ঢাকা ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
মাদক, কিশোর গ্যাং ও রাষ্ট্রবিরোধী অপতৎপরতার প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ আ.লীগ-ছাত্রদল সংঘর্ষ: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৮৪ নেতাকর্মী গ্রেফতার জনতার ধাওয়ায় বিদেশি পিস্তল ফেলে পালাল অস্ত্রধারী নষ্ট মিটারের শর্ট সার্কিটে পুড়ল কৃষকের বসতঘরসহ ৪ গরু, পল্লী বিদ্যুতের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ মাদকবিরোধী সমাবেশের জেরে ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ প্রকাশ্যে যুবককে গুলির, সিসিটিভি ভিডিও ভাইরাল পুলিশের চেকেপোস্টে তিনটি বিদেশী পিস্তল-গুলিসহ কিশোর আটক চিরকুটে যুবকের নাম লিখে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা নোয়াখালীতে ছাত্রদলের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ-প্রতিবাদ আ.লীগ-ছাত্রদল সংঘর্ষ: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের আরও ১৮ নেতাকর্মী গ্রেফতার

নোয়াখালীতে মানবপাচারকারীর ভয়ে বাড়ী ছাড়া যুবক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৬:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২০ ১৫১৮ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় ইতালি গমনেচ্ছুক এক যুবক মানব পাচারকারী চক্রের খপ্পড়ে পড়েছে। নির্যাতনের শিকার হয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে বেড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতারনা ও নির্যাতনের শিকার ওই যুবকের নাম মো: ইসমাইল হোসেন (২৫)। উপজেলার চিরিঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা সে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী যুবক নোয়াখালী পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কবিরহাট থানা পুলিশ অীভযোগটি তদন্ত করছে। 
ইসমাইল হোসেন বলেন, ২০১৫ সালের ১ অক্টোবর ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের নলুয়া গ্রামের মৃত মজিবুল হকের ছেলে মফিজ উদ্দিন (৫৫) ও মফিজের জামাই বাবলু মিয়ার (৩০) মাধ্যমে ৮লাখ টাকার বিনিময়ে ইতালি যাওয়ার চুক্তি করি। টাকা দেওয়ার পর তারা আমাকে ঢাকা নিয়ে যায়। সেখানে তারা আমাকে মানব পাচারকারী চক্রের অন্যতম প্রধান কামাল প্রকাশ হাজী কামালসহ আরো কয়েকজনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। তাদের কাজ কর্মে আমি বুজতে পারি এরা বড় ধরনের মানব পাচারকারী চক্র। এরপর তিনি নোয়াখালী ফিরে এসে ইতালি না যাওয়ার কথা মফিজকে জানায়।
তিনি বলেন, এরপর থেকে মফিজ ও তার ভাগিনা হাতিয়ার আকবর হোসেন (দালাল) আমার সাথে ঝামেলা শুরু করে। একপর্যায়ে মানব পাচারকারী মফিজ আমাকে পূবালী ব্যাংক দত্তেরহাট শাখার ৮লাখ টাকার একটি চেক দিলেও সেই একাউন্টে কোন টাকা ছিল না। এ ঘটনায় আমি চেক প্রত্যাখ্যান ও প্রতারনার অভিযোগ এনে নোয়াখালী জেলা জজ আদালতের বিজ্ঞ সিনিয়র বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ১নং আমলী আদালত নোয়াখালীতে একটি মামলা দায়ের করি। ওই মামলায় হাজিরা দিতে গেলে গত ২০মে দুপুরে নোয়াখালী আদালত এলাকা থেকে মফিজ উদ্দিন ও তার জামাতা বাবলু এবং বাবুল মিয়া মোটরসাইকেল যোগে আমাকে অপহরন করে কবিরহাটের ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের নবগ্রামে নিয়ে ২৪ঘন্টা একটি ঘরে আটক করে মারধর করে আমাকে দেওয়া ডিজঅনার হওয়া ৮লাখ টাকার চেক ও ১৫ টি সাদা স্ট্যাম্পে (লেখা বিহীন স্ট্যাম্প) স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেয়। ঘটনায় গত ৮জুন জেলা পুলিশ সুপার বরাবর মফিজ উদ্দিন গংদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ইসমাইল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, বিদেশ যাওয়ার জন্য টাকা দিয়ে মানব পাচারকারী চক্রের খপ্পড়ে পড়ে এখন নিজের এখন নিজের জীবন বাঁচাতে নিজ বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। তিনি ও তার পরিবারের লোকজন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন ইসমাইল।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য অভিযুক্ত মফিজ উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলতে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে ০১৮৭৯৭৫০৫৯৪ নাম্বারে কল করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
কবিরহাট থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ফজলুল কাদের বলেন, মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগটি পুলিশ গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। তবে ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে মাফিজ উদ্দিনের পূর্ব শত্রæতা রয়েছে। অভিযুক্ত মো: মোফিজ উদ্দিন মোবাইল ফোন বন্ধ করে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। অভিযোগকারীও এলাকায় নেই।
নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, অভিযুক্ত মো: মফিজ উদ্দিন কোন মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যকিনা তা খতিয়ে দেখতে নোয়াখালী সিআইডি কার্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার জন্য কবিরহাট থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
নিউজ ডেস্ক
ট্যাগস :

নোয়াখালীতে মানবপাচারকারীর ভয়ে বাড়ী ছাড়া যুবক

আপডেট সময় : ০৮:২৬:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২০
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় ইতালি গমনেচ্ছুক এক যুবক মানব পাচারকারী চক্রের খপ্পড়ে পড়েছে। নির্যাতনের শিকার হয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে বেড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতারনা ও নির্যাতনের শিকার ওই যুবকের নাম মো: ইসমাইল হোসেন (২৫)। উপজেলার চিরিঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা সে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী যুবক নোয়াখালী পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কবিরহাট থানা পুলিশ অীভযোগটি তদন্ত করছে। 
ইসমাইল হোসেন বলেন, ২০১৫ সালের ১ অক্টোবর ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের নলুয়া গ্রামের মৃত মজিবুল হকের ছেলে মফিজ উদ্দিন (৫৫) ও মফিজের জামাই বাবলু মিয়ার (৩০) মাধ্যমে ৮লাখ টাকার বিনিময়ে ইতালি যাওয়ার চুক্তি করি। টাকা দেওয়ার পর তারা আমাকে ঢাকা নিয়ে যায়। সেখানে তারা আমাকে মানব পাচারকারী চক্রের অন্যতম প্রধান কামাল প্রকাশ হাজী কামালসহ আরো কয়েকজনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। তাদের কাজ কর্মে আমি বুজতে পারি এরা বড় ধরনের মানব পাচারকারী চক্র। এরপর তিনি নোয়াখালী ফিরে এসে ইতালি না যাওয়ার কথা মফিজকে জানায়।
তিনি বলেন, এরপর থেকে মফিজ ও তার ভাগিনা হাতিয়ার আকবর হোসেন (দালাল) আমার সাথে ঝামেলা শুরু করে। একপর্যায়ে মানব পাচারকারী মফিজ আমাকে পূবালী ব্যাংক দত্তেরহাট শাখার ৮লাখ টাকার একটি চেক দিলেও সেই একাউন্টে কোন টাকা ছিল না। এ ঘটনায় আমি চেক প্রত্যাখ্যান ও প্রতারনার অভিযোগ এনে নোয়াখালী জেলা জজ আদালতের বিজ্ঞ সিনিয়র বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ১নং আমলী আদালত নোয়াখালীতে একটি মামলা দায়ের করি। ওই মামলায় হাজিরা দিতে গেলে গত ২০মে দুপুরে নোয়াখালী আদালত এলাকা থেকে মফিজ উদ্দিন ও তার জামাতা বাবলু এবং বাবুল মিয়া মোটরসাইকেল যোগে আমাকে অপহরন করে কবিরহাটের ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের নবগ্রামে নিয়ে ২৪ঘন্টা একটি ঘরে আটক করে মারধর করে আমাকে দেওয়া ডিজঅনার হওয়া ৮লাখ টাকার চেক ও ১৫ টি সাদা স্ট্যাম্পে (লেখা বিহীন স্ট্যাম্প) স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেয়। ঘটনায় গত ৮জুন জেলা পুলিশ সুপার বরাবর মফিজ উদ্দিন গংদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ইসমাইল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, বিদেশ যাওয়ার জন্য টাকা দিয়ে মানব পাচারকারী চক্রের খপ্পড়ে পড়ে এখন নিজের এখন নিজের জীবন বাঁচাতে নিজ বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। তিনি ও তার পরিবারের লোকজন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন ইসমাইল।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য অভিযুক্ত মফিজ উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলতে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে ০১৮৭৯৭৫০৫৯৪ নাম্বারে কল করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
কবিরহাট থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ফজলুল কাদের বলেন, মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগটি পুলিশ গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। তবে ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে মাফিজ উদ্দিনের পূর্ব শত্রæতা রয়েছে। অভিযুক্ত মো: মোফিজ উদ্দিন মোবাইল ফোন বন্ধ করে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। অভিযোগকারীও এলাকায় নেই।
নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, অভিযুক্ত মো: মফিজ উদ্দিন কোন মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যকিনা তা খতিয়ে দেখতে নোয়াখালী সিআইডি কার্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার জন্য কবিরহাট থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।