ঢাকা ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
গ্যারেজে চলছিল চোরাই অটোরিকশা বেচাকেনা, পৃথক অভিযানে গ্রেফতার – ৫ ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞায় কর্মহীন হাতিয়ার জেলেদের মানবেতর জীবন মোবাইল চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্কুল ছাত্রীর মৃত্যু হাতিয়ায় কোস্ট গার্ডের অভিযান, শুল্ক-কর ফাঁকি দেওয়া ১১শ লিটার ডিজেল উদ্ধার ৫৪ বছর পর ফিরলেন সাগরে হারিয়ে যাওয়া জেলে ৮৩ বছরের বৃদ্ধা নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল ৪২ বোতল বিদেশি মদসহ ১১ মামলার আসামি গ্রেফতার চিকিৎসার নামে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি, র‌্যাবের অভিযানে প্রধান শিক্ষক গ্রেফতার শিশুকে ঢাল বানিয়ে ইয়াবা পাচার, মাদক কারবারি দম্পতি গ্রেফতার টিসিবির পণ্য গুদামজাত, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

আশ্রয়ণের ঘর দেয়ার কথা বলে সেনবাগে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪০:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ নভেম্বর ২০২২ ১৫৯২০ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

 

নোয়াখালীর সেনবাগে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দেয়ার কথা বলে স্বামী পরিত্যক্তা এক নারীকে (৪২) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে সাবেক ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে।

 

অভিযুক্ত গোলাপ হোসেন (৪৫) উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের গোয়াল বাড়ির মৃত কালু মিয়ার ছেলে এবং একই ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য (মেম্বার) ছিলেন।

 

গত বুধবার (২ নভেম্বর) ভুক্তভোগী ওই নারী এ ঘটনার বিচার চেয়ে নোয়াখালী পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল ইসলাম বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে ভিকটিমের সাথে তার স্বামীর ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। নিঃসন্তান এ নারী উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের মালেক মঞ্জিলে টিউশনি করান এবং পার্শ্ববর্তী ওয়াব মিয়ার বিল্ডিংয়ের নিচ তলায় বাসা ভাড়া থাকেন। একই বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় তলায় বাসা ভাড়া থাকেন ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য (মেম্বার) গোলাপ হোসেন। কিছু দিন আগে ভিকটিম গোলাপ মেম্বারের ভাড়া বাসায় যায় এবং তার কাছে জানতে চান সরকারের থেকে কোনো ঘর বরাদ্ধ আছে কিনা। তখন সাবেক মেম্বার জানান পরিষদে ১২ টি ঘর বরাদ্ধ আছে। ভিকটিমকে একটি ঘর দিবে বলে তার কাছ থেকে ফোন নাম্বার নেন। ফোন নম্বর নেওয়ার পর থেকে ওই নারীকে ফোনে অনেক বিরক্ত করতে থাকে। একপর্যায়ে ফোন দিয়ে অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে বলে। একদিন ভিকটিমকে তার বাসায় ডেকে নিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন অংশের ছবি নেয় এবং জোরপূর্বক একাধিক বার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে।

 

অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, বিষয়টি ভিকটিম তার পরিবারকে জানাতে চাইলে মেম্বার তাকে মারধর করে হাতের ফোনটি নিয়ে যায়। আইনের সরাপন্ন হলে ভিকটিম ও তার পরিবারকে প্রাণে হত্যা করার হুমকি দেয়। একই বাসার আরেক মহিলার সাথে মেম্বারের অবৈধ সম্পর্ক আছে। তারা দুজন মিলে তাকে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করে। পরে নিরুপায় হয়ে নির্যাতিত নারী এসপি বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এসপি নারীকে পুনরায় সেনবাগ থানায় পাঠালেও পুলিশ অদৃশ্য কারণে মামলা নেয়নি।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী, পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলে অভিযুক্ত মেম্বার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠে। দীর্ঘ ৯দিনেও পুলিশ কোন মামলা না নেওয়ায় অসহায় হয়ে পড়ে নির্যাতিত নারী। অপরদিকে, সাবেক ইউপি সদস্য গোলাপ হোসেন বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য ওই নারীকে নানান ভাবে চাপ প্রয়োগ করে, অবরুদ্ধ করে রাখে লিখিত অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য।

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য গোলাপ হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অভিযোগকারী নারী ও আমি একই বিল্ডিংয়ে বসবাস করি। একই বিল্ডিংয়ের আরেক নারীর সাথে তার ঝগড়া হয়। পরে বিষয়টি আমি সমাধান করার চেষ্টা করেছি। একপর্যায়ে ওই নারীর সাথে আমার কথা কাটাকাটি হলে তাকে আমি একটি থাপ্পড় দেয়। এ থাপ্পড়ের জেরে তিনি রাগে ক্ষোভে এসব অভিযোগ করেন। আমি ওই নারীর পা ধরে ক্ষমা চেয়েছি। এখন আর আমাদের কোন সমস্যা নেই। আমরা এখন একই বিল্ডিংয়ে বসবাস করছি।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী বলেন, মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ বিষয়ে আইনগত বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
নিউজ ডেস্ক
ট্যাগস :

আশ্রয়ণের ঘর দেয়ার কথা বলে সেনবাগে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৫:৪০:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ নভেম্বর ২০২২

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

 

নোয়াখালীর সেনবাগে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দেয়ার কথা বলে স্বামী পরিত্যক্তা এক নারীকে (৪২) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে সাবেক ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে।

 

অভিযুক্ত গোলাপ হোসেন (৪৫) উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের গোয়াল বাড়ির মৃত কালু মিয়ার ছেলে এবং একই ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য (মেম্বার) ছিলেন।

 

গত বুধবার (২ নভেম্বর) ভুক্তভোগী ওই নারী এ ঘটনার বিচার চেয়ে নোয়াখালী পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল ইসলাম বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে ভিকটিমের সাথে তার স্বামীর ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। নিঃসন্তান এ নারী উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের মালেক মঞ্জিলে টিউশনি করান এবং পার্শ্ববর্তী ওয়াব মিয়ার বিল্ডিংয়ের নিচ তলায় বাসা ভাড়া থাকেন। একই বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় তলায় বাসা ভাড়া থাকেন ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য (মেম্বার) গোলাপ হোসেন। কিছু দিন আগে ভিকটিম গোলাপ মেম্বারের ভাড়া বাসায় যায় এবং তার কাছে জানতে চান সরকারের থেকে কোনো ঘর বরাদ্ধ আছে কিনা। তখন সাবেক মেম্বার জানান পরিষদে ১২ টি ঘর বরাদ্ধ আছে। ভিকটিমকে একটি ঘর দিবে বলে তার কাছ থেকে ফোন নাম্বার নেন। ফোন নম্বর নেওয়ার পর থেকে ওই নারীকে ফোনে অনেক বিরক্ত করতে থাকে। একপর্যায়ে ফোন দিয়ে অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে বলে। একদিন ভিকটিমকে তার বাসায় ডেকে নিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন অংশের ছবি নেয় এবং জোরপূর্বক একাধিক বার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে।

 

অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, বিষয়টি ভিকটিম তার পরিবারকে জানাতে চাইলে মেম্বার তাকে মারধর করে হাতের ফোনটি নিয়ে যায়। আইনের সরাপন্ন হলে ভিকটিম ও তার পরিবারকে প্রাণে হত্যা করার হুমকি দেয়। একই বাসার আরেক মহিলার সাথে মেম্বারের অবৈধ সম্পর্ক আছে। তারা দুজন মিলে তাকে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করে। পরে নিরুপায় হয়ে নির্যাতিত নারী এসপি বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এসপি নারীকে পুনরায় সেনবাগ থানায় পাঠালেও পুলিশ অদৃশ্য কারণে মামলা নেয়নি।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী, পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলে অভিযুক্ত মেম্বার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠে। দীর্ঘ ৯দিনেও পুলিশ কোন মামলা না নেওয়ায় অসহায় হয়ে পড়ে নির্যাতিত নারী। অপরদিকে, সাবেক ইউপি সদস্য গোলাপ হোসেন বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য ওই নারীকে নানান ভাবে চাপ প্রয়োগ করে, অবরুদ্ধ করে রাখে লিখিত অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য।

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য গোলাপ হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অভিযোগকারী নারী ও আমি একই বিল্ডিংয়ে বসবাস করি। একই বিল্ডিংয়ের আরেক নারীর সাথে তার ঝগড়া হয়। পরে বিষয়টি আমি সমাধান করার চেষ্টা করেছি। একপর্যায়ে ওই নারীর সাথে আমার কথা কাটাকাটি হলে তাকে আমি একটি থাপ্পড় দেয়। এ থাপ্পড়ের জেরে তিনি রাগে ক্ষোভে এসব অভিযোগ করেন। আমি ওই নারীর পা ধরে ক্ষমা চেয়েছি। এখন আর আমাদের কোন সমস্যা নেই। আমরা এখন একই বিল্ডিংয়ে বসবাস করছি।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী বলেন, মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ বিষয়ে আইনগত বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।