ঢাকা ০৯:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রশাসনের শর্ত লঙ্ঘন করে উস্কানি ও মিথ্যাচার করেছে হেফাজত ও কওমীরা- দাবি হেযবুত তওহীদের উসকানি ও নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টার হেযবুত তওহীদের প্রতিবাদ, প্রশাসনের পদক্ষেপ দাবি ভাঙ্গা ২ নং সদরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, দ্রুত তদন্ত ও বদলির দাবি রাষ্ট্রের আদর্শ পরিবর্তন জরুরি: ইমাম সেলিম নোয়াখালীতে ইসলামী মহা-সমাবেশ সফল করতে মতবিনিময় সভা প্রাইেভেট পড়তে গিয়ে শিক্ষিকার বাবা হাতে ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রী গভীর রাতে চাচীর ঘরে ভাতিজা, পুরুষাঙ্গ কেটে উধাও চাচী নোয়াখালীতে র‌্যাবের অভিযান: ২ চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার আসামিসহ গ্রেপ্তার ৪ বাসি খাবার বিক্রির অভিযোগ, দুই বিরিয়ানি হাউজকে জরিমানা মোটরসাইকেলে ইয়াবা পাচার, ৩ হাজার ৯৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২

মুঠোফোনে প্রেম, পালিয়ে এসে দেখেন প্রেমিক দৃষ্টিহীন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ৪২৪ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হাতিয়া প্রতিনিধি:

 

দুই সন্তানের জননী গার্মেন্টেস কন্যা রেবা আক্তার সুমি (২৬)। মোবাইলে মো. রাসেল (২৮) নামে এক যুবকের সঙ্গে হয় প্রেম। একপর্যায়ে সুমি প্রেমিকের টানে হাজির হন প্রেমিকের বাড়িতে। এসে দেখেন প্রেমিক সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন। অতঃপর ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়ে দুজন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

 

গত বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) রাতে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুকদার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে বিয়ের খবরে এলাকার লোকজন রাসেলদের বাড়িতে ভিড় করছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

প্রেমিক দৃষ্টিহীন মো. রাসেল উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুকদার গ্রামের বাসিন্দা। অন্যদিকে সুমি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের বাসিন্দা।

 

রাসেলের বড় ভাই জামসেদ জানান, এ বিষয়ে তারা আগে কিছুই জানতেন না। গত শনিবার হঠাৎ সুমি তাদের বাড়ি এসে হাজির হন। রাসেল দৃষ্টিহীন, তার সংসার চালানোর সক্ষমতা নেই। এসব বলার পরও রাসেলকে বিয়ে করবে বলে সিদ্ধান্তে অটল থাকেন সুমি। পরে দু’জনকে নিয়ে আসা হয় হাতিয়া থানায়। থানা থেকে সুমির বাড়িতে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তার বাবা-মা কেউ সাড়া দেননি। সবশেষ বৃহস্পতিবার দু’জনের সম্মতিতে বিয়ে হয়।

 

সুমি বলেন, তার দুটি সন্তান আছে। আগের স্বামী ট্রাকচালক। তার সঙ্গে দুই বছর আগে সম্পর্ক ছিন্ন হয়। এসব জেনেও রাসেল তাকে বিয়ে করবেন বলে জানান। রাসেল দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এটা আমি আগে জানতাম না। চোখে সমস্যা আছে বলে রাসেল আমাকে জানিয়েছেন। কিন্তু একেবারে দৃষ্টিহীন, এটা বলেননি। এখন যেহেতু চলে এসেছি, তাই ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়ে বিয়ে করলাম।

 

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমির হোসেন বলেন, সুমির আগের স্বামীর সাথে কিছু দিন আগে তার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এরপর সে গার্মেন্টেসে চাকরি করত। একপর্যায়ে মুঠোফোনে রাসেলের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

 

ওসি আরও বলেন, সুমির দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী তার অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তারা কেউ আসেননি। পরে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
নিউজ ডেস্ক

মুঠোফোনে প্রেম, পালিয়ে এসে দেখেন প্রেমিক দৃষ্টিহীন

আপডেট সময় : ১১:৩৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৩

হাতিয়া প্রতিনিধি:

 

দুই সন্তানের জননী গার্মেন্টেস কন্যা রেবা আক্তার সুমি (২৬)। মোবাইলে মো. রাসেল (২৮) নামে এক যুবকের সঙ্গে হয় প্রেম। একপর্যায়ে সুমি প্রেমিকের টানে হাজির হন প্রেমিকের বাড়িতে। এসে দেখেন প্রেমিক সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন। অতঃপর ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়ে দুজন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

 

গত বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) রাতে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুকদার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে বিয়ের খবরে এলাকার লোকজন রাসেলদের বাড়িতে ভিড় করছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

প্রেমিক দৃষ্টিহীন মো. রাসেল উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুকদার গ্রামের বাসিন্দা। অন্যদিকে সুমি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের বাসিন্দা।

 

রাসেলের বড় ভাই জামসেদ জানান, এ বিষয়ে তারা আগে কিছুই জানতেন না। গত শনিবার হঠাৎ সুমি তাদের বাড়ি এসে হাজির হন। রাসেল দৃষ্টিহীন, তার সংসার চালানোর সক্ষমতা নেই। এসব বলার পরও রাসেলকে বিয়ে করবে বলে সিদ্ধান্তে অটল থাকেন সুমি। পরে দু’জনকে নিয়ে আসা হয় হাতিয়া থানায়। থানা থেকে সুমির বাড়িতে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তার বাবা-মা কেউ সাড়া দেননি। সবশেষ বৃহস্পতিবার দু’জনের সম্মতিতে বিয়ে হয়।

 

সুমি বলেন, তার দুটি সন্তান আছে। আগের স্বামী ট্রাকচালক। তার সঙ্গে দুই বছর আগে সম্পর্ক ছিন্ন হয়। এসব জেনেও রাসেল তাকে বিয়ে করবেন বলে জানান। রাসেল দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এটা আমি আগে জানতাম না। চোখে সমস্যা আছে বলে রাসেল আমাকে জানিয়েছেন। কিন্তু একেবারে দৃষ্টিহীন, এটা বলেননি। এখন যেহেতু চলে এসেছি, তাই ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়ে বিয়ে করলাম।

 

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমির হোসেন বলেন, সুমির আগের স্বামীর সাথে কিছু দিন আগে তার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এরপর সে গার্মেন্টেসে চাকরি করত। একপর্যায়ে মুঠোফোনে রাসেলের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

 

ওসি আরও বলেন, সুমির দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী তার অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তারা কেউ আসেননি। পরে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।