ডেস্কঃ

প্রথমে তারা নিজেদেরকে আমেরিকান অথবা ব্রিটেনের নাগরিক হওয়ার পরিচয় দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্পর্ক তৈরি করতেন। বিদেশি দামি উপহারের লোভ দেখানোর কৌশলও তারা ব্যবহার করেছেন। টার্গেট পুরুষ হলে, তারা নারী সেজে বন্ধুত্বের ফাঁদ পাততেন। আর, টার্গেট নারী হলে, তারা পুরুষ পরিচয় দিতেন।

ফেসবুক প্রতারক চক্রের এরকম তিন বিদেশি নাগরিককে আজ রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নগাং তেগমো বার্টিন (৪৭), ননাং তভোসার্গ ক্রিস্টিয়ান (৩৮) ও একোঙ্গো আর্নস্ট ইবরামিম (৪২)। তারা কোন দেশের নাগরিক, এখনও জানা যায়নি। পুলিশের ধারণা, তারা ক্যামেরুন এবং কেনিয়ার নাগরিক হতে পারে।

প্রতারণার শিকার বাংলাদেশি এক যুবকের অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করে সিআইডি। ফেসবুক বন্ধুত্বের সূত্রে কৌশলে তারা আরিফুল ইসলাম ফয়সাল নামের ওই যুবকের কাছ থেকে ২২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়।

সিআইডি সদর দপ্তরে সংবাদ ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত উপ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) শেখ মোহাম্মদ রেজাউল হায়দার জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের কারও কাছে পাসপোর্ট নেই এবং তারা তাদের জাতীয়তা সম্পর্কে এখনো তথ্য দেননি।তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে তারা বাংলাদেশে বসবাস করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা বন্ধুত্ব তৈরি করে সেখান থেকে টার্গেট নির্দিষ্ট করে এবং টার্গেটের কাছ থেকে মূল্যবান উপহার দেওয়ার নামে অর্থ আদায় করেছে।’

তাদের অভিনব প্রতারণার কৌশল সম্পর্কে রেজাউল হায়দার বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা “জেনিটারি” নামের একটা ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে মেয়ে সেজে আরিফুল ইসলামের বন্ধু হয়। জেনিটারি” নিজেকে আমেরিকান হিসেবে পরিচয় দেয় এবং ডিপ্লোম্যাটিক কুরিয়ার এজেন্টের মাধ্যমে আরিফুলের কাছে উপহার পাঠাতে চায় বলে জানায়। পরে, ওই চক্রের একজন নিজেকে কুরিয়ার এজেন্ট পরিচয় দিয়ে আরিফুলকে ফোন দেয় এবং জানায় যে তার নামে কুরিয়ারে বেশ দামি কিছু উপহার এসেছে। কিন্তু, সে সব ছাড়াতে হলে টাকা দিতে হবে।

সিআইডি কর্মকর্তা জানান, এভাবে কুরিয়ারে আমেরিকা থেকে আসা দামি উপহার ছাড়িয়ে দেওয়ার নাম করে চক্রটি ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়।

অতিরিক্ত ডিআইজি হায়দার বলেন, ‘দামি উপহারের লোভ দেখিয়ে চক্রটি আরিফুলের কাছ থেকে দুই দফায় প্রায় ২২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা নিয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে স্থানীয় কিছু লোকের সম্পৃক্ততা আছে বলে আমরা জেনেছি। চক্রের বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছি, যোগ করেন তিনি।