ঢাকা ১১:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
জোর পূর্বক বাড়িঘর দখলের অভিযোগ তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী ও স্বজনদের বিরুদ্ধে সুবর্ণচরে ইয়াবাসহ গ্রেফতারের পর বহিষ্কার সেই যুবদল নেতা নোয়াখালীতে পুলিশের কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ২৯ জয়পুরহাটে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, ফেয়ারডিল ও গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার জয়পুরহাটে নানা আয়োজনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন শিক্ষা সফরে যাওয়ার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পড়ল বাস, শিক্ষকসহ নিহত ২ অপতথ্য ছড়িয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে একটি মহল: প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী কালিগঞ্জ উপজেলায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত চাটখিল-সোনাইমুড়ীতে ডা. মোস্তফা হাজেরা ফাউন্ডেশনের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত ৭ নভেম্বরের চেতনা হোক গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়: নোবিপ্রবি উপাচার্য

তালাক দিয়েও মিলছেনা মুক্তি:

জোর পূর্বক বাড়িঘর দখলের অভিযোগ তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী ও স্বজনদের বিরুদ্ধে

কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:৩৯:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে স্বামীর বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ স্ত্রী কহিনুর বেগমের বিরুদ্ধে। আদালতে মামলা করে আইনগত পক্রিয়ায় তালাক দিয়েও মিলছেনা প্রতিকার। উল্টো তালাকনামা পাওয়ার পর স্বামী জহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে সাজানো মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে প্রেরণের মধ্য দিয়ে জোরপূর্বক বাড়িঘর দখল করে অবস্থান ও পুকরে মাছ এবং ঘরে থাকা মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে তালাক হওয়া স্ত্রী কহিনুর ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে।

মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত জহিরের মানবেতর জীবন, ঘর-বাড়ি হারিয়ে নিঃশ হয়ে আদলত পাড়া ও থানা পুলিশের দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও মিলছেনা সমাধান। তাই দেশের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারীসংস্থাসহ প্রশাসন, স্থানীয় রাজনৈতিকব্যাক্তিদের হস্তক্ষেপ ও বাড়ি ফিরে পেতে আকুল আবেদন ভুক্তভোগী জহিরের

সরজমিনে গিয়ে এলাকাবাসি ও বিভিন্ন কাগজপত্র পর্যালোচনা করে জানা যায়, বিগত ২০১০ সালের ২৪ নবেম্বর পারিবারিক ভাবে এক লক্ষ টাকা দেনমোহরের মাধ্যমে পাশ্ববর্তী সুবর্ণচর উপজেলার চর ওয়াপদা ইউনিয়নের চর বৈশাখী গ্রামের হযরত আলীর মেয়ে কহিনুর বেগমকে বিয়ে করেন মো. জহির উদ্দিন। বিয়ের পর থেকে চলছিল তাদের সংসার। এরই মাঝে ২০১৬ সালের দিকে স্ত্রী কোহিনুরকে পরকিয়া প্রেমিকের সাথে হাতেনাতে ধরেন জহির উদ্দিন। এর পর নিজের সম্মান এভাবে নষ্ট হওয়াতে নিজেকে কন্ট্রোল করতে না পেরে, নিজের বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ভুক্তভোগী জহির।

ঘটনার পর পর সদ্য তালাকাপ্রাপ্ত স্ত্রী তৎকালীন সময়ে ভুক্তভোগী জহিরকে আসামী করে আদালতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করলে আদালত দু পক্ষের আইনজীবিদের মাধ্যমে তাদের স্বামী-স্ত্রীকে মিলিয়ে দেয়। এর পর থেকে বাড়তে থাকে তাদের পারিবারিক কলহ। চলতে থাকা পারিবারিক কলহের জেরে গত ১৩ এপ্রিল ২০২৬ইং তারিখে জহির স্ত্রী কহিনুর বেগমকে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে তালাক প্রদান করনে। এর পর কাবিনের টাকার জন্য এলাকায় একটি সালিশী বৈঠকে জহির তার দেন মোহরের বকেয়া ৮০ টাকা জমা দেন। কিন্তু সালিশী বৈঠকে উপস্থিত সালিশদাররা অসাধু উপায়ে জহিরকে তার বাড়ির অর্ধেক জায়গা স্ত্রী কহিনুর বেগমকে লিখে দিতে চাপ সৃষ্টি করলে জহির কোন উপায়ান্তর না পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। তাতে সালিশদাররা ক্ষিপ্ত হয়ে তার তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী কহিনুর বেগমকে দিয়ে আদালতে পুনরায় আরেকটি মিথ্যা মামলা দায়েরের মাধ্যমে জহিরকে কারাগারে পাঠিয়ে স্ত্রী কহিনুর বেগম ও তার স্বজনদের দিয়ে জহিরের বসতঘর ও বাড়ি দখল করিয়ে তার পুকুরের মাছ ও ঘরে থাকা মালামাল লুট করিয়ে তালাক প্রাপ্ত স্ত্রীকে তার স্বজনসহ জহিররের বসত ঘরে অবস্থান করিয়ে ঘরবাড়ি ছাড়া করে রাখার অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগী জহির।

এবিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার তৎকালীন ওসি নুর হাকিম জানান, জহিরের বিরুদ্ধে সমাজ অবমাননা ও স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর তার কাবিনের টাকা নিয়ে তালবাহনা এবং খোরপোষ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। অপর প্রশ্নের জবাবে ওসি জানান, জহিরের বর্তমান স্ত্রী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল কিন্ত উভয় পক্ষের কেউই কাউকে ছাড় দিতে ইচ্ছুক না হওয়ায় কোন সমাধান করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশের সহযোগিতায় জহিরের বসতঘর দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানান, জহির সমাজের সালিশদারদের সিদ্ধান্ত না মানায় তারাই তাদেরকে সহযোগিতা করে জহিরের বাড়িতে থাকতে দিয়েছে।

তবে আদালতে করা কহিনুর বেগমরে সর্বশেষ মিথ্যা মামলা যাহার নং সিআর ৫১১/২০২৬ এর তদন্তকারী কর্মকর্তা চরজব্বর থানার এসআই মাঈন উদ্দিন জানান, মামলায় উল্লেখিত ঘটনার তারিখ ও স্থানে তদন্তে গিয়ে মামলায় উল্লেখিত অভিযোগের সাথে বাস্তবতার অনেক পার্থক্য পাওয়া গেছে। এছাড়াও ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসাবাদেও আশপাশের মানুষই জানেনা এমন ঘটনা বিষয়ে।

মামলায় দেখানো আঘাতের বিষয়ে জানাতে চাইলে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাক্তার রাজীব চৌধুরী জানান, রোগী ভর্তি হওয়ার সময় তার আঘাত দেখে খাতায় এনট্রি করা হয়, আদালতে চলমান মামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। তবে ছবিতে দেখানো আঘাতের চিণ্হ নারীদের শরীরে জন্মনিয়ন্ত্রণ কাটি বের করা কিন্বা প্রবেশ করানোর কাটা আঘাতের মত বোঝা যাচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তা হতে পারে। কেননা সাধারণত মারামারি কিন্বা দস্তাদস্তির ঘটনার আঘাত গুলো কখনো সোজাসুজি হয়না তাই এমনটা ধারণা স্বাভাবিক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
নিউজ ডেস্ক
ট্যাগস :

তালাক দিয়েও মিলছেনা মুক্তি:

জোর পূর্বক বাড়িঘর দখলের অভিযোগ তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী ও স্বজনদের বিরুদ্ধে

আপডেট সময় : ১১:৩৯:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে স্বামীর বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ স্ত্রী কহিনুর বেগমের বিরুদ্ধে। আদালতে মামলা করে আইনগত পক্রিয়ায় তালাক দিয়েও মিলছেনা প্রতিকার। উল্টো তালাকনামা পাওয়ার পর স্বামী জহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে সাজানো মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে প্রেরণের মধ্য দিয়ে জোরপূর্বক বাড়িঘর দখল করে অবস্থান ও পুকরে মাছ এবং ঘরে থাকা মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে তালাক হওয়া স্ত্রী কহিনুর ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে।

মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত জহিরের মানবেতর জীবন, ঘর-বাড়ি হারিয়ে নিঃশ হয়ে আদলত পাড়া ও থানা পুলিশের দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও মিলছেনা সমাধান। তাই দেশের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারীসংস্থাসহ প্রশাসন, স্থানীয় রাজনৈতিকব্যাক্তিদের হস্তক্ষেপ ও বাড়ি ফিরে পেতে আকুল আবেদন ভুক্তভোগী জহিরের

সরজমিনে গিয়ে এলাকাবাসি ও বিভিন্ন কাগজপত্র পর্যালোচনা করে জানা যায়, বিগত ২০১০ সালের ২৪ নবেম্বর পারিবারিক ভাবে এক লক্ষ টাকা দেনমোহরের মাধ্যমে পাশ্ববর্তী সুবর্ণচর উপজেলার চর ওয়াপদা ইউনিয়নের চর বৈশাখী গ্রামের হযরত আলীর মেয়ে কহিনুর বেগমকে বিয়ে করেন মো. জহির উদ্দিন। বিয়ের পর থেকে চলছিল তাদের সংসার। এরই মাঝে ২০১৬ সালের দিকে স্ত্রী কোহিনুরকে পরকিয়া প্রেমিকের সাথে হাতেনাতে ধরেন জহির উদ্দিন। এর পর নিজের সম্মান এভাবে নষ্ট হওয়াতে নিজেকে কন্ট্রোল করতে না পেরে, নিজের বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ভুক্তভোগী জহির।

ঘটনার পর পর সদ্য তালাকাপ্রাপ্ত স্ত্রী তৎকালীন সময়ে ভুক্তভোগী জহিরকে আসামী করে আদালতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করলে আদালত দু পক্ষের আইনজীবিদের মাধ্যমে তাদের স্বামী-স্ত্রীকে মিলিয়ে দেয়। এর পর থেকে বাড়তে থাকে তাদের পারিবারিক কলহ। চলতে থাকা পারিবারিক কলহের জেরে গত ১৩ এপ্রিল ২০২৬ইং তারিখে জহির স্ত্রী কহিনুর বেগমকে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে তালাক প্রদান করনে। এর পর কাবিনের টাকার জন্য এলাকায় একটি সালিশী বৈঠকে জহির তার দেন মোহরের বকেয়া ৮০ টাকা জমা দেন। কিন্তু সালিশী বৈঠকে উপস্থিত সালিশদাররা অসাধু উপায়ে জহিরকে তার বাড়ির অর্ধেক জায়গা স্ত্রী কহিনুর বেগমকে লিখে দিতে চাপ সৃষ্টি করলে জহির কোন উপায়ান্তর না পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। তাতে সালিশদাররা ক্ষিপ্ত হয়ে তার তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী কহিনুর বেগমকে দিয়ে আদালতে পুনরায় আরেকটি মিথ্যা মামলা দায়েরের মাধ্যমে জহিরকে কারাগারে পাঠিয়ে স্ত্রী কহিনুর বেগম ও তার স্বজনদের দিয়ে জহিরের বসতঘর ও বাড়ি দখল করিয়ে তার পুকুরের মাছ ও ঘরে থাকা মালামাল লুট করিয়ে তালাক প্রাপ্ত স্ত্রীকে তার স্বজনসহ জহিররের বসত ঘরে অবস্থান করিয়ে ঘরবাড়ি ছাড়া করে রাখার অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগী জহির।

এবিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার তৎকালীন ওসি নুর হাকিম জানান, জহিরের বিরুদ্ধে সমাজ অবমাননা ও স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর তার কাবিনের টাকা নিয়ে তালবাহনা এবং খোরপোষ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। অপর প্রশ্নের জবাবে ওসি জানান, জহিরের বর্তমান স্ত্রী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল কিন্ত উভয় পক্ষের কেউই কাউকে ছাড় দিতে ইচ্ছুক না হওয়ায় কোন সমাধান করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশের সহযোগিতায় জহিরের বসতঘর দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানান, জহির সমাজের সালিশদারদের সিদ্ধান্ত না মানায় তারাই তাদেরকে সহযোগিতা করে জহিরের বাড়িতে থাকতে দিয়েছে।

তবে আদালতে করা কহিনুর বেগমরে সর্বশেষ মিথ্যা মামলা যাহার নং সিআর ৫১১/২০২৬ এর তদন্তকারী কর্মকর্তা চরজব্বর থানার এসআই মাঈন উদ্দিন জানান, মামলায় উল্লেখিত ঘটনার তারিখ ও স্থানে তদন্তে গিয়ে মামলায় উল্লেখিত অভিযোগের সাথে বাস্তবতার অনেক পার্থক্য পাওয়া গেছে। এছাড়াও ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসাবাদেও আশপাশের মানুষই জানেনা এমন ঘটনা বিষয়ে।

মামলায় দেখানো আঘাতের বিষয়ে জানাতে চাইলে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাক্তার রাজীব চৌধুরী জানান, রোগী ভর্তি হওয়ার সময় তার আঘাত দেখে খাতায় এনট্রি করা হয়, আদালতে চলমান মামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। তবে ছবিতে দেখানো আঘাতের চিণ্হ নারীদের শরীরে জন্মনিয়ন্ত্রণ কাটি বের করা কিন্বা প্রবেশ করানোর কাটা আঘাতের মত বোঝা যাচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তা হতে পারে। কেননা সাধারণত মারামারি কিন্বা দস্তাদস্তির ঘটনার আঘাত গুলো কখনো সোজাসুজি হয়না তাই এমনটা ধারণা স্বাভাবিক।