হাতিয়ার জাগলার চরে গোলাগুলিতে নিহত বেড়ে ৬, থানায় মামলা
- আপডেট সময় : ০৯:৩০:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ৮১ বার পড়া হয়েছে
নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার জাগলার চরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গুলিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ছয় হয়েছে। সামছুদ্দিন ওরফে কোপা সামছু (৫৫) নামে আরও এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে।
আরো পড়ুন: স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশনের ঢাকা অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সীমান্তবর্তী জাগলার চরের জঙ্গল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে, গত মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার জাগলার চর থেকে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
আরো পড়ুন: মঞ্জু হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার দাবিতে মানববন্ধন
নিহত সামছুদ্দিন হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং কোপা সামছু বাহিনীর প্রধান ছিলেন। নিহত অন্যরা হলেন, আলাউদ্দিন বাহিনীর প্রধান আলাউদ্দিন, মোবারক হোসেন, আবুল কাশেম, হক সাব ও কামাল উদ্দিন।
আরো পড়ুন: নোয়াখালীতে অ্যাডভোকেট বকশীর স্মরণে নাগরিক শোকসভা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জাগলার চরের জমি সরকার এখন পর্যন্ত কাউকে বন্দোবস্ত দেয়নি। এ সুযোগে ৫ আগস্টের পর জাহাজমারা ইউনিয়নের কোপা সামছু বাহিনী জাগলার চরের বেশ কিছু জমি বিক্রি করে দেয়। এরপর জাগলার চরের জমির দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠে সুখচর ইউনিয়নের আলাউদ্দিন বাহিনী। একপর্যায়ে আলাউদ্দিন বাহিনী আরও বেশি দামে কিছু জমি বিক্রিও করে। এরপর দুটি গ্রুপ আলাদা আলাদা ভাবে চরের জমি বিক্রির চেষ্টা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, চর দখলে যুক্ত ডাকাত আলাউদ্দিন সুখচর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বেলায়েত হোসেন সেলিম, আওয়ামী লীগ নেতা নিজাম মেম্বার, বিএনপি নেতা নবীর ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তারা কোপা সামছু বানিহীকে চর থেকে বিতাড়িত করে চরের জমি দখলে নিতে ডাকাত আলাউদ্দিন বাহিনীর সঙ্গে আঁতাত করে। এ নিয়ে দুটি গ্রুপ একাধিকবার বিরোধে জড়ায়। গত মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে চরের জমি দখলকে কেন্দ্র করে কোপা সামছু ও আলাউদ্দিন গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে বন্দুক যুদ্ধ ও সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে গোলাগুলিও সংঘর্ষে দুই গ্রুপের ৬জন নিহত হয়। বুধবার রাতে ৫জনের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আরো পড়ুন: টার্মিনালে দাড়িয়ে থাকা বাসে আগুন
হাতিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনায় নিহত সামছুদ্দিনের ছোট ভাই আবুল বাশার বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৩০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১০/১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরের দিকে সামছুদ্দিনের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে।










