ঢাকা ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রশাসনের শর্ত লঙ্ঘন করে উস্কানি ও মিথ্যাচার করেছে হেফাজত ও কওমীরা- দাবি হেযবুত তওহীদের উসকানি ও নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টার হেযবুত তওহীদের প্রতিবাদ, প্রশাসনের পদক্ষেপ দাবি ভাঙ্গা ২ নং সদরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, দ্রুত তদন্ত ও বদলির দাবি রাষ্ট্রের আদর্শ পরিবর্তন জরুরি: ইমাম সেলিম নোয়াখালীতে ইসলামী মহা-সমাবেশ সফল করতে মতবিনিময় সভা প্রাইেভেট পড়তে গিয়ে শিক্ষিকার বাবা হাতে ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রী গভীর রাতে চাচীর ঘরে ভাতিজা, পুরুষাঙ্গ কেটে উধাও চাচী নোয়াখালীতে র‌্যাবের অভিযান: ২ চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার আসামিসহ গ্রেপ্তার ৪ বাসি খাবার বিক্রির অভিযোগ, দুই বিরিয়ানি হাউজকে জরিমানা মোটরসাইকেলে ইয়াবা পাচার, ৩ হাজার ৯৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২

৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞায় কর্মহীন হাতিয়ার জেলেদের মানবেতর জীবন

হাতিয়া প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৮:৩১:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬ ১৯১ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সামুদ্রিক মাছের প্রজনন রক্ষায় দেশের সমুদ্রসীমায় চলমান ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞায় নোয়াখালীর হাতিয়ার লক্ষাধিক জেলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে অনেক পরিবার মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।

গত ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এ নিষেধাজ্ঞা চলবে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত। এ সময়ে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা, পরিবহন ও বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে সরকার। তবে জেলেদের অভিযোগ, নিষিদ্ধ এলাকার সুনির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ না থাকায় তারা প্রায়ই হয়রানির শিকার হন।

স্থানীয় মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, হাতিয়ার প্রায় ২০টি ঘাটে এক লাখের বেশি জেলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। এর মধ্যে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা মাত্র ২৪ হাজার ২০ জন। এবার ৭৭ কেজি করে চাল সহায়তা দেওয়া হবে ৪ হাজার ৮৭৩টি পরিবারকে।

নলচিরার জেলে আব্দুর রব মাঝি বলেন, মাছ ধরতে না পারায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ধার-দেনা করে চলতে হচ্ছে। বছরের বেশির ভাগ সময়ই কোনো না কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকে। অল্প সময়ে মাছ ধরে খরচ তোলা সম্ভব হয়না। অনেকেই ঋণের বোঝায় জর্জরিত।

হাতিয়ার নতুন সুইজ ঘাটে অলস পড়ে থাকতে দেখা গেছে শতাধিক ট্রলার। প্রতিদিন জেলেরা ঘাটে এসে সময় কাটিয়ে ফিরে যাচ্ছেন আপন গৃহে।

ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি রাশেদ উদ্দিন বলেন, সরকারি সহায়তার পরিমাণ খুবই কম। প্রায় এক লাখ জেলের মধ্যে মাত্র ২৪ হাজার ২০ জন নিবন্ধনের আওতায় এসেছেন। বাকি জেলেরাও যাতে সহায়তা পান, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

হাতিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফয়জুর রহমান জানান, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রকৃত জেলেদের তালিকা পেলেই চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হবে। তালিকা প্রস্তুতের কাজ শেষ হলেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জেলেদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। বিষয়টি জানানো হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
নিউজ ডেস্ক

৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞায় কর্মহীন হাতিয়ার জেলেদের মানবেতর জীবন

আপডেট সময় : ০৮:৩১:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

সামুদ্রিক মাছের প্রজনন রক্ষায় দেশের সমুদ্রসীমায় চলমান ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞায় নোয়াখালীর হাতিয়ার লক্ষাধিক জেলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে অনেক পরিবার মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।

গত ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এ নিষেধাজ্ঞা চলবে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত। এ সময়ে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা, পরিবহন ও বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে সরকার। তবে জেলেদের অভিযোগ, নিষিদ্ধ এলাকার সুনির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ না থাকায় তারা প্রায়ই হয়রানির শিকার হন।

স্থানীয় মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, হাতিয়ার প্রায় ২০টি ঘাটে এক লাখের বেশি জেলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। এর মধ্যে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা মাত্র ২৪ হাজার ২০ জন। এবার ৭৭ কেজি করে চাল সহায়তা দেওয়া হবে ৪ হাজার ৮৭৩টি পরিবারকে।

নলচিরার জেলে আব্দুর রব মাঝি বলেন, মাছ ধরতে না পারায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ধার-দেনা করে চলতে হচ্ছে। বছরের বেশির ভাগ সময়ই কোনো না কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকে। অল্প সময়ে মাছ ধরে খরচ তোলা সম্ভব হয়না। অনেকেই ঋণের বোঝায় জর্জরিত।

হাতিয়ার নতুন সুইজ ঘাটে অলস পড়ে থাকতে দেখা গেছে শতাধিক ট্রলার। প্রতিদিন জেলেরা ঘাটে এসে সময় কাটিয়ে ফিরে যাচ্ছেন আপন গৃহে।

ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি রাশেদ উদ্দিন বলেন, সরকারি সহায়তার পরিমাণ খুবই কম। প্রায় এক লাখ জেলের মধ্যে মাত্র ২৪ হাজার ২০ জন নিবন্ধনের আওতায় এসেছেন। বাকি জেলেরাও যাতে সহায়তা পান, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

হাতিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফয়জুর রহমান জানান, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রকৃত জেলেদের তালিকা পেলেই চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হবে। তালিকা প্রস্তুতের কাজ শেষ হলেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জেলেদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। বিষয়টি জানানো হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও।