ঢাকা ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রশাসনের শর্ত লঙ্ঘন করে উস্কানি ও মিথ্যাচার করেছে হেফাজত ও কওমীরা- দাবি হেযবুত তওহীদের উসকানি ও নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টার হেযবুত তওহীদের প্রতিবাদ, প্রশাসনের পদক্ষেপ দাবি ভাঙ্গা ২ নং সদরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, দ্রুত তদন্ত ও বদলির দাবি রাষ্ট্রের আদর্শ পরিবর্তন জরুরি: ইমাম সেলিম নোয়াখালীতে ইসলামী মহা-সমাবেশ সফল করতে মতবিনিময় সভা প্রাইেভেট পড়তে গিয়ে শিক্ষিকার বাবা হাতে ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রী গভীর রাতে চাচীর ঘরে ভাতিজা, পুরুষাঙ্গ কেটে উধাও চাচী নোয়াখালীতে র‌্যাবের অভিযান: ২ চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার আসামিসহ গ্রেপ্তার ৪ বাসি খাবার বিক্রির অভিযোগ, দুই বিরিয়ানি হাউজকে জরিমানা মোটরসাইকেলে ইয়াবা পাচার, ৩ হাজার ৯৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২

দাগনভূঞায় ১৫ বছর ধরে শিকলবন্দি মানসিক ভারসাম্যহীন শাহ জালাল, অর্থের অভাবে বন্ধ চিকিৎসা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৪:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২৯৩৪ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাহেদ সাব্বির,ফেনী প্রতিনিধি:

 

দাগনভূঞা উপজেলায় শাহজালাল নামে এক ব্যক্তি ১৫ বছর ধরে শিকলে বন্দি। মানসিক ভারসাম্যহীন এই ব্যক্তিকে অর্থের অভাবে চিকিৎসাও করাতে পারছে না তার পরিবার। আর্থিক সহায়তা পেলে তাকে সুস্থ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানাযায়, উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের মোমারিজপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হকের ছেলে শাহজালাল। টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে পারছেনা বলে জানিয়েছেন তার মা আনোয়ারা বেগম। চিকিৎসা পেলে ভালো হতে পারে বলে স্বজনের বিশ্বাস।

শাহজালালের বয়োবৃদ্ধ মা আনোয়ারা বেগম জানান, প্রায় বিশ বছর আগে হঠাৎ একদিন জালালের জ্বর হয়। তখন থেকে ধীরে ধীরে তার ছেলে মানসিক ভারসাম্যহীন হতে থাকে। মাকেও ছিনতে পারেনা। পরে আবারও সে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। সবাইকে মারধর গালিগালাজ তার স্বভাবে পরিনত হয়। তাকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। নিরুপায় হয়ে ছোট একটি ঘরে তারা জালালকে শিকলবন্দি করে রেখেছেন। তিনি বলেন সংসারের অভাব-অনটনের কারণে জালালকে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারছেন না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক বলেন, জালালের আচার, আচরণে কথা বার্তায় মারমুখী হয়ে লোকজনের ওপর হামলার কারনে তাকে শিকলবন্দি করতে বাধ্য হয় স্বজনরা। প্রতি মাসে তাকে ৭৫০ টাকা করে প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়ার ব্যাবস্থা করেছেন তিনি। জালালের উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবী জানান ফারুক।

প্রতিবেশী আজহারুল হক বলেন, মানবিক কারনে জালালের উন্নত চিকিৎসা করা দরকার। আর্থিক সহায়তা পেলে তাকে সুস্থ করা সম্ভব। তাই তাকে সহযোগীতা করতে বিত্তবানদের এগিয়ে আসতে অনুরোধ করেন।

দাগনভূঞা ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক কাজী ইফতেখারুল আলম, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে সহযোগীতায় এগিয়ে আসলে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাবে শাহজালাল।

জালালের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল হাসান বলেন, ব্যাপারটি দুঃখজনক। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে শুনেছেন। তিনি খোঁজ খবর নিয়ে শাহ জালালকে প্রশাসনিকভাবে সহযোগীতা করার আশ্বাস দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
নিউজ ডেস্ক
ট্যাগস :

দাগনভূঞায় ১৫ বছর ধরে শিকলবন্দি মানসিক ভারসাম্যহীন শাহ জালাল, অর্থের অভাবে বন্ধ চিকিৎসা

আপডেট সময় : ০৫:৪৪:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

সাহেদ সাব্বির,ফেনী প্রতিনিধি:

 

দাগনভূঞা উপজেলায় শাহজালাল নামে এক ব্যক্তি ১৫ বছর ধরে শিকলে বন্দি। মানসিক ভারসাম্যহীন এই ব্যক্তিকে অর্থের অভাবে চিকিৎসাও করাতে পারছে না তার পরিবার। আর্থিক সহায়তা পেলে তাকে সুস্থ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানাযায়, উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের মোমারিজপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হকের ছেলে শাহজালাল। টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে পারছেনা বলে জানিয়েছেন তার মা আনোয়ারা বেগম। চিকিৎসা পেলে ভালো হতে পারে বলে স্বজনের বিশ্বাস।

শাহজালালের বয়োবৃদ্ধ মা আনোয়ারা বেগম জানান, প্রায় বিশ বছর আগে হঠাৎ একদিন জালালের জ্বর হয়। তখন থেকে ধীরে ধীরে তার ছেলে মানসিক ভারসাম্যহীন হতে থাকে। মাকেও ছিনতে পারেনা। পরে আবারও সে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। সবাইকে মারধর গালিগালাজ তার স্বভাবে পরিনত হয়। তাকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। নিরুপায় হয়ে ছোট একটি ঘরে তারা জালালকে শিকলবন্দি করে রেখেছেন। তিনি বলেন সংসারের অভাব-অনটনের কারণে জালালকে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারছেন না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক বলেন, জালালের আচার, আচরণে কথা বার্তায় মারমুখী হয়ে লোকজনের ওপর হামলার কারনে তাকে শিকলবন্দি করতে বাধ্য হয় স্বজনরা। প্রতি মাসে তাকে ৭৫০ টাকা করে প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়ার ব্যাবস্থা করেছেন তিনি। জালালের উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবী জানান ফারুক।

প্রতিবেশী আজহারুল হক বলেন, মানবিক কারনে জালালের উন্নত চিকিৎসা করা দরকার। আর্থিক সহায়তা পেলে তাকে সুস্থ করা সম্ভব। তাই তাকে সহযোগীতা করতে বিত্তবানদের এগিয়ে আসতে অনুরোধ করেন।

দাগনভূঞা ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক কাজী ইফতেখারুল আলম, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে সহযোগীতায় এগিয়ে আসলে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাবে শাহজালাল।

জালালের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল হাসান বলেন, ব্যাপারটি দুঃখজনক। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে শুনেছেন। তিনি খোঁজ খবর নিয়ে শাহ জালালকে প্রশাসনিকভাবে সহযোগীতা করার আশ্বাস দেন।