নোয়াখালী-২ আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন। দীর্ঘ এই সময়ে এলাকায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা কিংবা হত্যাকাণ্ড ঘটেনি। নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে অপপ্রচারে নেমেছেন। তবে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি জানার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার জন্য সোনাইমুড়ী থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

 

এ ঘটনা প্রসঙ্গে এমপি মোরশেদ আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় লেখেন, ‘গতকাল ৬নং নাটেশ্বর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা শহিদুজ্জামান পলাশকে নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি। আমি এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সকলকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।

 

কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি আরও লেখেন, খুনি যে দলেরই হোক শাস্তি তাকে পেতেই হবে। আমি নিহত পলাশের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

 

প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করে টানা তিনবারের এই সংসদ সদস্য জানান, এই হত্যাকাণ্ড সুষ্ঠু তদন্তে প্রশাসনকে সার্বিক সহযোগিতার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি সেই সঙ্গে কোনো নিরীহ লোক যেন হয়রানির শিকার না হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকার জন্য আহবান জানাচ্ছি।

 

সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে পূর্ব শক্রতার জের ধরে কে বা কাহারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে নিহতের পরিবারও হত্যাকান্ডের কোনো কারণ জানাতে পারেনি। একটি বসত বিল্ডিং সব সময় তালা মারা থাকে ওই বিল্ডিংয়ের পাশে তার মরদেহ পাওয়া গেছে।

 

ওসি বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী আরও বলেন, নিহতের মাথায় আঘাতের চিহৃ রয়েছে। তবে এটাকি গুলির আঘাত নাকি ইটের আঘাত বলা যাচ্ছেনা। তবে আশে পাশে অনেক গুলো ইট পাওয়া গেছে। রোববার সকালে মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
নিউজ ডেস্ক

নিজ বাড়িতে যুবলীগ কর্মী খুন, সুষ্ঠু তদন্ত ও শাস্তির দাবি এমপি মোরশেদ আলমের

আপডেট সময় : ০৪:৪০:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৪

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

 

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার নাটেশ্বর ইউনিয়ন থেকে যুবলীগ কর্মী শহিদুজ্জামান পলাশের (৩৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

রোববার (১৪ জানুয়ারি) সকালের দিকে মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, গতকাল শনিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার নাটেশ্বর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের পূর্ব মির্জানগর গ্রামের জামাল হোসেনের বাড়িতে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত শহিদুজ্জামান ওরফে পলাশ ওই গ্রামের জামাল হোসেনের ছেলে এবং স্থানীয় যুবলীগ কর্মী ছিল।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বাক্সশারহাট বাজারে পলাশ এশার নামাজ আদায় করে। এরপর সে ওই বাজারে তার মোটরসাইকেল রেখে মুঠোফোনে কে বা কাহারার কল পেয়ে বাজারের বাহিরে যায়। একপর্যায়ে রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য নিহতের বাড়ির পাশের লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারে পলাশ তার বাড়িতে খুন হয়েছে। খবর পেয়ে সোনাইমুড়ী থানার পুলিশ গভীর রাতে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম জানান, পলাশ ৪-৫ বছর আগে সৌদি থেকে দেশে আসেন। বর্তমানে ইতালি যাওয়ার জন্য চেষ্টা করছে। সে ২ সন্তানের জনক ছিল। ঘটনার সময় তার স্ত্রী বাড়িতে ছিলনা। শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে তার বাড়িতেই সেই খুন হয়। তার মাথায়-নাকে আঘাতের চিহৃ রয়েছে।

 

এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে খুনিদের শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ মোরশেদ আলম। মোরশেদ আলম জানান, তিনি গত ১০ বছর নোয়াখালী-২ আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন। দীর্ঘ এই সময়ে এলাকায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা কিংবা হত্যাকাণ্ড ঘটেনি। নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে অপপ্রচারে নেমেছেন। তবে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি জানার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার জন্য সোনাইমুড়ী থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

 

এ ঘটনা প্রসঙ্গে এমপি মোরশেদ আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় লেখেন, ‘গতকাল ৬নং নাটেশ্বর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা শহিদুজ্জামান পলাশকে নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি। আমি এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সকলকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।

 

কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি আরও লেখেন, খুনি যে দলেরই হোক শাস্তি তাকে পেতেই হবে। আমি নিহত পলাশের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

 

প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করে টানা তিনবারের এই সংসদ সদস্য জানান, এই হত্যাকাণ্ড সুষ্ঠু তদন্তে প্রশাসনকে সার্বিক সহযোগিতার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি সেই সঙ্গে কোনো নিরীহ লোক যেন হয়রানির শিকার না হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকার জন্য আহবান জানাচ্ছি।

 

সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে পূর্ব শক্রতার জের ধরে কে বা কাহারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে নিহতের পরিবারও হত্যাকান্ডের কোনো কারণ জানাতে পারেনি। একটি বসত বিল্ডিং সব সময় তালা মারা থাকে ওই বিল্ডিংয়ের পাশে তার মরদেহ পাওয়া গেছে।

 

ওসি বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী আরও বলেন, নিহতের মাথায় আঘাতের চিহৃ রয়েছে। তবে এটাকি গুলির আঘাত নাকি ইটের আঘাত বলা যাচ্ছেনা। তবে আশে পাশে অনেক গুলো ইট পাওয়া গেছে। রোববার সকালে মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।