নারীকে মারধর, বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১১:২৬:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে এক নারী মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। অভিযোগ করা হয়েছে, থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও প্রভাব খাটিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
ভুক্তভোগী সুরাইয়া আক্তার উপজেলার বজরা ইউনিয়নের বারাহীনগর এলাকার নূর হোসেন ভূঁইয়া বাড়ির সালাহ উদ্দিনের স্ত্রী। গত ২১ মে তিনি সোনাইমুড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তরা হলেন- উপজেলার বারাগাঁও ইউনিয়নের ভাবিয়াড়পাড়া লণ্ডনী বাড়ির আমির হোসেন মিয়ার ছেলে আব্দুল আহাদ (২৮) ও নূরুন নবী (৩৫), তারা ভুক্তভোগীর আপন ভাতিজা।
অভিযোগে জানা যায়, ব্যবসায়িক প্রয়োজনে আব্দুল আহাদ সুরাইয়া আক্তারের কাছ থেকে টাকা ধার চান। সম্পর্কের সুবাদে সুরাইয়া আক্তার ব্র্যাক ব্যাংক থেকে নিজের নামে ২ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তা তাকে দেন। চুক্তি অনুযায়ী মাসিক কিস্তি পরিশোধের কথা থাকলেও কয়েক মাস পর আহাদ কিস্তি দেওয়া বন্ধ করে দেন। ব্যাংকের চাপে পড়ে সুরাইয়া আক্তার নিজের সঞ্চয় থেকে দুই মাসে ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন।
গত মে মাসে পাওনা টাকা চাইতে গেলে সুরাইয়া আক্তারকে অভিযুক্তরা গালিগালাজ করেন এবং এলোপাতাড়ি মারধর করে আহত করেন বলে অভিযোগ। এ সময় তার মেয়ে ফারজানা আক্তার মাকে রক্ষা করতে গেলে তার সঙ্গেও অশোভন আচরণ ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে।
সুরাইয়া আক্তার বলেন, আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে আমি তাদের সহায়তা করেছি। এমনকি পৈতৃক সম্পত্তিও তাদের নামে লিখে দিয়েছি। কিন্তু টাকা চাইতে গেলে আমাকে মারধর করা হয়।
ভুক্তভোগীর মেয়ে ফারজানা আক্তার অভিযোগ করেন, তাদের মামাতো ভাই সাইফুল ইসলাম রাহাত নিজেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটাচ্ছেন। অভিযোগের এক মাস পার হলেও তদন্ত কর্মকর্তা কোনো ব্যবস্থা নেননি। তিনি বলেন, থানায় অভিযোগ করায় রাহাত আমাকে মেসেঞ্জারে হুমকি দিয়েছেন। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
তবে হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ছাত্রনেতা সাইফুল ইসলাম রাহাত। তার দাবি, কাউকে কোনো ধরনের হুমকি দেওয়া হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে আমির হোসেন বলেন, টাকা নেওয়ার বিষয়টি সত্য হলেও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ছোট বোন হিসেবে সামান্য শাসন করেছি।
এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী থানার তদন্ত কর্মকর্তা এএসআই রেজাউলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।









