ঢাকা ০২:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
মাদক ব্যবসায়ীর রাজকীয় আস্তানা: কুঁড়েঘরে এসি-সিসি ক্যামেরা হাতিয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার নোয়াখালীতে দুর্বৃত্তের আগুনে জ্বলল জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ মাদকের বিবাদে স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা, নোয়াখালীতে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ পাঁচ জেলার পুলিশ সুপার পদে রদবদল, একই আদেশে আরও আট কর্মকর্তাকে পদায়ন বখাটের এআই ভিডিওর অপপ্রচারে প্রাণ গেল স্কুলছাত্রীর, আসামির ফাঁসির দাবি মাদকের বিরোধে স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা, আটক ১ ৯ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবাসহ ১১ মামলার আসামি বুলেট ফারুক গ্রেফতার মাদক, কিশোর গ্যাং ও রাষ্ট্রবিরোধী অপতৎপরতার প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ আ.লীগ-ছাত্রদল সংঘর্ষ: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৮৪ নেতাকর্মী গ্রেফতার

হাতিয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

হাতিয়া প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১২:১৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক পরিদর্শকের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা খোরশেদ আলম জাহাজমারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

শনিবার (১৩ জুন) রাতে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) টি.এম. মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়। ভুক্তভোগী কিশোরীর অভিযোগ, প্রায় ছয় মাস আগে জাহাজমারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের মেসে তাকে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার পরপরই তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি জানান।

কিশোরীর ভাষ্যমতে, তার মা ও ভাই জাহাজমারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের মেসে রান্নার কাজ করতেন। সে কারণে তিনি মাঝে মধ্যে সেখানে যেতেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তা বিভিন্ন সময় তাকে বাসার তিনতলায় ডেকে ঘর পরিষ্কার, কাপড় ধোয়া ও বিছানা গুছানোর কাজের কথা বলতেন। একপর্যায়ে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন কিশোরী। বাধা দিলে তাকে এবং তার মাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হতো। পাশাপাশি মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা দিয়ে বিদায় করে দিত।

চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি ভুক্তভোগী তার মাকে বিষয়টি জানান। পরে কিশোরীর মা হাতিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার বিস্তারিত লিখিত বক্তব্যও নেওয়া হয়। তবে অভিযুক্তের পক্ষ নিয়ে স্থানীয় দুই ব্যক্তি তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীর পরিবার। এরপর থেকে তারা প্রায় চার মাস ধরে আতঙ্কে আত্মগোপনে রয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, এক এসআইকে বদলি করায় সে কাজের মেয়েকে দিয়ে ভুয়া একটি ভিডিও বানায়। সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, “আমার বয়স প্রায় ৬০ বছর। এ ধরনের কাজ আমি করিনি।”

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হয়। বিষয়টি নজরে আসার পরই তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার টি.এম. মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে তিনি জেলার আরেক গণমাধ্যম কর্মীকে জানান, এর আগেও এ ধরনের একটি অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। তখন সার্কেলের এএসপিকে দিয়ে তদন্ত করা হলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পুনরায় যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
নিউজ ডেস্ক

হাতিয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

আপডেট সময় : ১২:১৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক পরিদর্শকের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা খোরশেদ আলম জাহাজমারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

শনিবার (১৩ জুন) রাতে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) টি.এম. মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়। ভুক্তভোগী কিশোরীর অভিযোগ, প্রায় ছয় মাস আগে জাহাজমারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের মেসে তাকে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার পরপরই তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি জানান।

কিশোরীর ভাষ্যমতে, তার মা ও ভাই জাহাজমারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের মেসে রান্নার কাজ করতেন। সে কারণে তিনি মাঝে মধ্যে সেখানে যেতেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তা বিভিন্ন সময় তাকে বাসার তিনতলায় ডেকে ঘর পরিষ্কার, কাপড় ধোয়া ও বিছানা গুছানোর কাজের কথা বলতেন। একপর্যায়ে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন কিশোরী। বাধা দিলে তাকে এবং তার মাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হতো। পাশাপাশি মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা দিয়ে বিদায় করে দিত।

চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি ভুক্তভোগী তার মাকে বিষয়টি জানান। পরে কিশোরীর মা হাতিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার বিস্তারিত লিখিত বক্তব্যও নেওয়া হয়। তবে অভিযুক্তের পক্ষ নিয়ে স্থানীয় দুই ব্যক্তি তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীর পরিবার। এরপর থেকে তারা প্রায় চার মাস ধরে আতঙ্কে আত্মগোপনে রয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, এক এসআইকে বদলি করায় সে কাজের মেয়েকে দিয়ে ভুয়া একটি ভিডিও বানায়। সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, “আমার বয়স প্রায় ৬০ বছর। এ ধরনের কাজ আমি করিনি।”

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হয়। বিষয়টি নজরে আসার পরই তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার টি.এম. মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে তিনি জেলার আরেক গণমাধ্যম কর্মীকে জানান, এর আগেও এ ধরনের একটি অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। তখন সার্কেলের এএসপিকে দিয়ে তদন্ত করা হলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পুনরায় যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।