Sharing is caring!

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ
নোয়াখালীতে নতুন করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ১১জন। যারমধ্যে একজন ব্যাংক কর্মকর্তা, একজন ব্যাংক কর্মচারী, একজন মসজিদের ইমাম, তিন জন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার, একজন নার্স, একজন অ্যাম্বুলেন্স চালক, দুইজন পিয়ন ও এক যুবক রয়েছে।
রবিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডা: মো. মোমিনুর রহমান।
বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: অসীম কুমার দাস জানান, চৌমুহনী বাজারে ইস্টার্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা (২৮) গত ৪মে করোনার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসে নমুনা দিয়ে যান। শনিবার রাতে পাওয়া ফলাফলে তার করোনা পজিটিভ আসে। তার শারীরিক অবস্থা ভালো ও শরীরে কোন উপসর্গ না থাকায় তাকে চৌমুহনী পৌর হাজিপুর এলাকায় নিজ বাড়িতে হোম আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। তার বাড়িটি লকডাউন করা হয়েছে।
সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা: রিয়াজ উদ্দিন জানান, উপজেলার নাটেশ্বর ইউনিয়নের একটি মসজিদের ইমাম (২৯) গত ২৮ এপ্রিল থেকে জ¦র, কাশি, গলা ব্যথায় ভুগছিলেন। ৪মে স্বেচ্ছায় হাসপাতালে এসে নমুনা দিয়ে যান। রিপোর্টে তার করোনা পজিটিভ আসছে। বর্তমানে তার শরীরে কোন উপসর্গ না থাকা তাকে নিজ বাড়িতে হোম আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বাড়িটি লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. সেলিম জানান, বসুরহাট জনতা ব্যাংক শাখার ৫৫বছর বয়সী নিরাপত্তা প্রহরীর করোনা উপসর্গ থাকায় গত ৪মে হাসপাতালে তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে তার করোনা পজিটিভ আসে। তাকে মাইজদী শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামে স্থাপিত অস্থায়ী করোনা ভাইরাস হাসপাতালে আইসোলেশনে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, এ ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়িটি লকডাউন করে করে লাল পতাকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। ।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মোমিনুর রহমান বলেন, বিআইটিআইডি থেকে তিনজন এবং চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপোর্টে আট জনের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এ আটজনের মধ্যে হাতিয়ার দুই জন ও চাটখিলের একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার। সদর হাসপাতালের একজন নার্স, একজন অ্যাম্বুলেন্স চালক, দুইজন পিয়ন। হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়নের জোরখিল এলাকার (২২) এক যুবক রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে কয়েকজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা-কর্মচারী মাইজদী শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামে স্থাপিত অস্থায়ী করোনা ভাইরাস হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবায় কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে আক্রান্তদের সবাইকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, জেলায় মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩৪জন। যার মধ্যে জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলায় ১২জন, সদরে ৬জন, সোনাইমুড়ীতে ৪জন, হাতিয়ায় ৫জন, সেনবাগে ১জন, কবিরহাটে ২জন, চাটখিলে ৩জন ও কোম্পানীগঞ্জে ১জন। এদের মধ্যে মারা গেছেন সোনাইমুড়ীতে এক ইতালি প্রবাসী ও সেনবাগে এক রাজমেস্ত্রী। সুস্থ হয়েছে বাসায় ফিরেছেন সোনাইমুড়ীতে মৃত ইতালী প্রবাসীর স্ত্রী, চৌমুহনী চৌরাস্তার আপন নিবাসের এক নারী ও তার ছেলে।

Sharing is caring!