Sharing is caring!

ডেস্কঃ

লক্ষ্মীপুরে পল্লী চিকিৎসকসহ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আরও তিন জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে।এদের মধ্যে সদরে ১৯ জন, রামগঞ্জে ১৯ জন, রামগতিতে আট জন, কমলনগরে সাত জন ও রায়পুর উপজেলায় রয়েছেন দুই জন।

শনিবার সকালে লক্ষ্মীপুরের সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল গাফফার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নতুন করে আক্রান্ত তিন জনের মধ্যে জেলার রামগতি উপজেলায় দুই জন রয়েছেন। অন্যদিকে, সদর উপজেলায় ২৬ বছর বয়সী এক পল্লী চিকিৎসক রয়েছেন। আক্রান্তদের বাহ্যিক উপসর্গ না থাকায় তাদের হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রহিম বলেন, ‘উপজেলার বড়খেড়ি ইউনিয়নে ৩৮ বছর বয়সী ও চরগাজী ইউনিয়নের ১৯ বছর বয়সী দুই ব্যক্তি নারায়ণগঞ্জ থেকে গত ৪-৫ দিন আগে নিজ বাড়িতে আসেন। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের তথ্যের ভিত্তিতে গত ৪ মে তাদেরকে হাসপাতালে খবর দিয়ে এনে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সংগ্রহ করা নমুনা চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে পাঠানো হয়।’

‘গতকাল রাতে পাওয়া ফলাফলে তাদের করোনা পজিটিভ আসে। এ ঘটনায় ওই দুই ব্যক্তির বাড়ি লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। তাদের পরিবারের সদস্যদের নমুনাও সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে’, যোগ করেন তিনি।

রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল মোমিন বলেন, ‘আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মী পাঠিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পরিবারের অন্য সদস্য ও তাদের সংস্পর্শে যাওয়া লোকজনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষার জন্য আজ চট্টগ্রামের বিআইটিআইডিতে পাঠানো হবে।’

সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘উপজেলার ভবানিগঞ্জ ইউনিয়ন এলাকার ২৬ বছর বয়সী এক পল্লী চিকিৎসকের শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে তিনি ঢাকায় গিয়ে একটি হাসপাতালে ভর্তি হন। গত সপ্তাহে তার অস্ত্রোপচার করার কথা ছিল। অস্ত্রোপচারের আগে তার শরীরের কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। ওই পরীক্ষার সঙ্গে তার করোনাভাইরাসের পরীক্ষাও করা হয়। গত চার দিন আগে তিনি ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসেন। গতকাল রাতে তার পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ আসে। এ ঘটনায় তার বাড়িটি লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের উপসর্গ না থাকায় আপাতত তিনি হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি হাসপাতালে আসতে রাজি হচ্ছেন না। তাকে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরমান শাকিল বলেন, ‘আক্রান্ত পল্লী চিকিৎসকের বাড়ি লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের  নমুনা সংগ্রহ করা হবে।

Sharing is caring!