ঢাকা ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
হাতিয়াতে এমপি হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল নোয়াখালীতে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন স্কুল ফিডিং কর্মসূচি: উদ্বোধনের দ্বিতীয় দিনেই খাবার পায়নি সুবর্ণচরের ৯৩ স্কুলের শিক্ষার্থী খাল ও ফসলি জমি কেটে সড়ক নির্মাণ, ধসের আশঙ্কায় এলাকাবাসীর ঈদযাত্রায় ৩৭৭ দুর্ঘটনায় ৩৯৪ মৃত্যু, আহত ১২৮৮: যাত্রী কল্যাণ সমিতি মাদক দ্বন্দ্বে তরুণ খুন, গ্রেপ্তার ৮ নোয়াখালীতে মাদক নিয়ে দ্বন্দ্বে তরুণকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ২ নোয়াখালীতে নিখোঁজের দুদিন পর ডোবায় মিললো ইটভাটা শ্রমিকের মরেদেহ নোয়াখালীতে গৃহবধুকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেফতার কোম্পানীগঞ্জে অর্ধ সহস্রাধিক রোগীদের ফ্রি চিকিৎসা সেবা অনুষ্ঠিত

খাল ও ফসলি জমি কেটে সড়ক নির্মাণ, ধসের আশঙ্কায় এলাকাবাসীর

নোয়াখালী প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ১১:২২:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নোয়াখালীতে অনিয়মের মাধ্যমে খাল ও ফসলি জমির মাটি কেটে আলেকজান্ডার-সোনাপুর-মান্নান নগর সড়কের পাশ প্রশস্ত করণের কাজ চলছে, এতে কোনো ধরনের সুরক্ষা দেয়াল না থাকায় খাল পাড়ের সড়ক ও মানুষের বাড়িঘর ধসে পড়ার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।

নোয়াখালী সড়ক ও জনপদ বিভাগের তথ্যমতে, লক্ষ্মীপুর চর আলেকজান্ডার-সোনাপুর-মান্নান নগর সড়কের মোট ৭৩ কিলোমিটার সড়কের নোয়াখালী অংশে ১৮ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও প্রশস্ত করণ কাজ চলছে। সড়কটির নোয়াখালী অংশের ১৮ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৬ কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রিয়াভেল বিল্ডার্স।

সরেজমিনে দেখা গেছে, লক্ষ্মীপুর চর আলেকজান্ডার-সোনাপুর-মান্নান নগর সড়কের নোয়াখালী অংশের সদর উপজেলার মান্নান নগর, হানিফ চেয়ারম্যান বাজার, নুরুপাটোয়ারীর হাট ও সুবর্ণচরের চেওয়াখালী বাজার থেকে আজাদ নগর পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) খাল এবং মানুষের বাড়ির বাগান ও ফসলি জমি থেকে ভেকু দিয়ে মাটি তুলে সড়কের পাশ প্রশস্ত করা হচ্ছে। বাদ পড়েনি মসজিদের জমির মাটিও। এতে খালের গভীরতা বেড়ে সড়ক ও মানুষের বাড়িঘর পুনরায় খালের মধ্যে ধসে পড়ার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। এদিকে ফসলি জমির মাটি কাটা নিষিদ্ধ থাকলেও এই সড়কের পাশ ঘেঁষে ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে সড়ক প্রস্থত করায় জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটায় সড়কের এই অংশে খালের ওপর থাকা ছোট-বড় অর্ধশতাধিক পোল-কালভার্টও ঝুঁকির মূখে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ঠিকাদার সড়কের পাশ ঘেঁষে বয়ে যাওয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) খাল থেকে ভেকু দিয়ে মাটি তুলে সড়কের পাশ প্রশস্ত করছেন। এতে খালের গভীরতা বেড়ে যাওয়ায় সড়ক ও বাড়িঘর ধসে আবার খালের মধ্যে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অপরদিকে, সড়কের অপর পাশের ফসলি জমি, বাড়িঘর, বাগান ও মসজিদের জায়গা থেকেও মাটি কাটা হচ্ছে। তাদের দাবি- ঠিকাদারের লোকজনকে সড়ক সংলগ্ন খাল ও ফসলি জমি থেকে মাটি তুলতে নিষেধ করলেও তারা তা শুনছেন না। ঠিকাদার প্রভাবশালী হওয়ায় দুই দফায় কাজ বন্ধ করেও কোন লাভ হয়নি। তারা পুনরায় কাজ শুরু করেন। এই বিষয়ে নোয়াখালী সড়ক ও জনপদ বিভাগে জানিয়েও কোন ফল পাওয়া যায়নি। তাদের অভিযোগ- সড়ক প্রশস্ত করণের নামে খাল ও ফসলি জমি কেটে করা হচ্ছে সাগর চুরি।

ঠিকাদারি কাজের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, এই সড়কটি নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর জেলার আঞ্চলিক সড়ক। দরপত্রে ভিন্ন জায়গা থেকে মাটি এরেন্জ করে সড়কটি প্রশস্ত করণের নির্দেশনা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনিয়মের মাধ্যমে সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে প্রভাব খাটিয়ে পাশের খাল ও ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে সড়ক প্রশস্ত করছেন। এটি সম্পূর্ণ অনিয়ম ও দুর্নীতি। যা দেখেও না দেখার বান করছেন সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা।

তবে, এবিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রিয়াভেল বিল্ডার্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সংযোগ না পাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সড়ক বিভাগ নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরিদ উদ্দিন আলেকজান্ডার-সোনাপুর-মান্নান নগর সড়কের পাশ প্রশস্ত করণে অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সরেজমিনে গিয়ে খাল ও ফসলি জমি কেটে মাটি নিতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বারণ করা হয়েছে। এখন শুনছি পুনরায় খাল ও ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। এই বিষয়ে সরজমিনে পরিদর্শন করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন- ঠিকাদারকে যে শর্ত দেওয়া হয়েছে, সেই শর্ত মোতাবেক কাজটি বাস্তবায়ন করার কথা। তবে শর্ত ভঙ্গ করে কোন অবস্থাতেই সরকারি কোন জমি, খাল, সরকারি কোন সম্পত্তি থেকে কিংবা ফসলি জমি থেকে কোন অবস্থাতেই অন্যায়ভাবে মাটি কাটা যাবে না। এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে সরেজমিনে ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এদিকে খাল ও ফসলি জমি কেটে ফেলায় ক্ষতির সম্মূখিন হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রিয়াভেল বিল্ডার্সের এই অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ’সহ জেলা প্রশাসকের কাছে তাদের সম্পাদিত ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
নিউজ ডেস্ক
ট্যাগস :

খাল ও ফসলি জমি কেটে সড়ক নির্মাণ, ধসের আশঙ্কায় এলাকাবাসীর

আপডেট সময় : ১১:২২:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

নোয়াখালীতে অনিয়মের মাধ্যমে খাল ও ফসলি জমির মাটি কেটে আলেকজান্ডার-সোনাপুর-মান্নান নগর সড়কের পাশ প্রশস্ত করণের কাজ চলছে, এতে কোনো ধরনের সুরক্ষা দেয়াল না থাকায় খাল পাড়ের সড়ক ও মানুষের বাড়িঘর ধসে পড়ার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।

নোয়াখালী সড়ক ও জনপদ বিভাগের তথ্যমতে, লক্ষ্মীপুর চর আলেকজান্ডার-সোনাপুর-মান্নান নগর সড়কের মোট ৭৩ কিলোমিটার সড়কের নোয়াখালী অংশে ১৮ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও প্রশস্ত করণ কাজ চলছে। সড়কটির নোয়াখালী অংশের ১৮ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৬ কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রিয়াভেল বিল্ডার্স।

সরেজমিনে দেখা গেছে, লক্ষ্মীপুর চর আলেকজান্ডার-সোনাপুর-মান্নান নগর সড়কের নোয়াখালী অংশের সদর উপজেলার মান্নান নগর, হানিফ চেয়ারম্যান বাজার, নুরুপাটোয়ারীর হাট ও সুবর্ণচরের চেওয়াখালী বাজার থেকে আজাদ নগর পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) খাল এবং মানুষের বাড়ির বাগান ও ফসলি জমি থেকে ভেকু দিয়ে মাটি তুলে সড়কের পাশ প্রশস্ত করা হচ্ছে। বাদ পড়েনি মসজিদের জমির মাটিও। এতে খালের গভীরতা বেড়ে সড়ক ও মানুষের বাড়িঘর পুনরায় খালের মধ্যে ধসে পড়ার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। এদিকে ফসলি জমির মাটি কাটা নিষিদ্ধ থাকলেও এই সড়কের পাশ ঘেঁষে ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে সড়ক প্রস্থত করায় জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটায় সড়কের এই অংশে খালের ওপর থাকা ছোট-বড় অর্ধশতাধিক পোল-কালভার্টও ঝুঁকির মূখে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ঠিকাদার সড়কের পাশ ঘেঁষে বয়ে যাওয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) খাল থেকে ভেকু দিয়ে মাটি তুলে সড়কের পাশ প্রশস্ত করছেন। এতে খালের গভীরতা বেড়ে যাওয়ায় সড়ক ও বাড়িঘর ধসে আবার খালের মধ্যে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অপরদিকে, সড়কের অপর পাশের ফসলি জমি, বাড়িঘর, বাগান ও মসজিদের জায়গা থেকেও মাটি কাটা হচ্ছে। তাদের দাবি- ঠিকাদারের লোকজনকে সড়ক সংলগ্ন খাল ও ফসলি জমি থেকে মাটি তুলতে নিষেধ করলেও তারা তা শুনছেন না। ঠিকাদার প্রভাবশালী হওয়ায় দুই দফায় কাজ বন্ধ করেও কোন লাভ হয়নি। তারা পুনরায় কাজ শুরু করেন। এই বিষয়ে নোয়াখালী সড়ক ও জনপদ বিভাগে জানিয়েও কোন ফল পাওয়া যায়নি। তাদের অভিযোগ- সড়ক প্রশস্ত করণের নামে খাল ও ফসলি জমি কেটে করা হচ্ছে সাগর চুরি।

ঠিকাদারি কাজের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, এই সড়কটি নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর জেলার আঞ্চলিক সড়ক। দরপত্রে ভিন্ন জায়গা থেকে মাটি এরেন্জ করে সড়কটি প্রশস্ত করণের নির্দেশনা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনিয়মের মাধ্যমে সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে প্রভাব খাটিয়ে পাশের খাল ও ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে সড়ক প্রশস্ত করছেন। এটি সম্পূর্ণ অনিয়ম ও দুর্নীতি। যা দেখেও না দেখার বান করছেন সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা।

তবে, এবিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রিয়াভেল বিল্ডার্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সংযোগ না পাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সড়ক বিভাগ নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরিদ উদ্দিন আলেকজান্ডার-সোনাপুর-মান্নান নগর সড়কের পাশ প্রশস্ত করণে অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সরেজমিনে গিয়ে খাল ও ফসলি জমি কেটে মাটি নিতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বারণ করা হয়েছে। এখন শুনছি পুনরায় খাল ও ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। এই বিষয়ে সরজমিনে পরিদর্শন করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন- ঠিকাদারকে যে শর্ত দেওয়া হয়েছে, সেই শর্ত মোতাবেক কাজটি বাস্তবায়ন করার কথা। তবে শর্ত ভঙ্গ করে কোন অবস্থাতেই সরকারি কোন জমি, খাল, সরকারি কোন সম্পত্তি থেকে কিংবা ফসলি জমি থেকে কোন অবস্থাতেই অন্যায়ভাবে মাটি কাটা যাবে না। এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে সরেজমিনে ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এদিকে খাল ও ফসলি জমি কেটে ফেলায় ক্ষতির সম্মূখিন হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রিয়াভেল বিল্ডার্সের এই অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ’সহ জেলা প্রশাসকের কাছে তাদের সম্পাদিত ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।