ঢাকা ০৯:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

১৮ জেলায় আরও জটিল বন্যা পরিস্থিতি, সতর্কতা জারি

নিজেস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৪:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

টানা ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর-পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের ১৮টি জেলার নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যা দেখা দিতে পারে অথবা বিদ্যমান বন্যা আরও তীব্র হতে পারে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত বন্যা পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এফএফডব্লিউসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বান্দরবানের সাঙ্গু, লামার মাতামুহুরী, মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাই, হবিগঞ্জের খোয়াই এবং সিলেটের কুশিয়ারা নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী দুই দিনে সিলেট, চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। একই সময়ে ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গেও ব্যাপক বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়তে পারে এবং নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে।

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। একই সময়ে ফেনী, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া এবং হালদা নদীর পানি কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি করতে পারে। এর প্রভাবে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা এবং ভোগাই-কংস নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এসব নদীর কোথাও কোথাও পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি আগামী তিন দিন সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

উত্তরাঞ্চলেও বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছে এফএফডব্লিউসি। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুরে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এছাড়া আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ২৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া সুনামগঞ্জে ২৬৫ মিলিমিটার, নওগাঁর আত্রাইয়ে ২৬০ মিলিমিটার, লামায় ২০৭ মিলিমিটার, বান্দরবানে ১৯৬ মিলিমিটার, মহাদেবপুরে ১৯৩ মিলিমিটার এবং বরগুনায় ১৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয়ের মাউকিরওয়াতে ২৪৫ মিলিমিটার এবং চেরাপুঞ্জিতে ২২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের ১০টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। এর প্রভাবে হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, ফেনী, খাগড়াছড়ি, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর এবং কুড়িগ্রাম- এই ১৮ জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে অথবা বিদ্যমান বন্যার আরও অবনতি ঘটতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
নিউজ ডেস্ক

১৮ জেলায় আরও জটিল বন্যা পরিস্থিতি, সতর্কতা জারি

আপডেট সময় : ০৬:৪৪:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

টানা ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর-পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের ১৮টি জেলার নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যা দেখা দিতে পারে অথবা বিদ্যমান বন্যা আরও তীব্র হতে পারে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত বন্যা পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এফএফডব্লিউসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বান্দরবানের সাঙ্গু, লামার মাতামুহুরী, মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাই, হবিগঞ্জের খোয়াই এবং সিলেটের কুশিয়ারা নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী দুই দিনে সিলেট, চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। একই সময়ে ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গেও ব্যাপক বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়তে পারে এবং নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে।

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। একই সময়ে ফেনী, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া এবং হালদা নদীর পানি কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি করতে পারে। এর প্রভাবে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা এবং ভোগাই-কংস নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এসব নদীর কোথাও কোথাও পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি আগামী তিন দিন সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

উত্তরাঞ্চলেও বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছে এফএফডব্লিউসি। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুরে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এছাড়া আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ২৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া সুনামগঞ্জে ২৬৫ মিলিমিটার, নওগাঁর আত্রাইয়ে ২৬০ মিলিমিটার, লামায় ২০৭ মিলিমিটার, বান্দরবানে ১৯৬ মিলিমিটার, মহাদেবপুরে ১৯৩ মিলিমিটার এবং বরগুনায় ১৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয়ের মাউকিরওয়াতে ২৪৫ মিলিমিটার এবং চেরাপুঞ্জিতে ২২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের ১০টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। এর প্রভাবে হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, ফেনী, খাগড়াছড়ি, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর এবং কুড়িগ্রাম- এই ১৮ জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে অথবা বিদ্যমান বন্যার আরও অবনতি ঘটতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।