Sharing is caring!

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

 

সারা দেশের ন্যায় নোয়াখালীতে শুরু হয়েছে শীত। এ অঞ্চলে মানুষের শীতের প্রধান আকর্ষণ গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য বাহী এবং শীত মৌসুমের প্রিয় খেজুর গাছের রস অনেকটাই বিলিনের পথে। এ মৌসুমে এক সময়ে গ্রাম-বাংলার প্রতি ঘওে ঘরে রস দিয়ে ফিন্নি, পায়েস, রসের গুড় দিয়ে বাপা পিঁঠা, ছাই পিঠা, ফুঁয়া পিঠা এবং গাড় রস তৈরী করে মুড়ি চিড়া খোঁই, চিতল পিঠা সহ হরেক রকম পিঠা ফুলির মহা উৎসব চলত ঘরে ঘরে।

কালের বিবর্তনে ক্রমান্বয়ে স্মৃতির পাতায় ধাবিত হচ্ছে খেজুর গাছের রস। আগেশার ভোরের সময়ে গাছিরা রস নিয়ে শহরে এসে ফেরি করে রস বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করত। এখন আর প্রত্যান্ত অঞ্চল থেকে আসা গাছিদের শুনা যায় না, এ রস লাগাবে, রস। শীতের শুরুতেই দেখা যায় অযত্নে অবহেলায় পথে প্রান্তরে থাকা খেজুর গাছের রস তৈরীতে প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়েও নেই জৌলুশ ভরা সারি সারি গাছ।

পথে ঘাটে বাজারে দেখা যায়না হাঁড়ি-হাঁড়ি রস। নোয়াখালী সদর, সবর্ণচর, কবির হাট, বেগমগঞ্জ ও হাতিয়া উপজেলার গ্রাম অঞ্চলে ঘওে ঘরে দেখা যায়, অবহেলায় অযত্নে বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী মুধুবৃক্ষ খেজুর গাছ। খেজুর গাছের রস হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সুবর্ণচর পাংখার বাজারে এক সময়ের গাছি ছাদু, আবুল হাশেম ব্যাপারী ও রমজান আলী বলেন, প্রধানত রাস্তা গুলো সংস্কার হওয়ার কারনে ক্রমান্বয়ে কেটে ফেলা হলেও নতুন করে কেউ এ গাছ লাগাতে চায় না। অপরিকল্পিত বাড়ী ঘর নির্মান বিভিন্ন ইট বাটায় বছর চুক্তি শ্রমিকের কাজ থাকায়, গাছ কাটায় লোক সংকট দেখা যায়।

এছাড়া গাছ প্রস্তুতের মজুরী আগে যে খানে লাগত ২০-৩০ টাকা, লাগতো না কোন পাহারাদার আর এখন গাছ প্রস্তুতে প্রতি গাছে লাগে ২০০-২৫০ টাকা। এছাড়াও রাত্রে পাহারা দিতে হয়। তা নাহলে চোরেরা রস চুরি করে নিয়ে যায়। পাহারাদারকে দিতে হয় প্রতি রাতের মজুরি ৩০০/৩৫০ টাকা। এ সকল কারণে খেজুর গাছ কেটে রস আহরন করা থেকে বিরত থাকছে অনেকে। মূলত এ সকল কারণে নোয়াখালী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্য বাহী সু-স্বাদু খেজুর গাছের রস। মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে আগের মত শীতের মহোৎসব থেকে।

Sharing is caring!