ঢাকা ০৯:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬

এক ঝড়েই উড়ে গেল ঘর, খোলা আকাশেই কাটছে দিন-রাত

নিজস্ব প্রতিবেদক, নোয়াখালী:
  • আপডেট সময় : ০৭:১০:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মেঘনা নদীর ভাঙনে ভিটেমাটি হারানোর পর বহু কষ্টে গড়ে তোলা শেষ আশ্রয়টুকুও কালবৈশাখীর ঝড়ে হারালেন সুবর্ণচরের কৃষক জসিম উদ্দিন| বর্তমানে স্ত্রী ও দুই মেয়ে সন্তানকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি|

 

জানা গেছে, নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন একসময় নদীভাঙনে সব হারিয়ে অন্যের জমিতে আশ্রয় নেন| পরে বেড়িবাঁধ নির্মাণের কারণে সেখান থেকেও সরে যেতে বাধ্য হন| সবশেষে বেড়িবাঁধের পাশে খাস জমিতে টিন ও বাঁশ দিয়ে একটি ছোট ঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন|

 

গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে মুহূর্তেই গুঁড়িয়ে যায় তার সেই ঘর| ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ঘরের স্থানে পড়ে আছে ভাঙা টিন, ছিন্ন বাঁশ ও ধ্বংসস্তূপ|

 

ঘটনার চার দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তা পাননি জসিম| বর্তমানে পরিবারটি খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে| নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা|

 

জসিম উদ্দিনের স্ত্রী অজিবা খাতুন বলেন, আমাদের থাকার মতো আর কোনো জায়গা নেই| যেটুকু ছিল, সেটাও শেষ হয়ে গেছে| রাতে ঘুমাতে পারিনা, বসে বসেই রাত কাটাতে হয়|

 

জসিম উদ্দিন বলেন, নদী আমাদের ভিটেমাটি নিয়েছে, বাঁধের সময় আশ্রয় হারিয়েছি| শেষমেশ এই ছোট ঘরটাই ভরসা ছিল| কালবৈশাখী ঝড় সেটাও কেড়ে নিল| এখন পরিবার নিয়ে কোথায় যাব বুঝতে পারছি না|

 

স্থানীয়রা জানান, উপকূলীয় এলাকায় এ ধরনের অনেক পরিবারই প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছে| তবে ধারাবাহিক দুর্যোগে তাদের জীবন এখন চরম অনিশ্চয়তায়| ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য দ্রুত একটি নিরাপদ স্থায়ী আশ্রয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল|

 

সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমান বলেন, “বিষয়টি শুনেছি| খোঁজ নিয়ে তাদের সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে|

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
নিউজ ডেস্ক

এক ঝড়েই উড়ে গেল ঘর, খোলা আকাশেই কাটছে দিন-রাত

আপডেট সময় : ০৭:১০:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

মেঘনা নদীর ভাঙনে ভিটেমাটি হারানোর পর বহু কষ্টে গড়ে তোলা শেষ আশ্রয়টুকুও কালবৈশাখীর ঝড়ে হারালেন সুবর্ণচরের কৃষক জসিম উদ্দিন| বর্তমানে স্ত্রী ও দুই মেয়ে সন্তানকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি|

 

জানা গেছে, নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন একসময় নদীভাঙনে সব হারিয়ে অন্যের জমিতে আশ্রয় নেন| পরে বেড়িবাঁধ নির্মাণের কারণে সেখান থেকেও সরে যেতে বাধ্য হন| সবশেষে বেড়িবাঁধের পাশে খাস জমিতে টিন ও বাঁশ দিয়ে একটি ছোট ঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন|

 

গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে মুহূর্তেই গুঁড়িয়ে যায় তার সেই ঘর| ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ঘরের স্থানে পড়ে আছে ভাঙা টিন, ছিন্ন বাঁশ ও ধ্বংসস্তূপ|

 

ঘটনার চার দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তা পাননি জসিম| বর্তমানে পরিবারটি খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে| নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা|

 

জসিম উদ্দিনের স্ত্রী অজিবা খাতুন বলেন, আমাদের থাকার মতো আর কোনো জায়গা নেই| যেটুকু ছিল, সেটাও শেষ হয়ে গেছে| রাতে ঘুমাতে পারিনা, বসে বসেই রাত কাটাতে হয়|

 

জসিম উদ্দিন বলেন, নদী আমাদের ভিটেমাটি নিয়েছে, বাঁধের সময় আশ্রয় হারিয়েছি| শেষমেশ এই ছোট ঘরটাই ভরসা ছিল| কালবৈশাখী ঝড় সেটাও কেড়ে নিল| এখন পরিবার নিয়ে কোথায় যাব বুঝতে পারছি না|

 

স্থানীয়রা জানান, উপকূলীয় এলাকায় এ ধরনের অনেক পরিবারই প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছে| তবে ধারাবাহিক দুর্যোগে তাদের জীবন এখন চরম অনিশ্চয়তায়| ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য দ্রুত একটি নিরাপদ স্থায়ী আশ্রয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল|

 

সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমান বলেন, “বিষয়টি শুনেছি| খোঁজ নিয়ে তাদের সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে|