Sharing is caring!

ডেস্ক রিপোর্ট::

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছেন বিপুলসংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থী। তবে আসন্ন শিক্ষাবর্ষে এসব বিশ্ববিদ্যালয় যদি শুধু অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে এসব শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে। গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) জানিয়েছে, এ ধরনের শিক্ষার্থীদের হয় দেশ ছাড়তে হবে, অন্যথায় তাদের ফেরত পাঠানো হবে। খবর: সিএনএন।

এর আগে কভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই তাদের আগামী বসস্ত ও গ্রীষ্মকালীন কোর্স অনলাইনে করার অনুমতি দিয়েছিল স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর প্রোগ্রাম (এসইভিপি)। তবে সোমবার নতুন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। এতে এ ধরনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়।

ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর শরৎকালীন সেমিস্টারের জন্য সম্পূর্ণ অনলাইনে থাকা স্কুল বা প্রোগ্রামগুলোতে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ভিসা দেবে না। মার্কিন শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা কর্তৃপক্ষও এ শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেবে না।

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের যাবতীয় কোর্স অনলাইনে নেওয়ার সিদ্ধান্তের দিনই শিক্ষার্থীদের দেশত্যাগ-সংক্রান্ত এ নির্দেশনা জারি করে কর্তৃপক্ষ। তবে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের এমন নির্দেশনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট ল্যারি ব্যাকাউ।

ল্যারি ব্যাকাউ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বিষয়ে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের জারি করা নির্দেশনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিশেষত অনলাইন প্রোগ্রামগুলোর শিক্ষার্থীদের দেশ ছাড়ার ঘোষণার ব্যাপারে উদ্বেগ রয়েছে। এটি ছাত্রছাত্রীদের জন্য একটি জটিল সমস্যা।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের ছাত্ররা যাতে বছরের মধ্যবর্তী সময়ে দেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য না হয়, তাদের একাডেমিক অগ্রগতি যেন ব্যাহত না হয় এবং এ ধরনের ভীতি ছাড়াই যাতে তারা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, তা নিশ্চিতকল্পে সাধ্যমতো আমাদের যাবতীয় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব।’

ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অবদান ছিল প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি বিদেশি শিক্ষার্থী হচ্ছে চীনের। এ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত।

হাজার হাজার বিদেশি শিক্ষার্থী যারা যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে এবং এরই মধ্যে যারা দেশটিতে পড়াশোনা করছে, তাদের ওপর এ সিদ্ধান্তের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। করোনাভাইরাস মহামারির ফলে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই অনলাইন কোর্সের দিকে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু এখন কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্ত তাদের বিস্মিত করেছে।

বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ২৫টি দেশের একটি, যেসব দেশের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেয়। গত শিক্ষাবর্ষে এ সংখ্যা পাঁচ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করছে সাড়ে সাত হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি।

Sharing is caring!