ঢাকা ০৮:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
নোয়াখালীতে শতাধিক পরিবার পেল উতাস’র ঈদ উপহার ঝড়ের রাতে চরে আটকা লঞ্চ, ১৭ ঘণ্টা পর উদ্ধার শতাধিক যাত্রী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল তরুণীর সাথে ভিডিও ভাইরাল, হাতিয়ার সেই ইউএনও ওএসডি চাটখিলে অসহায় ও দুস্থদের মাঝে বিএনপি নেতার ঈদ সামগ্রী বিতরণ হাতিয়ায় গৃহবধূকে হত্যা: র‌্যাবের হাতে স্বামী ও দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রেপ্তার কাভার্ডভ্যান চাপায় মাদরাসা ছাত্রের মৃত্যু, চালক আটক হাতিয়ার ইউএনওর সঙ্গে নারী আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, জেলা জুড়ে তোলপাড় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভুয়া বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষক নিয়োগ’সহ দুর্নীতির অভিযোগ বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার এখন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা

ইফতারের আগে না মারার আকুতি জানিয়েছিলেন মোরশেদ: র‍্যাব

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২১:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২২ ৫৪৯৩ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কক্সবাজারের পিএমখালীর মোরশেদ আলী (৪০) ইফতারি কেনার জন্য স্থানীয় চেরাংঘর স্টেশনে জনসম্মুখে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যায় জড়িত অভিযোগে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) ভোরে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে এদের গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৭ চট্টগ্রাম। মোরশেদ পিএমখালী ইউনিয়নের মাইজপাড়ার মৃত মাওলানা ওমর আলীর ছেলে। গত বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে চেরাংঘর স্টেশনেে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতরা হলো—মোহাম্মদ আলী ওরফে মোহাম্মদ, মোহাম্মদুল হক ওরফে মাহমুদুল হক, আবদুল্লাহ, আব্দুল আজিজ ও নুরুল হক।

গ্রেফতারকৃতদের বরাত দিয়ে র‍্যাব জানায়, মোরশেদ হত্যার আগে মার সহ্য করতে না পেরে আসামিদের কাছে আকুতি করে বলেছিলেন
‘এখন ক্লান্ত লাগছে, একটু পর ইফতার করবো। ইফতার শেষ হলেই তোমরা আমাকে মেরো। কিন্তু আসামিরা তার আকুতি শোনেনি। ইফতারের আগ মুহূর্তে প্রকাশ্যে মোরশেদকে কুপিয়ে হত্যা করে।

তারা র‍্যাবকে আরও জানায়, মোরশেদের পরিবারের লোকজন পিএমখালী ইউনিয়নের ১০ নম্বর পানি সেচ স্কিম পরিচালনা করে আসছিলেন। আসামিরা জোরপূর্বক সেচ স্কিম দখলে নিয়ে চাষিদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছিলেন। স্কিম ফিরে পাওয়ার জন্য চেষ্টা করতে থাকলে আসামিরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। মোরশেদ আলী প্রতিবাদ করেছিলেন।

র‍্যাব-৭ সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) নূরুল আবছার জানান, ৭ এপ্রিল ইফতার কিনতে বাড়ি থেকে বের হন মোরশেদ। চেরাংঘর স্টেশনে পোঁছালে আসামিরা দুদিকের রাস্তা বন্ধ করে দেয়। মোরশেদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালিয়ে মাটিতে ফেলে কিরিচ দিয়ে মাথায় আঘাত করতে থাকে। এরপর হামলায় অংশ নেওয়া আবদুল্লাহ ও আব্দুল আজিজ লাঠি ও রড দিয়ে আঘাত করে। মোরশেদ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে মাহমুদুল হক ধারালো কিরিচ দিয়ে ডান হাতের কবজি প্রায় বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। সবশেষ মোহাম্মদ আলী হাতুড়ি দিয়ে মোরশেদের অণ্ডকোষে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য। মাহমুদুল হক হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী। মদতদাতা ছিল তার ভাই নুরুল হক।

উল্লেখ্য, গত ৭ এপ্রিল কক্সবাজারের পিএমখালীর বাসিন্দা মোরশেদকে ইফতারি কেনার জন্য চেরাংঘর স্টেশনে বের হলে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করা হয়। হামলাকারীরা চলে গেলে স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। পরে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ইফতারের আগে না মারার আকুতি জানিয়েছিলেন মোরশেদ: র‍্যাব

আপডেট সময় : ১১:২১:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২২

কক্সবাজারের পিএমখালীর মোরশেদ আলী (৪০) ইফতারি কেনার জন্য স্থানীয় চেরাংঘর স্টেশনে জনসম্মুখে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যায় জড়িত অভিযোগে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) ভোরে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে এদের গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৭ চট্টগ্রাম। মোরশেদ পিএমখালী ইউনিয়নের মাইজপাড়ার মৃত মাওলানা ওমর আলীর ছেলে। গত বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে চেরাংঘর স্টেশনেে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতরা হলো—মোহাম্মদ আলী ওরফে মোহাম্মদ, মোহাম্মদুল হক ওরফে মাহমুদুল হক, আবদুল্লাহ, আব্দুল আজিজ ও নুরুল হক।

গ্রেফতারকৃতদের বরাত দিয়ে র‍্যাব জানায়, মোরশেদ হত্যার আগে মার সহ্য করতে না পেরে আসামিদের কাছে আকুতি করে বলেছিলেন
‘এখন ক্লান্ত লাগছে, একটু পর ইফতার করবো। ইফতার শেষ হলেই তোমরা আমাকে মেরো। কিন্তু আসামিরা তার আকুতি শোনেনি। ইফতারের আগ মুহূর্তে প্রকাশ্যে মোরশেদকে কুপিয়ে হত্যা করে।

তারা র‍্যাবকে আরও জানায়, মোরশেদের পরিবারের লোকজন পিএমখালী ইউনিয়নের ১০ নম্বর পানি সেচ স্কিম পরিচালনা করে আসছিলেন। আসামিরা জোরপূর্বক সেচ স্কিম দখলে নিয়ে চাষিদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছিলেন। স্কিম ফিরে পাওয়ার জন্য চেষ্টা করতে থাকলে আসামিরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। মোরশেদ আলী প্রতিবাদ করেছিলেন।

র‍্যাব-৭ সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) নূরুল আবছার জানান, ৭ এপ্রিল ইফতার কিনতে বাড়ি থেকে বের হন মোরশেদ। চেরাংঘর স্টেশনে পোঁছালে আসামিরা দুদিকের রাস্তা বন্ধ করে দেয়। মোরশেদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালিয়ে মাটিতে ফেলে কিরিচ দিয়ে মাথায় আঘাত করতে থাকে। এরপর হামলায় অংশ নেওয়া আবদুল্লাহ ও আব্দুল আজিজ লাঠি ও রড দিয়ে আঘাত করে। মোরশেদ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে মাহমুদুল হক ধারালো কিরিচ দিয়ে ডান হাতের কবজি প্রায় বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। সবশেষ মোহাম্মদ আলী হাতুড়ি দিয়ে মোরশেদের অণ্ডকোষে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য। মাহমুদুল হক হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী। মদতদাতা ছিল তার ভাই নুরুল হক।

উল্লেখ্য, গত ৭ এপ্রিল কক্সবাজারের পিএমখালীর বাসিন্দা মোরশেদকে ইফতারি কেনার জন্য চেরাংঘর স্টেশনে বের হলে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করা হয়। হামলাকারীরা চলে গেলে স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। পরে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।