নোয়াখালী প্রতিনিধি::

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের ব্যবসায়ী মো.রাসেদ উদ্দিন (৩৫) কে হত্যা মামলার আসামি ও তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা ওই মামলায় সাক্ষী দেয়ায় মো.রাজিব খান কে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে।

হামলায় গুরুত্বর আহত রাজিব, হত্যাকান্ডের শিকার ব্যবসায়ী রাসেদ’র মেয়ের জামাই এবং ওই হত্যা মামলার ৪ নম্বর সাক্ষী। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গুরুত্বর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে।

সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের গাংচিল বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

হামলার শিকার রাজিব জানান, আমার শ^শুরের হত্যা মামলার ১৫ নম্বর আসামি মো.সিরাজ উদ্দিনকে হত্যার ঘটনার ১দিন পর গাংচিল বাজারে প্রকাশ্যে ঘুরাঘুরি করতে দেখে আমি কোম্পানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কে অবহিত করি। তিনি আমাকে জানান, থানা থেকে গাংচিল বাজারের দূরত্ব অনেক। তাই তুমি নিজেও ওই আসামির গতিবিধির উপর লক্ষ্য রাখো এবং স্থানীয় এলাকাবাসীসহ তাকে আটক কর। অনেকক্ষণ অপেক্ষো করার পর দেখি ওই খুনি একটি দোকান থেকে বের হয়ে চলে যাচ্ছে। তখন আমি তার সাথে কথা বলে তাকে আটক করার চেষ্টা করলে হত্যা মামলার ৩ নম্বর আসামি মেহেরাজ (২৮), সহ সন্ত্রাসী আলী মোহন ও তার ছেলে সাকিব, তোফায়েল, দেলোয়ার, আইমন, নিজাম সহ ১৫ থেকে ২০জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমার দোকানে হামলা করে। আমাকে বেধড়ক মারধর করে এবং মাথায় কুপিয়ে গুরুত্বর আহত করে দোকানের ক্যাশ থেকে নগদ ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.আরিফুর রহমান ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। পরবর্তীতে এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, গত রোববার (১০ এপ্রিল) রাতে চরএলাহী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোজাম্মেল হোসেন’র নেতৃত্বে পূর্ব শক্রতা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী রাসেদকে নিজের দোকান থেকে ধরে নিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে নৃশংসভাবে গাংচিল এলাকার হাসেম বাজারে হত্যা করে।

নিহত মো. রাশেদ উদ্দিন (৩৫), একই ওয়ার্ডের হাসেম বাজার এলাকার আবুল হাসেম বাদী’র ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ফেরদৌসের নেছা কোম্পানীগঞ্জ থানায় ১৬জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকে ইউপি সদস্য মোজ্জামেল হোসেন সপরিবারে পলাতক রয়েছে।