Sharing is caring!

আজ ৬ মার্চ, জাতীয় পাট দিবস। ‘সোনালী আঁশের সোনার দেশ, পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ’ – এই প্রতিপাদ্য নিয়ে পালিত হচ্ছে এবারের জাতীয় পাট দিবস।পাটের সঙ্গে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি বিবেচনায় ২০১৬ সালে প্রতি বছর ৬ মার্চ জাতীয়ভাবে পাট দিবস আয়োজনের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পরের বছর থেকে প্রতিবছর বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।গত কয়েক বছরের মতো এবারও দিবসটি পালনে কিছু কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে পাট ও পাটজাত পণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে অবদানের জন্য ১১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেবে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়।

রোববার (৬ মার্চ) সকাল নয়টায় দিবস উপলক্ষে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সামনে থেকে আব্দুল গনি রোডে একটি র‍্যালি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরপর ১০টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পাট দিবসের মূল অনুষ্ঠান হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক। এদিনই তেজগাঁও মনিপুরিপাড়া জেডিপিসি চত্বরে তিন দিনব্যাপী বহুমুখী পাটপণ্য প্রদর্শনী ও মেলা শুরু হবে।

দিবস উদযাপনকারী প্রতিষ্ঠান বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় বলছে, কালের পরিক্রমায় কৃত্রিম তন্তুর (পলিথিন) ব্যবহার বৃদ্ধি পেলেও বর্তমান টেকসই উন্নয়নের যুগে বিশ্বব্যাপী পরিবেশবান্ধব পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পাটজাত পণ্যের প্রসার ও বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পাটচাষি, পাটজাত পণ্যের উৎপাদনকারী ব্যবসায়ী, বহুমুখী পাটজাত পণ্যের উদ্যোক্তা, পাটজাত পণ্যের ব্যবহারকারী সবাইকে সম্পৃক্ত করে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এ জাতীয় পাট দিবস দেশব্যাপী উদযাপিত হবে।

প্রসঙ্গত, পাটশিল্প এখন দুঃসময়ে পড়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সব পাটকলই এখন বন্ধ। ব্যক্তি খাতের পাটকলগুলোও ভালো চলছে না। কমবেশি একশ পাটকল চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। তবে লোকসানে থাকলেও সুদিনের আশায় এগুলো বন্ধ করা হচ্ছে না। পাটশিল্পে এই দুর্দিনের মূল কারণ কাঁচাপাটের সংকট।

পাটশিল্পের উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, মৌসুমের শুরুতে কাঁচাপাট পাওয়া যাচ্ছে না। কারখানায় চাহিদা বেশি। কিন্তু জোগান নেই। ফলে কাঁচাপাটের দাম বেড়েছে সর্বকালের সর্বোচ্চ। এজন্য পাটপণ্য তৈরির কারখানাগুলো অচল হতে বসেছে। গত বছরের তুলনায় তিনগুণ বেশি দামে ছয় হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ কাঁচাপাট। এই দামে পাট কিনে পণ্য তৈরি করে লাভ করা সম্ভব না। ক্রেতারা তাই বাংলাদেশ ছেড়ে যাচ্ছেন। শ্রমিক বেকার হচ্ছেন। ঋণখেলাপি হচ্ছেন উদ্যোক্তারা। চাপ তৈরি হচ্ছে অর্থনীতিতে।

অথচ স্বাধীন দেশে গোড়ার দিকে মোট রপ্তানি আয়ে পাটের অবদান ছিল ৯৭ ভাগ। বাকি ৩ ভাগ আসত অন্য সব পণ্য রপ্তানি থেকে। পরিস্থিতি এখন পুরোটাই উল্টো। রপ্তানিতে এখন পাটের অবদান মাত্র ৩ শতাংশ। স্বাধীনের আগেও পূর্ববাংলায় প্রধান অর্থকরী ফসল ছিল পাট। বিদেশি মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস। সে সূত্রে পাটকে বলা হতো সোনালি আঁশ। সেই পাটশিল্পের অবস্থা এখন করুণ।

Sharing is caring!