সংবাদ শিরোনাম ::
পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে আসবে কিছু পরিবর্তন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে রদবদল শারীরিক প্রতিবন্ধী চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই কবিরহাটে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে হামলা, নারীকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ নতুন ভিসা প্রত্যামীদের জন্য সুখবর দিলো ভারতীয় ভিসা নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিতে পারবেনা পুনঃভর্তি ফি: শিক্ষা মন্ত্রণালয় রমজানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎসেবা দিতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর আ.লীগ কার্যালয়ের তালা ভেঙে ব্যানার টাঙানো, পুলিশের অভিযানে আটক-৫ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগ ৯, বিএনপি ৫ ও জামায়াত ১

বাংলাদেশির বর্ণনায় লিবিয়ার নৃশংস হত্যাকাণ্ড

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৭:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০ ৫৮৭ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এনকে বার্তা ডেস্ক::

লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিসহ মোট ৩০ জনকে গুলি করে হত্যা করেছে স্থানীয় এক মানবপাচারকারীর পরিবারের সদস্যরা। নিহত বাকি ৪ জন আফ্রিকান। এই ঘটনায় আরও ১১ জন বাংলাদেশি মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে, লিবিয়ার জাতিসংঘ সমর্থিত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এদিকে গুলি করে হত্যার সময় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান একজন। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী ওই বাংলাদেশি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।

ত্রিপলীস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসকে তিনি জানান, লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিজদাতে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনাস্থলের অবস্থান ত্রিপলী থেকে ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে।

ওই বাংলাদেশির ভাষ্য, ১৫ দিন আগে লিবিয়ার বেনগাজী থেকে মরুভূমি পাড়ি দিয়ে ত্রিপলিতে নেয়া হচ্ছিল ৩৮ বাংলাদেশিকে। পথেই তাদের মুক্তিপণ আদায়ের জন্য জিম্মি করে মানব পাচারকারীরা। মিজদা শহরে নেয়ার পর তাদের ওপর শুরু হয় নির্যাতন। নির্যাতন যখন কঠিন পর্যায়ে চলে যায়, তখন বাধা দেন অপহৃত ব্যক্তিরা। একপর্যায়ে অপহৃত ব্যক্তিরা মূল মানব পাচারকারীর লিবিয়ান ব্যক্তিকে হত্যা করেন।

এ ঘটনার খবর চলে যায় ওই নিহত পাচারকারীর স্বজনদের কাছে। তারাসহ অন্য দুষ্কৃতিকারীরা জিম্মিদের উপর এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে ২৬ বাংলাদেশিসহ ৩০ জন অভিবাসী ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

বেঁচে যাওয়া ওই বাংলাদেশি বর্তমানে একজন হৃদয়বান লিবিয়ানের আশ্রয়ে আত্মগোপন করে আছেন। এ বিষয়ে ত্রিপলীস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় একটি রিপোর্ট পাঠিয়েছে।

দূতাবাস জানায়, নিহত ২৬ বাংলাদেশির লাশ মিজদাহ হাসপাতালে সংরক্ষিত রয়েছে। আহত বাকি ১১ বাংলাদেশির হাত-পায়ে ও বুকে-পিঠে গুলি লেগেছে। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অন্যদিকে তুরস্ক সরকার সমর্থিত সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহার তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়িছে, এক পাচারকারী পরিবার প্রতিশোধ নিতে এই হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। ওই পাচারকারী আগেই মারা গেছে। সেই মৃত্যুর দায় এই অভিবাসীদের ওপর চাপিয়েছে তার স্বজনরা। ফলে তাদের হত্যা করা হয়।

তেল নির্ভর অর্থনীতির দেশ লিবিয়া দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসীদের গন্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাজের সন্ধানে এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক দেশ থেকেই তরুণেরা অবৈধ পথে দেশটিতে পাড়ি জমায়। এদের মধ্যে বেশির ভাগের চেষ্টা থাকে ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
নিউজ ডেস্ক
ট্যাগস :

বাংলাদেশির বর্ণনায় লিবিয়ার নৃশংস হত্যাকাণ্ড

আপডেট সময় : ১১:৩৭:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০

এনকে বার্তা ডেস্ক::

লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিসহ মোট ৩০ জনকে গুলি করে হত্যা করেছে স্থানীয় এক মানবপাচারকারীর পরিবারের সদস্যরা। নিহত বাকি ৪ জন আফ্রিকান। এই ঘটনায় আরও ১১ জন বাংলাদেশি মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে, লিবিয়ার জাতিসংঘ সমর্থিত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এদিকে গুলি করে হত্যার সময় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান একজন। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী ওই বাংলাদেশি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।

ত্রিপলীস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসকে তিনি জানান, লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিজদাতে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনাস্থলের অবস্থান ত্রিপলী থেকে ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে।

ওই বাংলাদেশির ভাষ্য, ১৫ দিন আগে লিবিয়ার বেনগাজী থেকে মরুভূমি পাড়ি দিয়ে ত্রিপলিতে নেয়া হচ্ছিল ৩৮ বাংলাদেশিকে। পথেই তাদের মুক্তিপণ আদায়ের জন্য জিম্মি করে মানব পাচারকারীরা। মিজদা শহরে নেয়ার পর তাদের ওপর শুরু হয় নির্যাতন। নির্যাতন যখন কঠিন পর্যায়ে চলে যায়, তখন বাধা দেন অপহৃত ব্যক্তিরা। একপর্যায়ে অপহৃত ব্যক্তিরা মূল মানব পাচারকারীর লিবিয়ান ব্যক্তিকে হত্যা করেন।

এ ঘটনার খবর চলে যায় ওই নিহত পাচারকারীর স্বজনদের কাছে। তারাসহ অন্য দুষ্কৃতিকারীরা জিম্মিদের উপর এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে ২৬ বাংলাদেশিসহ ৩০ জন অভিবাসী ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

বেঁচে যাওয়া ওই বাংলাদেশি বর্তমানে একজন হৃদয়বান লিবিয়ানের আশ্রয়ে আত্মগোপন করে আছেন। এ বিষয়ে ত্রিপলীস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় একটি রিপোর্ট পাঠিয়েছে।

দূতাবাস জানায়, নিহত ২৬ বাংলাদেশির লাশ মিজদাহ হাসপাতালে সংরক্ষিত রয়েছে। আহত বাকি ১১ বাংলাদেশির হাত-পায়ে ও বুকে-পিঠে গুলি লেগেছে। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অন্যদিকে তুরস্ক সরকার সমর্থিত সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহার তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়িছে, এক পাচারকারী পরিবার প্রতিশোধ নিতে এই হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। ওই পাচারকারী আগেই মারা গেছে। সেই মৃত্যুর দায় এই অভিবাসীদের ওপর চাপিয়েছে তার স্বজনরা। ফলে তাদের হত্যা করা হয়।

তেল নির্ভর অর্থনীতির দেশ লিবিয়া দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসীদের গন্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাজের সন্ধানে এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক দেশ থেকেই তরুণেরা অবৈধ পথে দেশটিতে পাড়ি জমায়। এদের মধ্যে বেশির ভাগের চেষ্টা থাকে ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার।