প্রতিবেদক:

করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) কারণে অনেক বাংলাদেশি দেশে ফিরতে পারছেন না সৌদি আরব থেকে। দেশে ফিরতে আগ্রহী প্রবাসীদেরও পর্যায়ক্রমে ফেরত আনা হবে। তবে সৌদি থেকে বাংলাদেশিদের ফেরত আনার ক্ষেত্রে আটকেপড়া ওমরা পালনকারী, সে দেশে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী এবং নারী গৃহকর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে দেশটি সম্মতি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের কাছে। গত ১৪ জুন রাতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে এক ফোনালাপকালে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে একমত প্রকাশ করেন। গতকাল বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, কোয়ারেন্টাইন সুবিধা নিশ্চিত করে সৌদি আরব থেকে ফিরতে আগ্রহী প্রবাসী শ্রমিকদের পর্যায়ক্রমে দেশে আনা হবে। তবে সৌদি থেকে বাংলাদেশিদের ফেরত আনার ক্ষেত্রে আটকেপড়া ওমরা পালনকারী, সে দেশে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী এবং নারী গৃহকর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

আলাপকালে করোনা-পরবর্তী পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও মৎস্য চাষে বাংলাদেশের কৃষি শ্রমিকদের কাজে লাগাতে অনুরোধ করলেন ড. মোমেন। করোনা-পরবর্তী পরিস্থিতিতে কৃষি উৎপাদনে সৌদি আরবের কোম্পানি সে দেশের বাইরে অন্য দেশেও বাংলাদেশের দক্ষ কৃষি শ্রমিকদের কাজে লাগিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে বলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

তাছাড়া তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ বাংলাদেশিদের সৌদি আরব কাজে লাগাতে পারবে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন। বাংলাদেশের কৃষি শ্রমিক এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষদের কাজে লাগানোর বিষয়ে ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ উৎসাহ প্রকাশ করেন।

এ সময় সৌদি আরবকে বাংলাদেশ থেকে হালাল মাংস আমদানির আহ্বান জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের যৌথ প্রকল্প স্থাপন করা যেতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বাংলাদেশ থেকে উন্নত সবজি, পিপিই আমদানির সুযোগ আছে বলেও জানান ড. মোমেন।

মিয়ানমারের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দ্রুত স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রেও সৌদির সহযোগিতা চান ড. মোমেন। এ বিষয়ে সৌদি আরবের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা বিষয়ে অব্যাহত সাহায্যের জন্য সৌদি সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তাছাড়া সৌদিতে করোনা আক্রান্ত বাংলাদেশিদের চিকিৎসাসহ প্রবাসী বাংলাদেশিদের সার্বিক সহযোগিতার জন্যও সৌদি সরকারকে ধন্যবাদ জানান ড. মোমেন।