ঢাকা ১১:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৫

মুম্বাইয়ের আন্ডারওয়ার্ল্ড দাউদ ইব্রাহিমের শহরে নতুন ‘লেডি ডন’ ইকরা কুরেশি!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২০:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২২ ২১৬৮ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারতের মুম্বাইয়ের আন্ডারওয়ার্ল্ড বলতেই দাউদ ইব্রাহিমের নামটাই আগে উচ্চারিত হয়। এক সময় শহরের যেসব এলাকায় দাউদের দাদাগিরি চলত, মুম্বাইয়ের সেই ডোংরি এলাকা এখন সামলাচ্ছেন ইকরা কুরেশি (২২) নামের এক তরুণী। ওই এলাকা থেকেই গোটা মুম্বাইয়ে নেটওয়ার্ক চালান তিনি। মুম্বাইয়ের যে এলাকা থেকে অপরাধ জগতের নেটওয়ার্ক পরিচালনা করা হয়, ইকরা সেই এলাকাতেই মাদকের ব্যবসা করে নিজের প্রাধান্য বিস্তার করেছেন। ওই এলাকার ‘ড্রাগ কুইন’ বলা হয় ইকরাকে। ইকরার নাম প্রকাশ্যে আসে ২০২১ সালের মার্চে। এনসিবি গোপন সূত্রে খবর পায় ডোংরি এলাকায় হাজিম কসমে এক মাদক পাচারকারী রয়েছে। পুলিশ অভিযান চালাতেই ৫২ গ্রাম মাদক-সহ ধরা পড়েন ইকরা। গ্রেফতার হওয়ার আগে পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ ছিল না পুলিশের খাতায়। খবর আনন্দবাজাররের

দাবি করা হয়, ইকরার বছর পাঁচেকের একটি সন্তান আছে। তার বিরুদ্ধে কেউ যদি কোনও কথা বলেন, তাহলে তার ওপর হামলা চালাতে দ্বিধা করেন না ইকরা। অনলাইনে মাদকের ব্যবসা চালান ইকরা। ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে মাদকের কারবার চালান তিনি। পুলিশ সূত্রের খবর, প্রথমে ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে নতুন গ্রাহক জোগাড় করেন। তারপর তার কাছে নারীদের মাধ্যমে মাদক পৌঁছে দেন তিনি। ইকরার মাদক নেটওয়ার্ক চালানোর জন্য নারীদের একটি দল রয়েছে। যারা মুম্বাইয়ের বার এবং ডিস্কোতে মাদক সরবরাহ করেন। পুলিশের চোখে ধুলা দেওয়ার জন্য একটা ফোন ২-৪ দিনের বেশি ব্যবহার করেন না ইকরা। মাদকের চুক্তি হয়ে যাওয়ার পরই সেই ফোন বাতিল করে দেন। নতুন কোনও চুক্তির জন্য আবার নতুন ফোন এবং নম্বর ব্যবহার করেন। ফলে মুম্বাইয়ের মাদক নিয়ন্ত্রক সংস্থাকেও (এনসিবি) ইকরার গতিবিধি নজর রাখতে সমস্যায় পড়তে হয়।

চরস, এমডি এবং এলএসডি’র বড় সরবরাহকারী ইকরা। ডোংরি এলাকায় তাকে ‘লেডি ডন’ এবং ‘ড্রাগ কুইন’ও বলা হয়। ইকরার গতিবিধির ওপর এনসিবি নজর রাখত। ইকরাও এনসিবি কর্তা সমীর ওয়াংখেড়ের গতিবিধির ওপর নজর রাখতেন। তিনি কখন অফিস যাচ্ছেন। কোথায় যাচ্ছেন, কতজন লোক তার সঙ্গে রয়েছেন, কাদের সঙ্গে দেখা করছেন— সব ছিল ইকরার নখদর্পণে। এমনকি এনসিবি দফতরেও ছদ্মবেশে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। সোনু পাঠান এবং এজাজ সাইকো নামে দুই মাদক পাচারকারীকে এনসিবি গ্রেফতার করার পরই ইকরার নাম তদন্তকারীদের হাতে আসে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মুম্বাইয়ের আন্ডারওয়ার্ল্ড দাউদ ইব্রাহিমের শহরে নতুন ‘লেডি ডন’ ইকরা কুরেশি!

আপডেট সময় : ১১:২০:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২২

ভারতের মুম্বাইয়ের আন্ডারওয়ার্ল্ড বলতেই দাউদ ইব্রাহিমের নামটাই আগে উচ্চারিত হয়। এক সময় শহরের যেসব এলাকায় দাউদের দাদাগিরি চলত, মুম্বাইয়ের সেই ডোংরি এলাকা এখন সামলাচ্ছেন ইকরা কুরেশি (২২) নামের এক তরুণী। ওই এলাকা থেকেই গোটা মুম্বাইয়ে নেটওয়ার্ক চালান তিনি। মুম্বাইয়ের যে এলাকা থেকে অপরাধ জগতের নেটওয়ার্ক পরিচালনা করা হয়, ইকরা সেই এলাকাতেই মাদকের ব্যবসা করে নিজের প্রাধান্য বিস্তার করেছেন। ওই এলাকার ‘ড্রাগ কুইন’ বলা হয় ইকরাকে। ইকরার নাম প্রকাশ্যে আসে ২০২১ সালের মার্চে। এনসিবি গোপন সূত্রে খবর পায় ডোংরি এলাকায় হাজিম কসমে এক মাদক পাচারকারী রয়েছে। পুলিশ অভিযান চালাতেই ৫২ গ্রাম মাদক-সহ ধরা পড়েন ইকরা। গ্রেফতার হওয়ার আগে পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ ছিল না পুলিশের খাতায়। খবর আনন্দবাজাররের

দাবি করা হয়, ইকরার বছর পাঁচেকের একটি সন্তান আছে। তার বিরুদ্ধে কেউ যদি কোনও কথা বলেন, তাহলে তার ওপর হামলা চালাতে দ্বিধা করেন না ইকরা। অনলাইনে মাদকের ব্যবসা চালান ইকরা। ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে মাদকের কারবার চালান তিনি। পুলিশ সূত্রের খবর, প্রথমে ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে নতুন গ্রাহক জোগাড় করেন। তারপর তার কাছে নারীদের মাধ্যমে মাদক পৌঁছে দেন তিনি। ইকরার মাদক নেটওয়ার্ক চালানোর জন্য নারীদের একটি দল রয়েছে। যারা মুম্বাইয়ের বার এবং ডিস্কোতে মাদক সরবরাহ করেন। পুলিশের চোখে ধুলা দেওয়ার জন্য একটা ফোন ২-৪ দিনের বেশি ব্যবহার করেন না ইকরা। মাদকের চুক্তি হয়ে যাওয়ার পরই সেই ফোন বাতিল করে দেন। নতুন কোনও চুক্তির জন্য আবার নতুন ফোন এবং নম্বর ব্যবহার করেন। ফলে মুম্বাইয়ের মাদক নিয়ন্ত্রক সংস্থাকেও (এনসিবি) ইকরার গতিবিধি নজর রাখতে সমস্যায় পড়তে হয়।

চরস, এমডি এবং এলএসডি’র বড় সরবরাহকারী ইকরা। ডোংরি এলাকায় তাকে ‘লেডি ডন’ এবং ‘ড্রাগ কুইন’ও বলা হয়। ইকরার গতিবিধির ওপর এনসিবি নজর রাখত। ইকরাও এনসিবি কর্তা সমীর ওয়াংখেড়ের গতিবিধির ওপর নজর রাখতেন। তিনি কখন অফিস যাচ্ছেন। কোথায় যাচ্ছেন, কতজন লোক তার সঙ্গে রয়েছেন, কাদের সঙ্গে দেখা করছেন— সব ছিল ইকরার নখদর্পণে। এমনকি এনসিবি দফতরেও ছদ্মবেশে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। সোনু পাঠান এবং এজাজ সাইকো নামে দুই মাদক পাচারকারীকে এনসিবি গ্রেফতার করার পরই ইকরার নাম তদন্তকারীদের হাতে আসে।