নোয়াখালী প্রতিনিধি::

নোয়াখালী কবিরহাট উপজেলার বাটইয়া ইউনিয়নের পশ্চিম মাদলা গ্রামের রহিমা খাতুন নামের এক মহিলা মায়ের বয়স্ক ভাতার বই আনতে গিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য কর্তৃক লাঞ্চিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনাটি ঘটে গত ৪ মে (বৃহস্পতিবার) সকাল ১১টার দিকে বাটইয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে।

সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, বাটইয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড এর ইউসুফ বেপারী বাড়ীর এই মহিলার বাবার নামে একটি বয়স্ক ভাতা ছিলো। বছর খানেক হচ্ছে মহিলার বাবা অর্থাৎ ভাতাভুগী খুরশীদ আলম মৃত্যু বররণ করেন। ভাতা বইয়ের নমিনী হিসেবে রয়েছে তার মা আমেনা খাতুন। স্বামীর মৃত্যুরর পরে তার স্বামীর ভাতার নমিনী হিসেবে স্থানীয় ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন বাবুল মেম্বার এর কাছে যায় সদ্য বিধবা মহিলা আমেনা খাতুন। এর পর থেকে আজ নয় কাল এভাবে করতে করতে ৬/৭ মাস অতিবাহি হলেও মহিলাটি এখনো পাইনি তার স্বামীর নামের বয়স্ক ভাতার বই প্রতিস্থাপন করে মহিলার নামে ।

এমতবস্থায় ওই বয়স্ক বিধবা মহিলার পরিবারে কেউ না থাকার কারণে মায়ের বয়স্ক ভাতার বই আনতে যান বাটইয়া ইউপি কার্যালয়ে। সেখানে গিয়ে চেয়ারম্যান সাহেবকে বিস্তারিত জানানোর পর চেয়ারম্যানের নির্দেশে সেখানেই অপেক্ষা করেন বাবুল মেম্বারের জন্য। কিছুক্ষণ পরে বাবুল মেম্বার ইউনিয়ন পরিষদে আসলে তার কাছে গিয়ে ভাতার বই চাওয়া মাত্রই অশালিন ভাষায় গালমন্দ করে মহিলাটিকে চড় থাপ্পর মারেন অভিযুক্ত ইউপি সদস্য। ভুক্তভোগী রহিমা খাতুন আরো জানান, সেখানে চেয়ারম্যানও উপস্থিত ছিলেন কিন্তু তিনি এর কোন প্রতিবাদ করেনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে জসিম উদ্দিন বাবুল মেম্বার জানান, মহিলাটি আমার বিষয়ে বয়স্ক ভাতার বইটি নিয়ে অনেক গালমন্দ করাতে আমি নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারিনি তাই রাগের মাথায় তাকে একটা চড়থাপ্পর দিয়ে ফেলছি। এটা আমার অন্যায় হয়েছে আমি তা শিকার করি। আর তার মায়ের বই এখনো উপজেলাতেই রয়েছে লকডাউন থাকাতে সেখান থেকে আনতে না পারায় তারা ভাবছে আমরা মেরে দিছি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মুঠোফোনে জানান, বাবুল মেম্বারকে গালমন্দ করাতে রাগের মাথায় মেম্বার তাকে একটা থাপ্পড় দিয়ে ফেলছে। পরে আমি বিষয়টি দেখব বলে মহিলাকে সান্তনা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি।

এই ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হওয়াতে সাধারণ মানুষ এ অন্যায়ের সুস্থ্য বিচার দাবি করে বলেন, একজন মেম্বার অন্যায় ভাবে মহিলাকে চড়থাপ্পড় মেরেছে। তাই ঘটনার তিব্র নিন্দা জানিয়ে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ করে বলেন, ঘটনাটির সুস্থ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত মেম্বারকে আইনের আওতায় আনা হোক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া পারভীন জানান, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তবে যদি ঘটনাটি সত্যিই ঘটে থাকে তাহলে অন্যায় হয়েছে। একজন মেম্বার অন্যায় ভাবে কোন মহিলার গায়ে হাত তুলতে পারেনা। তিনি আরো জানান, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

উল্লেখ্য বর্তমান সোসাল মিডিয়া ফেসবুকে মহিলার এই আত্ননাতের ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরে ঘটনাটি সবার নজরে আসে।