ভাঙ্গা ২ নং সদরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, দ্রুত তদন্ত ও বদলির দাবি
- আপডেট সময় : ০৮:০৪:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ‘ভাঙ্গা ২ নং সদরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’-এর প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১১ বছর একই কর্মস্থলে অবস্থান করে চরম স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে অবিলম্বে বদলির দাবি জানিয়েছেন স্থাকনীয় বাসিন্দা, আজীবন দাতা সদস্য ও অভিভাবকরা।
সম্প্রতি এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় গ্রামবাসী ও অভিভাবকদের পক্ষে অভিযোগপত্রটি জমা দেন মোঃ মনিরুল হক মোল্লা।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান প্রধান শিক্ষিকা দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর ধরে এই একই বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন। একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন থাকার সুযোগে তিনি চরম স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠেছেন এবং কাউকে তোয়াক্কা না করে মনগড়াভাবে বিদ্যালয় পরিচালনা করছেন।
তার বিরুদ্ধে মূল অভিযোগসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. উপস্থিতি ও পাঠদানে অনিয়ম: সরকারি নিয়ম-কানুন তোয়াক্কা না করে তিনি নিজের ইচ্ছামত সময়ে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করেন। নিয়মিত ও সঠিকভাবে ক্লাসে পাঠদান না করায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
২. স্বেচ্ছাচারিতা ও স্থানীয় রাজনীতিতে লিপ্ত: প্রধান শিক্ষিকা স্থানীয় গ্রাম্য দলাদলি ও নোংরা রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগে বলা হয়। তিনি মনগড়া কিছু ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি ও যাবতীয় দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড গোপনীয়ভাবে পরিচালনা করছেন।
৩. দাতা সদস্যকে অবমূল্যায়ন ও আইনি অবহেলা: বর্তমানে বিদ্যালয়ের জায়গা-জমি সংক্রান্ত একটি মামলা চলমান থাকলেও, বিদ্যালয়ের মান্যবর দাতা সদস্যকে এ বিষয়ে কোনো তথ্য প্রদান বা কোনো পরামর্শ করা হয় না। এমনকি আইনি বিষয়েও তার সাথে কোনো যোগাযোগ রাখা হয়নি।
৪. ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা: বিদ্যালয়টির অনুকূলে একটি বড় ধরনের সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বরাদ্দ হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে (উল্লেখ্য, বিগত ২৭/১১/২০২৩ সালে স্কুলের অনুকূলে একটি ভবনের অনুমোদন হয়)। তবে বর্তমান প্রধান শিক্ষিকা বহাল থাকলে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির কারণে এই মেগা উন্নয়নমূলক কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কাপ্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের পক্ষে লিখিত আবেদনে জানানো হয়, বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান রক্ষা ও সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার স্বার্থে উক্ত বিষয়ে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করা দরকার। একইসাথে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাকে অনতিবিলম্বে স্থানান্তরিত/বদলির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তার আকুল আবেদন জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হোসনেয়ারা ইয়াসমিনের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পুর্বেও হয়েছে। আমি ২০১১ সাল থেকে এ বিদ্যালয়ে আছি। অভিযোগ যেহেতু আমার উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিকট দেওয়া হয়েছে, তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবে।
ভাঙ্গা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মহসিন মোল্লা মুঠোফোনে জানান, আমি সারাদিন সদরপুরে ছিলাম, অভিযোগের বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।























