ঢাকা ০১:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
চাটখিলে নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু, মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে হস্তান্তর প্রতিবন্ধী যুবতীকে ধর্ষণচেষ্টা, থানায় বাদীকে হেনস্থা, গ্রেপ্তার ২ নোয়াখালীতে যাত্রী ছাউনিতে এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর সন্তান প্রসব নোয়াখালীতে মোটরের বিদ্যুতের তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মা-ছেলের মৃত্যু একই পরিবারের ৪৩ সদস্যের বসবাস লন্ডনে, এ যেন এক টুকরো বাংলাদেশ নারিকেলডাব পাড়ার প্রলোভনে ডেকে নিয়ে শিশুকে বলৎকার একরাতে কোম্পানীগঞ্জের তিন বাড়িতে ডাকাতি মাদক ব্যবসায়ীর রাজকীয় আস্তানা: কুঁড়েঘরে এসি-সিসি ক্যামেরা হাতিয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার নোয়াখালীতে দুর্বৃত্তের আগুনে জ্বলল জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ

প্রতিবন্ধী যুবতীকে ধর্ষণচেষ্টা, থানায় বাদীকে হেনস্থা, গ্রেপ্তার ২

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১২:০১:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নোয়াখালী সদর উপজেলার পশ্চিম চর উরিয়া গ্রামে শারীরিক ও বাকপ্রতিবন্ধী এক যুবতীকে (২৫) ধর্ষণের চেষ্টা এবং পরবর্তীতে বিচার চাইতে গিয়ে হামলা ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদীকে থানার মধ্যে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক ও তার বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে সুধারাম মডেল থানা এলাকা থেকে অভিযুক্ত মেহেরাজুল ইসলাম (২০) ও তার বাবা আবদুল মন্নানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা নোয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম চর উরিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

 

মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীর মা জানান, মেহেরাজুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে তার শারীরিক ও বাকপ্রতিবন্ধী মেয়েকে উত্যক্ত করে আসছিল। গত ৭ জুন সকাল ৮টার দিকে মেয়েকে ঘরের সামনে হুইলচেয়ারে বসিয়ে রেখে গৃহস্থালি কাজে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। কিছুক্ষণ পর মেয়েকে না দেখে খোঁজাখুঁজি শুরু করলে পাশের একটি বাগান থেকে গোঙানি ও ধস্তাধস্তির শব্দ পান। সেখানে গিয়ে দেখেন, মেহেরাজুল তার মেয়ের কাপড় খুলে ধর্ষণের চেষ্টা করছে। উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়।

 

তিনি আরও জানান, ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিচার চাইলে অভিযুক্তের পরিবার ক্ষিপ্ত হয়ে একই দিন সকাল ১১টার দিকে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় ভাঙচুরের পাশাপাশি তাকে ও তার স্বামীকে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

 

ঘটনার পর ৮ জুন সুধারাম মডেল থানায় অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে ১৭ জুন নোয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করলে আদালত সেটিকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

 

ভুক্তভোগীর মা অভিযোগ করেন, শুক্রবার থানার পক্ষ থেকে স্বাক্ষরের জন্য ডাকা হলে তিনি সেখানে গেলে অভিযুক্তরা তাকে দেখে গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এসময় তাকে ধাক্কাধাক্কি ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। তার ছোট ভাই বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানালে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 

এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ধর্ষণচেষ্টা ও বাড়িতে হামলার মামলায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তবে থানায় বাদীকে হেনস্থার বিষয়টি তার জানা নেই বলে জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
নিউজ ডেস্ক

প্রতিবন্ধী যুবতীকে ধর্ষণচেষ্টা, থানায় বাদীকে হেনস্থা, গ্রেপ্তার ২

আপডেট সময় : ১২:০১:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

নোয়াখালী সদর উপজেলার পশ্চিম চর উরিয়া গ্রামে শারীরিক ও বাকপ্রতিবন্ধী এক যুবতীকে (২৫) ধর্ষণের চেষ্টা এবং পরবর্তীতে বিচার চাইতে গিয়ে হামলা ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদীকে থানার মধ্যে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক ও তার বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে সুধারাম মডেল থানা এলাকা থেকে অভিযুক্ত মেহেরাজুল ইসলাম (২০) ও তার বাবা আবদুল মন্নানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা নোয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম চর উরিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

 

মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীর মা জানান, মেহেরাজুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে তার শারীরিক ও বাকপ্রতিবন্ধী মেয়েকে উত্যক্ত করে আসছিল। গত ৭ জুন সকাল ৮টার দিকে মেয়েকে ঘরের সামনে হুইলচেয়ারে বসিয়ে রেখে গৃহস্থালি কাজে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। কিছুক্ষণ পর মেয়েকে না দেখে খোঁজাখুঁজি শুরু করলে পাশের একটি বাগান থেকে গোঙানি ও ধস্তাধস্তির শব্দ পান। সেখানে গিয়ে দেখেন, মেহেরাজুল তার মেয়ের কাপড় খুলে ধর্ষণের চেষ্টা করছে। উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়।

 

তিনি আরও জানান, ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিচার চাইলে অভিযুক্তের পরিবার ক্ষিপ্ত হয়ে একই দিন সকাল ১১টার দিকে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় ভাঙচুরের পাশাপাশি তাকে ও তার স্বামীকে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

 

ঘটনার পর ৮ জুন সুধারাম মডেল থানায় অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে ১৭ জুন নোয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করলে আদালত সেটিকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

 

ভুক্তভোগীর মা অভিযোগ করেন, শুক্রবার থানার পক্ষ থেকে স্বাক্ষরের জন্য ডাকা হলে তিনি সেখানে গেলে অভিযুক্তরা তাকে দেখে গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এসময় তাকে ধাক্কাধাক্কি ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। তার ছোট ভাই বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানালে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 

এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ধর্ষণচেষ্টা ও বাড়িতে হামলার মামলায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তবে থানায় বাদীকে হেনস্থার বিষয়টি তার জানা নেই বলে জানান তিনি।