ঢাকা ১০:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
মাদক, কিশোর গ্যাং ও রাষ্ট্রবিরোধী অপতৎপরতার প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ আ.লীগ-ছাত্রদল সংঘর্ষ: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৮৪ নেতাকর্মী গ্রেফতার জনতার ধাওয়ায় বিদেশি পিস্তল ফেলে পালাল অস্ত্রধারী নষ্ট মিটারের শর্ট সার্কিটে পুড়ল কৃষকের বসতঘরসহ ৪ গরু, পল্লী বিদ্যুতের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ মাদকবিরোধী সমাবেশের জেরে ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ প্রকাশ্যে যুবককে গুলির, সিসিটিভি ভিডিও ভাইরাল পুলিশের চেকেপোস্টে তিনটি বিদেশী পিস্তল-গুলিসহ কিশোর আটক চিরকুটে যুবকের নাম লিখে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা নোয়াখালীতে ছাত্রদলের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ-প্রতিবাদ আ.লীগ-ছাত্রদল সংঘর্ষ: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের আরও ১৮ নেতাকর্মী গ্রেফতার

অর্থনীতি সমিতির দাবি ৬৬ দিনে কাজ হারিয়েছে ৪ কোটি, গরিব হয়েছে ৬ কোটি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১৯:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২০ ৭৭৯ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রতিবেদক:

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় লকডাউনের ৬৬ দিনে বাংলাদেশের প্রায় ৬ কোটি মানুষ নতুন করে গরিব হয়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি। সোমবার (৮ জুন) ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জন্য বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপনকালে সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত এই দাবি করেন।

২৬ মার্চ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির সময়টাতে লকডাউন হিসেবে বিবেচনায় নিয়েছে অর্থনীতি সমিতি। তাদের দাবি, বাংলাদেশ এখন ‘উচ্চ আয় বৈষম্য’ এবং ‘বিপজ্জনক আয় বৈষ্যমের’ দেশে পরিণত হয়েছে।

আবুল বারকাত বলেন, ‘কোভিড-১৯ এর কারণে দরিদ্র মানুষের বেহাল অবস্থা। লকডাউনের ৬৬ দিনে নব দরিদ্র ও অতি দরিদ্র সৃষ্টি হয়েছে ৫ কোটি ৯৫ লাখ বা প্রায় ছয় কোটি। শ্রেণি কাঠামোর ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। তবে অতি ধনী শ্রেণির ওপর এর কোনও প্রভাব পড়েনি।’

তিনি দাবি করেন, লকডাউনে অতি ধনী শ্রেণির ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষের আর্থিক অবস্থায় কোনও পরিবর্তন হয়নি, বরং কোনও ধনী আরও ধনী হয়েছে। তবে আগের ৩ কোটি ৪০ লাখ উচ্চ মধ্যবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত হয়েছে ১ কোটি ১৯ লাখ, ৩ কোটি ৪০ লাখ মধ্যম পর্যায়ের মধ্যবিত্ত থেকে ১ কোটি ২ লাখ হয়েছে নিম্ন মধ্যবিত্ত, ৫ কোটি ১০ লাখ নিম্ন মধ্যবিত্ত থেকে ১ কোটি ১৯ লাখ দরিদ্র এবং ৩ কোটি ৪০ লাখ দরিদ্র থেকে ২ কোটি ৫৫ লাখ অতি দরিদ্র হয়েছে। ৬৬ দিনে সব মিলিয়ে ৫ কোটি ৯৫ লাখ নতুন করে দরিদ্র ও অতি দরিদ্র হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।


অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত উল্লেখ করেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ব এখন মহা বিপর্যয়কাল অতিক্রম করছে। ২১৩টি রাষ্ট্র ও ৮০০ কোটি মানুষ আজ মহাসংকটে। এ ভাইরাসের কারণে অর্থনীতির হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ ৭ জুন পর্যন্ত ৮ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। আইএলও’র হিসাবে বিশ্বের ৫০ ভাগ মানুষ জীবিকা হারাবেন। বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষও একই পথের পথিক। তাই আসন্ন বাজেট হবে কোভিড থেকে মুক্তির বছর।’

শুরুতে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ড. জামালউদ্দিন আহমেদ স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এবারের ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। এতে করোনার (কোভিড-১৯) মহাবিপর্যয় থেকে মুক্তি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ বিনির্মাণের বিষয়টি প্রাধান্য পায়।

অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত বলেন, সরকার ঘোষিত ৬৬ দিনের লকডাউনে ৩ কোটি ৬০ লাখ ( প্রায় পৌনে ৪ কোটি) মানুষ কাজ হারিয়েছেন। এছাড়া নতুন করে ২ কোটি ৫৫ লাখ মানুষ হতদরিদ্র হয়ে গেছেন। করোনাভাইরাসের আগে আমাদের কর্মে নিয়োজিত ছিল ৬ কোটি ১০ লাখ মানুষ। এর মধ্যে ৩ কোটি ৬০ লাখ মানুষ কাজ হারিয়েছেন।
তিনি বলেন, গিনি সহগ (অর্থনীতিশাস্ত্রে আয়ের বৈষম্য পরিমাপের বহুল ব্যবহৃত পরিমাপক) যদি দশমিক ৫-এর বেশি হয় সেটা মারাত্মক। আর একটা সহগ আছে পালমা। পালমা সহগ দেখা হয়-সর্বোচ্চ আয় যে ১০ শতাংশ আছে এবং সর্বনিম্ন আয় যে ৪০ শতাংশের আছে, এই দুইয়ের মধ্যে যে পার্থক্য। এই পার্থক্য যদি ৩ গুণ হয় তাহলে বিপজ্জনক।

তিনি বলেন, ‘লকডাউনের আগে আমাদের গিনি সহগ ছিল দশমিক ৪৮। এটি মে মাসের শেষে দশমিক ৬৩৫ হয়েছে। বিপদ মাপার রেশিও পালমা আমাদের ছিল ২ দশমিক ৯২, এখন ৭ দশমিক ৫৩। অতএব মহাবিপজ্জনক। বাংলাদেশ এখন উচ্চ আয় বৈষ্যমের দেশ এবং বিপজ্জনক আয় বৈষ্যমের দেশে পরিণত হয়েছে।’

তিনি আগামী ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জন্য ১২ লাখ ৯৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বিকল্প বাজেট প্রস্তাব দেন। বিশাল আকারের এ বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে এক লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
নিউজ ডেস্ক
ট্যাগস :

অর্থনীতি সমিতির দাবি ৬৬ দিনে কাজ হারিয়েছে ৪ কোটি, গরিব হয়েছে ৬ কোটি

আপডেট সময় : ০৮:১৯:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২০

প্রতিবেদক:

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় লকডাউনের ৬৬ দিনে বাংলাদেশের প্রায় ৬ কোটি মানুষ নতুন করে গরিব হয়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি। সোমবার (৮ জুন) ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জন্য বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপনকালে সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত এই দাবি করেন।

২৬ মার্চ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির সময়টাতে লকডাউন হিসেবে বিবেচনায় নিয়েছে অর্থনীতি সমিতি। তাদের দাবি, বাংলাদেশ এখন ‘উচ্চ আয় বৈষম্য’ এবং ‘বিপজ্জনক আয় বৈষ্যমের’ দেশে পরিণত হয়েছে।

আবুল বারকাত বলেন, ‘কোভিড-১৯ এর কারণে দরিদ্র মানুষের বেহাল অবস্থা। লকডাউনের ৬৬ দিনে নব দরিদ্র ও অতি দরিদ্র সৃষ্টি হয়েছে ৫ কোটি ৯৫ লাখ বা প্রায় ছয় কোটি। শ্রেণি কাঠামোর ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। তবে অতি ধনী শ্রেণির ওপর এর কোনও প্রভাব পড়েনি।’

তিনি দাবি করেন, লকডাউনে অতি ধনী শ্রেণির ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষের আর্থিক অবস্থায় কোনও পরিবর্তন হয়নি, বরং কোনও ধনী আরও ধনী হয়েছে। তবে আগের ৩ কোটি ৪০ লাখ উচ্চ মধ্যবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত হয়েছে ১ কোটি ১৯ লাখ, ৩ কোটি ৪০ লাখ মধ্যম পর্যায়ের মধ্যবিত্ত থেকে ১ কোটি ২ লাখ হয়েছে নিম্ন মধ্যবিত্ত, ৫ কোটি ১০ লাখ নিম্ন মধ্যবিত্ত থেকে ১ কোটি ১৯ লাখ দরিদ্র এবং ৩ কোটি ৪০ লাখ দরিদ্র থেকে ২ কোটি ৫৫ লাখ অতি দরিদ্র হয়েছে। ৬৬ দিনে সব মিলিয়ে ৫ কোটি ৯৫ লাখ নতুন করে দরিদ্র ও অতি দরিদ্র হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।


অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত উল্লেখ করেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ব এখন মহা বিপর্যয়কাল অতিক্রম করছে। ২১৩টি রাষ্ট্র ও ৮০০ কোটি মানুষ আজ মহাসংকটে। এ ভাইরাসের কারণে অর্থনীতির হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ ৭ জুন পর্যন্ত ৮ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। আইএলও’র হিসাবে বিশ্বের ৫০ ভাগ মানুষ জীবিকা হারাবেন। বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষও একই পথের পথিক। তাই আসন্ন বাজেট হবে কোভিড থেকে মুক্তির বছর।’

শুরুতে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ড. জামালউদ্দিন আহমেদ স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এবারের ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। এতে করোনার (কোভিড-১৯) মহাবিপর্যয় থেকে মুক্তি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ বিনির্মাণের বিষয়টি প্রাধান্য পায়।

অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত বলেন, সরকার ঘোষিত ৬৬ দিনের লকডাউনে ৩ কোটি ৬০ লাখ ( প্রায় পৌনে ৪ কোটি) মানুষ কাজ হারিয়েছেন। এছাড়া নতুন করে ২ কোটি ৫৫ লাখ মানুষ হতদরিদ্র হয়ে গেছেন। করোনাভাইরাসের আগে আমাদের কর্মে নিয়োজিত ছিল ৬ কোটি ১০ লাখ মানুষ। এর মধ্যে ৩ কোটি ৬০ লাখ মানুষ কাজ হারিয়েছেন।
তিনি বলেন, গিনি সহগ (অর্থনীতিশাস্ত্রে আয়ের বৈষম্য পরিমাপের বহুল ব্যবহৃত পরিমাপক) যদি দশমিক ৫-এর বেশি হয় সেটা মারাত্মক। আর একটা সহগ আছে পালমা। পালমা সহগ দেখা হয়-সর্বোচ্চ আয় যে ১০ শতাংশ আছে এবং সর্বনিম্ন আয় যে ৪০ শতাংশের আছে, এই দুইয়ের মধ্যে যে পার্থক্য। এই পার্থক্য যদি ৩ গুণ হয় তাহলে বিপজ্জনক।

তিনি বলেন, ‘লকডাউনের আগে আমাদের গিনি সহগ ছিল দশমিক ৪৮। এটি মে মাসের শেষে দশমিক ৬৩৫ হয়েছে। বিপদ মাপার রেশিও পালমা আমাদের ছিল ২ দশমিক ৯২, এখন ৭ দশমিক ৫৩। অতএব মহাবিপজ্জনক। বাংলাদেশ এখন উচ্চ আয় বৈষ্যমের দেশ এবং বিপজ্জনক আয় বৈষ্যমের দেশে পরিণত হয়েছে।’

তিনি আগামী ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জন্য ১২ লাখ ৯৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বিকল্প বাজেট প্রস্তাব দেন। বিশাল আকারের এ বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে এক লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা।