Sharing is caring!

পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধিঃ

 

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ৭ম শ্রেনীর ছাত্রী মুবিনা আক্তার (১৩) বাঁচতে চান। চিকিৎসার অভাবে ওই ছাত্রীর জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে। এখন দরিদ্র পরিবারের অসহায় মেয়েটি চিকিৎসা না পেয়ে বাড়িতে মৃত্যু শয্যায় লড়ছেন। এক বছর আগে ওই ছাত্রীকে লাথি, কিল, ঘুষি মেরে রক্তাক্ত জখম করে। মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে ২ বখাটে ওই ছাত্রীকে গতিরোধ করে।

 

এ সময় চলাচল সড়কে মেয়েটিকে তলপেটে লাথিসহ শারীরিক জখম করা হয়। অজ্ঞান অবস্থায় মেয়েটিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। প্রচুর রক্তক্ষরণসহ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক ভিকটিমকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল। সেখান থেকে ওই ছাত্রীকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

হামলার ঘটনায় চকরিয়া সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে নালিশি অভিযোগ পৌছানো হয়। বিচারিক আদালত সেটি আমলে নিয়েছেন। যার সিআর নং ১০৮২/১৯। অধিকতর তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য ওসি পেকুয়াকে এর দায়িত্বভার ন্যস্ত করে। পেকুয়ার সাবেক ওসি তদন্ত মিজানুর রহমান ঘটনার তদন্তসহ প্রতিবেদন আদালতে পৌছান। ২০১৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম উজানটিয়া গ্রামে হামলার এ ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল। মামলা সুত্র জানায়, গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে ৭ম শ্রেনীর ছাত্রী মুবিনা আক্তারকে হামলা চালানো হয়েছিল।

 

মুবিনা পশ্চিম উজানটিয়া শাহ মজিদিয়া দাখিল মাদ্রাসার ছাত্রী। প্রতিষ্টান থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে এলোপাতাড়ি লাথি, কিল,ঘুষিসহ আঘাত করা হয়। মুবিনা আক্তারের মা পশ্চিম উজানটিয়া নতুনপাড়া গ্রামের শাহজাহানের স্ত্রী হাছিনা বেগম বাদী হয়ে কোর্টে ওই মামলা রুজু করে। মামলায় প্রতিবেশী মনুর আলমের ছেলে এনাম, তার ভাই বয়ানসহ ৩ জনকে আসামী করা হয়। পেকুয়া থানার সাবেক ওসি তদন্ত মিজানুর রহমান সিআর ১০৮২/১৯ এর মামলা প্রতিবেদন ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর আদালতে পাঠান। মামলার স্বপক্ষে ৫ জন স্বাক্ষী লিখিত জবানবন্দী দেন। জবানবন্দীসহ মামলার বিষয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ স্বাক্ষীসহ এর তদন্ত প্রতিবেদন বিচারিক আদালতে পৌছান। এ দিকে হামলার ঘটনা ১ বছর পেরিয়ে গেছে।

 

হামলাকারীরা এখনো অধরা থেকে গেছে। পুলিশ প্রতিবেদনও পাঠিয়েছিলেন। মামলার অগ্রগতি নিয়ে কালক্ষেপণ শুরু হয়েছে। স্থানীয় সুত্র জানায়, মুবিনা আক্তারকে নিষ্টুর জখম করে। ভিকটিমের প্রচুর রক্তক্ষরন হয়। তলপেটে স্বজোরে লাথির আঘাতে মেয়েটি ওই সময় থেকে জখমী অবস্থায়। চট্টগ্রাম মেডিকেল,কক্সবাজার মেডিকেল ছাড়াও আরও একাধিক স্থানে চিকিৎসা করা হয়েছিল। চিকিৎসার জন্য দরিদ্র পরিবারটি বিপুল টাকা ব্যয় করে। সন্তানকে বাঁচাতে পিতার সঞ্চিত অর্থ শেষ করা হয়েছে। সহায় সম্বল ব্যয় করেও মেয়েটিকে সুস্থ করতে পারেননি। গত কয়েক মাস ধরে মেয়েটি বাড়িতে মৃত্যু শয্যায় আছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন জখমী মেয়েটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। লাথির আঘাতে তার কীডনির একটি বাল্ব বিকল হয়ে গেছে। সেটি দ্রুত সময়ে প্রতিস্থাপন করা না গেলে কোমলমতি ওই ছাত্রী পৃথিবীর মায়া মমতা ও আলো বাতাস ত্যাগ করতে হবে। তার মা হাছিনা বেগম জানান, আমার মেয়েকে নিষ্টুর আঘাত করার পর আমি বিচার পাইনি। এক বছর হয়েছে। এখনো হামলাকারীরা অধরা থেকে গেছে।

 

এখন বিচারও পাচ্ছিনা। অন্যদিকে মেয়েটির চিকিৎসার জন্যও অর্থের প্রয়োজন। দ্রুত সময়ে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। কেউ সাহায্য পাঠাতে চাইলে ০১৮২৩-৬০১৬২৬ বিকাশ নাম্বারে পাঠাবেন। আমি বিত্তবান, বিবেকবান মানবতা বোধ সম্পন্ন ব্যক্তিদের আহবান করছি আমার মেয়ের জীবন বাঁচাতে সাহায্য পাঠান। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আহবান করছি আমার মেয়েকে বাঁচাতে আপনি চিকিৎসা সহায়তা দিন।

Sharing is caring!