ঢাকা ০৬:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫
সংবাদ শিরোনাম ::
অটোরিকশার সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, পাঁচ শিশুসহ আহত-৬ মানবিক তারুণ্যের ৮ম যুব সম্মেলন ও এ্যাওয়ার্ড বিতরণ সম্পত্তির বিরোধ নিয়ে থানায় অভিযোগ, পুলিশের তদন্তকালে বাদীর উপর হামলা, আহত ৪ হাসনাত-সারজিস ছাত্রলীগ থেকে গিয়ে নতুন দলে এসেছে: ইসমাইল সম্রাট কবিরহাটের একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র শিরিন গার্ডেনে হামলার অভিযোগ, পুলিশসহ আহত ৭ সুধারামে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম, অভিযোগ যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতকর্মীদের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মালিকানা ছিনতাই করেও এনসিপি সংগঠন হিসেবে ব্যর্থ হয়েছে: নাছির Blind Amjad receives Eid gift from Tarique Zia জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে দৃষ্টি হারানো আমজাদ পেলো তারেক জিয়ার ঈদ উপহার ভাড়াটিয়ার দোকানে তালা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

এক্সিম ব্যাংকের এমডিকে হুমকি নির্যাতন, সিকদার গ্রুপ কর্তাদের নামে মামলা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০৫:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২০ ৪১২ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এনকে বার্তা ডেস্ক::

প্রকল্পে বিনিয়োগে রাজি না হওয়ায় এক্সিম ব্যাংকের কর্মকর্তাদের গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখনোর অভিযোগে সিকদার গ্রুপের কর্মকর্তাদের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় সিকদার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামী করা হয়।

রাজধানীর গুলশান থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে গুলশান থানা। সিকদার গ্রুপ দেশের শীর্ষ স্থানীয় একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। এই
গ্রুপের মালিকদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক।

বিভিন্ন দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, নতুন একটি প্রকল্পের জন্য এক্সিম ব্যাংকের কাছে ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প ঋণের জন্য আবেদন করে সিকদার গ্রæপ। বড় বিনিয়োগ হওয়ায় প্রকল্পটি সরেজমিনে পরিদর্শনে যান এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া। সঙ্গে নেন ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ একাধিক কয়েক কর্মকর্তাকে।

গত ৭ মে রাজধানীর অদূরে পূর্বাচলের তিনশ’ফুট এলাকায় অবস্থিত প্রকল্প এলাকায় যান ব্যাংকাররা। এসময়ে সিকদার গ্রুপ গাড়ি বহর নিয়ে প্রকল্প এলাকাটি ঘুরিয়ে দেখায়। প্রকল্প দেখে ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, বিনিয়োগের বিপরীতে প্রয়োজনীয় জামানতের স্বল্পতা রয়েছে। জামানত আরো লাগবে। ব্যাংক কর্মকর্তাদেও বক্তব্যে সিকদার গ্রুপের কর্তা ব্যক্তিরা সন্দিহান হয়ে পড়েন ঋণ মঞ্জুর নিয়ে।

তখন সিকদার গ্রুপের পক্ষ থেকে ব্যাংক কর্মকর্তাদের প্রস্তাব দেয়া হয় অফিসে যাওয়ার জন্য। সেখানে বিদেশি পরামর্শক রয়েছেন। তারা প্রকল্পের এনিমেশন ভিডিও দেখাবেন। আরও বিস্তারিত তথ্য দিবেন। কিন্তু ব্যাংক কর্মকর্তারা রমজানের দোহাই দিয়ে যেতে রাজি হননি।

কিন্তু গ্রুপের পক্ষ থেকে বলা হয় যাওয়ার জন্য। এজন্য ঢাকার অভিমুখে রওয়ানা হয় গাড়ি বহর। ঢাকার কাছাকাছি এলে বহর থেকে ব্যাংক কর্মকর্তাদের বহনকারী গাড়িগুলো আলাদা হয়ে এক্সিম ব্যাংকের প্রধান অফিসের দিকে রওয়ানা হয়। এটি দেখে ক্ষিপ্ত হন গ্রুপের কর্মকর্তারা। পরে নিজেদের গাড়ি ঘুরিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের গাড়ি আটক করেন। এসময়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের গালিগলাজও করেন।

উপায়ন্তর না পেয়ে ব্যাংক কর্মকর্তারা সিকদার গ্রুপের কর্ণধার জয়নাল সিকদারের বনানীর বাসায় যান। সেখানেই সবাই ইফতার করেন। এই সময়ে ব্যাংকারদের চাপ দেয়া হয় ঋণ মঞ্জুরের জন্য। কিন্তু তারা জামানত কম হওয়ায় রাজি হতে চাননি। এতে তাদের ওপর আরও চড়াও হন সিকদার গ্রুপের কর্মকর্তারা। ব্যাংকারদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। দীর্ঘক্ষণ আটকিয়ে রাখা হয়।

পরিস্থিতি সামাল দিয়ে ব্যাংকাররা বনানী ত্যাগ করেন। ৭ মে’র ঘটনা হলেও ব্যাংকের পক্ষ থেকে গত ১৯ মে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় সিকদার গ্রুপের ব্যবস্থপনা পরিচালক রন হক সিকদার ও তার ভাই দিপু হক সিকদারকে আসামী করা হয়। মামলা অভিযোগ করা হয়, তাদের ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি নির্যাতন করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটির অনুসন্ধান কার্যক্রম করছেন গুলশান থানার পরিদর্শক(তদন্ত) আমিনুল ইসলাম।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
নিউজ ডেস্ক
ট্যাগস :

এক্সিম ব্যাংকের এমডিকে হুমকি নির্যাতন, সিকদার গ্রুপ কর্তাদের নামে মামলা

আপডেট সময় : ০৬:০৫:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২০

এনকে বার্তা ডেস্ক::

প্রকল্পে বিনিয়োগে রাজি না হওয়ায় এক্সিম ব্যাংকের কর্মকর্তাদের গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখনোর অভিযোগে সিকদার গ্রুপের কর্মকর্তাদের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় সিকদার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামী করা হয়।

রাজধানীর গুলশান থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে গুলশান থানা। সিকদার গ্রুপ দেশের শীর্ষ স্থানীয় একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। এই
গ্রুপের মালিকদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক।

বিভিন্ন দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, নতুন একটি প্রকল্পের জন্য এক্সিম ব্যাংকের কাছে ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প ঋণের জন্য আবেদন করে সিকদার গ্রæপ। বড় বিনিয়োগ হওয়ায় প্রকল্পটি সরেজমিনে পরিদর্শনে যান এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া। সঙ্গে নেন ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ একাধিক কয়েক কর্মকর্তাকে।

গত ৭ মে রাজধানীর অদূরে পূর্বাচলের তিনশ’ফুট এলাকায় অবস্থিত প্রকল্প এলাকায় যান ব্যাংকাররা। এসময়ে সিকদার গ্রুপ গাড়ি বহর নিয়ে প্রকল্প এলাকাটি ঘুরিয়ে দেখায়। প্রকল্প দেখে ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, বিনিয়োগের বিপরীতে প্রয়োজনীয় জামানতের স্বল্পতা রয়েছে। জামানত আরো লাগবে। ব্যাংক কর্মকর্তাদেও বক্তব্যে সিকদার গ্রুপের কর্তা ব্যক্তিরা সন্দিহান হয়ে পড়েন ঋণ মঞ্জুর নিয়ে।

তখন সিকদার গ্রুপের পক্ষ থেকে ব্যাংক কর্মকর্তাদের প্রস্তাব দেয়া হয় অফিসে যাওয়ার জন্য। সেখানে বিদেশি পরামর্শক রয়েছেন। তারা প্রকল্পের এনিমেশন ভিডিও দেখাবেন। আরও বিস্তারিত তথ্য দিবেন। কিন্তু ব্যাংক কর্মকর্তারা রমজানের দোহাই দিয়ে যেতে রাজি হননি।

কিন্তু গ্রুপের পক্ষ থেকে বলা হয় যাওয়ার জন্য। এজন্য ঢাকার অভিমুখে রওয়ানা হয় গাড়ি বহর। ঢাকার কাছাকাছি এলে বহর থেকে ব্যাংক কর্মকর্তাদের বহনকারী গাড়িগুলো আলাদা হয়ে এক্সিম ব্যাংকের প্রধান অফিসের দিকে রওয়ানা হয়। এটি দেখে ক্ষিপ্ত হন গ্রুপের কর্মকর্তারা। পরে নিজেদের গাড়ি ঘুরিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের গাড়ি আটক করেন। এসময়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের গালিগলাজও করেন।

উপায়ন্তর না পেয়ে ব্যাংক কর্মকর্তারা সিকদার গ্রুপের কর্ণধার জয়নাল সিকদারের বনানীর বাসায় যান। সেখানেই সবাই ইফতার করেন। এই সময়ে ব্যাংকারদের চাপ দেয়া হয় ঋণ মঞ্জুরের জন্য। কিন্তু তারা জামানত কম হওয়ায় রাজি হতে চাননি। এতে তাদের ওপর আরও চড়াও হন সিকদার গ্রুপের কর্মকর্তারা। ব্যাংকারদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। দীর্ঘক্ষণ আটকিয়ে রাখা হয়।

পরিস্থিতি সামাল দিয়ে ব্যাংকাররা বনানী ত্যাগ করেন। ৭ মে’র ঘটনা হলেও ব্যাংকের পক্ষ থেকে গত ১৯ মে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় সিকদার গ্রুপের ব্যবস্থপনা পরিচালক রন হক সিকদার ও তার ভাই দিপু হক সিকদারকে আসামী করা হয়। মামলা অভিযোগ করা হয়, তাদের ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি নির্যাতন করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটির অনুসন্ধান কার্যক্রম করছেন গুলশান থানার পরিদর্শক(তদন্ত) আমিনুল ইসলাম।