ঢাকা ০৩:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
যুব মহিলা লীগ নেত্রীর হানিট্র্যাপের শিকার বিএনপি নেতা, ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাককমেইলের অভিযোগ ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌরসভা ২০২৬-২৭ অর্থ বৎসরের বাজেট ঘোষনা থানার হাট মডেল হাই স্কুলে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান আবাসিক হোটেলে ডিবির অভিযান, আটক ১৪ নোয়াখালীতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের হোন্ডা শোডাউন যৌথ অভিযানে ভুয়া র‌্যাব গ্রেফতার প্রক্সি দিয়ে পরীক্ষায় পাস, চাকরিতে যোগ দিতে এসে আটক ২ ৯টি শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিবে একই প্রশ্নে- নোয়াখালীতে শিক্ষা মন্ত্রী মিলন চাটখিলে নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু, মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে হস্তান্তর প্রতিবন্ধী যুবতীকে ধর্ষণচেষ্টা, থানায় বাদীকে হেনস্থা, গ্রেপ্তার ২

বিবস্ত্র নারী নির্যাতন: সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার স্বীকার সাংবাদিক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১১:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২০ ৪৪১৭ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নোয়াখালী প্রতিনিধি

নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় আলোচিত নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুরের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সোমবার দুুপুর গড়িয়ে বিকেলে সাংবাদিকরা সন্ত্রাসী হামলার স্বীকার হয়েছেন। ওই ঘটনার মামলায় নোয়াখালী জেলা কারাগারে আটক মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগ মেম্বারের নিয়ন্ত্রিত সোহাগ বাহিনীর সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের মারধর, গাড়ী ভাংচুর ও ক্যামেরা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এসময় সন্ত্রাসীদের বাধা দিতে গিয়ে হামলা ও হেনস্তা হয়েছেন, নোয়াখালী জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আবুল কাশেম।

সন্ত্রাসী হামলার স্বীকার হয়েছেন, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন ও নিউজ টুয়েন্টি ফোর এর জেলা প্রতিনিধি আকবর হোসেন সোহাগ, ক্যামেরাম্যান মেহেদী হাসান ও স্থানীয় সংবাদ কর্মী সুমন।

হামলার স্বীকার সাংবাদিকরা অভিযোগে জানান, নোয়াখালী জেলা কারাগারে আটক মোয়াজ্জম হোসেন সোহাগ মেম্বার নিয়ন্ত্রিত সোহাগ বাহিনীর সন্ত্রাসীরা তার বাড়ী গিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করে ফিরে আসার পথে সোমবার বিকেলে সাংবাদিকদের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে। সোহাগ বাহিনীর সন্ত্রাসী মিঠু, জয়নাল, আজাদ, রাসেল ও বাবুলসহ ১০-১৫ জন সন্ত্রাসী অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটায়। এসময় সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের বহন করা দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন ও নিউজ টুয়েন্টি ফোর এর মাইক্রোবাসে হামলা ভাংচুর, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ক্যামেরাম্যান মেহেদী হাসানের ভিডিও ক্যামেরা ও অন্য একটি ক্যামেরার মেমোরি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এসময় নাম উল্লেখিত তিনজন সাংবাদিক আহত হন। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার বা ছিনিয়ে নেয়া ক্যামেরা, মেমোরী কিছুই উদ্ধার করতে পারেনি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আবুল কাশেম জিএস জানান, ঘটনার সময় তিনি জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে ছিলেন। সাংবাদিকে ওপর হামলার ঘটনায় বাধা দিতে গেলে সন্ত্রাসীরা তাকেও নানা ভাবে হেনস্তা করে। হামলাকারীরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালি দেয় এবং গায়ে পরিহিত মুজিব কোর্ট ধরে টানা হেঁচড়া করে।

বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি হারুন অর রশিদ চৌধুরী জানান, জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে সাংবাদিকদের ওপর হামলার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে, এর আগেই হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নারীকে বিবস্ত্র নির্যাতনের ঘটনায় ভুক্তভোগীর দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় একলাশপুর ইউনিয়নের জয়কৃষ্ণপুর গ্রাম ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগকে গত ৫ অক্টোবর গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দুই দিনের রিমান্ড শেষে গত ৮ অক্টোবর এ মামলায় সে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। নির্যাতনের শিকার ওই নারী সোহাগ মেম্বারের কাছে বিচার চাইতে গেলে সোহাগ তাকে দেড় হাজার টাকা দিয়ে ঘটনাটি কাউকে না জানানোর পরামর্শ দেন বলে অভিযোগ ওই নির্যাতিতা গৃহবধুর। সোহাগ মেম্বারের বিরুদ্ধে ওই এলাকায় মানুষের জায়গা-জমি দখল, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে সোমবার দিনেও ধর্ষক ও নির্যাতনকারীদের বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে, নোয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয় সম্মুখে মানববন্ধন করে বেশ কয়েকটি অরাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন। নব যাত্রা তরুন সংঘ, নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন সমন্বয় কমিটি, ছাত্র সমাজ, বাংলাদেশ ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ, জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলায় দেওটি ইউনিয়ন উন্নয়ন আন্দোলন বিক্ষোভ  সমাবেশ ও মানববন্ধন করে।

প্রসঙ্গত, গত ২সেপ্টেম্বর রাতে ওইনারীর আগের স্বামী তার সাথে দেখা করতে তার বাবার বাড়ী একলাশপুর ইউনিয়নের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের খাল পাড়ে এসে তাদের ঘরে ঢুকেন। বিষয়টি দেখে ফেলে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী ও দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার। রাত ১০টার দিকে দেলোয়ার তার লোকজন নিয়ে ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করে পর পুরুষের সাথে অনৈতিক কাজ ও তাদের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে পিটিয়ে নারীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারন করে। ৪ অক্টোবর দুপুরে ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নোয়াখালী জেলাসহ দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এদিকে ৮অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাতে গৃহবধূর দায়ের করা নির্যাতন ও পর্ণোগ্রাফী মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়। ঘটনায় এ পর্যন্ত ১১জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বিবস্ত্র নারী নির্যাতন: সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার স্বীকার সাংবাদিক

আপডেট সময় : ০৯:১১:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২০

নোয়াখালী প্রতিনিধি

নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় আলোচিত নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুরের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সোমবার দুুপুর গড়িয়ে বিকেলে সাংবাদিকরা সন্ত্রাসী হামলার স্বীকার হয়েছেন। ওই ঘটনার মামলায় নোয়াখালী জেলা কারাগারে আটক মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগ মেম্বারের নিয়ন্ত্রিত সোহাগ বাহিনীর সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের মারধর, গাড়ী ভাংচুর ও ক্যামেরা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এসময় সন্ত্রাসীদের বাধা দিতে গিয়ে হামলা ও হেনস্তা হয়েছেন, নোয়াখালী জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আবুল কাশেম।

সন্ত্রাসী হামলার স্বীকার হয়েছেন, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন ও নিউজ টুয়েন্টি ফোর এর জেলা প্রতিনিধি আকবর হোসেন সোহাগ, ক্যামেরাম্যান মেহেদী হাসান ও স্থানীয় সংবাদ কর্মী সুমন।

হামলার স্বীকার সাংবাদিকরা অভিযোগে জানান, নোয়াখালী জেলা কারাগারে আটক মোয়াজ্জম হোসেন সোহাগ মেম্বার নিয়ন্ত্রিত সোহাগ বাহিনীর সন্ত্রাসীরা তার বাড়ী গিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করে ফিরে আসার পথে সোমবার বিকেলে সাংবাদিকদের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে। সোহাগ বাহিনীর সন্ত্রাসী মিঠু, জয়নাল, আজাদ, রাসেল ও বাবুলসহ ১০-১৫ জন সন্ত্রাসী অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটায়। এসময় সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের বহন করা দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন ও নিউজ টুয়েন্টি ফোর এর মাইক্রোবাসে হামলা ভাংচুর, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ক্যামেরাম্যান মেহেদী হাসানের ভিডিও ক্যামেরা ও অন্য একটি ক্যামেরার মেমোরি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এসময় নাম উল্লেখিত তিনজন সাংবাদিক আহত হন। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার বা ছিনিয়ে নেয়া ক্যামেরা, মেমোরী কিছুই উদ্ধার করতে পারেনি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আবুল কাশেম জিএস জানান, ঘটনার সময় তিনি জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে ছিলেন। সাংবাদিকে ওপর হামলার ঘটনায় বাধা দিতে গেলে সন্ত্রাসীরা তাকেও নানা ভাবে হেনস্তা করে। হামলাকারীরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালি দেয় এবং গায়ে পরিহিত মুজিব কোর্ট ধরে টানা হেঁচড়া করে।

বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি হারুন অর রশিদ চৌধুরী জানান, জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে সাংবাদিকদের ওপর হামলার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে, এর আগেই হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নারীকে বিবস্ত্র নির্যাতনের ঘটনায় ভুক্তভোগীর দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় একলাশপুর ইউনিয়নের জয়কৃষ্ণপুর গ্রাম ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগকে গত ৫ অক্টোবর গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দুই দিনের রিমান্ড শেষে গত ৮ অক্টোবর এ মামলায় সে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। নির্যাতনের শিকার ওই নারী সোহাগ মেম্বারের কাছে বিচার চাইতে গেলে সোহাগ তাকে দেড় হাজার টাকা দিয়ে ঘটনাটি কাউকে না জানানোর পরামর্শ দেন বলে অভিযোগ ওই নির্যাতিতা গৃহবধুর। সোহাগ মেম্বারের বিরুদ্ধে ওই এলাকায় মানুষের জায়গা-জমি দখল, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে সোমবার দিনেও ধর্ষক ও নির্যাতনকারীদের বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে, নোয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয় সম্মুখে মানববন্ধন করে বেশ কয়েকটি অরাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন। নব যাত্রা তরুন সংঘ, নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন সমন্বয় কমিটি, ছাত্র সমাজ, বাংলাদেশ ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ, জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলায় দেওটি ইউনিয়ন উন্নয়ন আন্দোলন বিক্ষোভ  সমাবেশ ও মানববন্ধন করে।

প্রসঙ্গত, গত ২সেপ্টেম্বর রাতে ওইনারীর আগের স্বামী তার সাথে দেখা করতে তার বাবার বাড়ী একলাশপুর ইউনিয়নের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের খাল পাড়ে এসে তাদের ঘরে ঢুকেন। বিষয়টি দেখে ফেলে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী ও দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার। রাত ১০টার দিকে দেলোয়ার তার লোকজন নিয়ে ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করে পর পুরুষের সাথে অনৈতিক কাজ ও তাদের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে পিটিয়ে নারীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারন করে। ৪ অক্টোবর দুপুরে ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নোয়াখালী জেলাসহ দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এদিকে ৮অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাতে গৃহবধূর দায়ের করা নির্যাতন ও পর্ণোগ্রাফী মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়। ঘটনায় এ পর্যন্ত ১১জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।