সেতু থাকলেও নেই সংযোগ সড়ক, ভোগান্তিতে এলাকাবাসি
- আপডেট সময় : ০৯:০২:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে
মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের পাখিমারা খালের ওপর নির্মিত সেতুটি পাঁচ বছর পার হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় প্রায় ১০ গ্রামের মানুষের যাতায়াতে দেখা দিয়েছে চরম ভোগান্তি। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময় শেষ হলেও সম্পূর্ণ হয়নি সেতুটির নির্মাণকাজ।
আরো পড়ুন: জার্মান কোচের মাইলফলক, ফ্লিকের শততম ম্যাচে বার্সার জয়
এদিকে সংযোগ সড়ক না থাকায় বাঁশের মই বেয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের। এতে বিভিন্ন সময়ে ঘটছে দুর্ঘটনা। সেতুটি এখন এলাকাবাসীর কাছে মড়ার ওপর খড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের।
আরো পড়ুন: ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত, ৪০ দিনের শোক ঘোষণা
সংযোগ সড়ক না হওয়ায় সেতুটি কোনো কাজে আসছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে সেতুর দুই পাশে বাঁশের মই তৈরি করে কোনোরকমে চলাচলের ব্যবস্থা করেছে। সেতুর এক পাশে রয়েছে বাঁশতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আজিজ ভাট্টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি বাজার, মাদরাসাসহ গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা।
আরো পড়ুন: নিহত হলেন ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সেনাপ্রধান
সংযোগ সড়ক না থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানে যেতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন বাঁশের মই বেয়ে সেতুতে উঠা নামা করতে হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, অন্তত ১০টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ এই সেতুর ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে শিশু, নারী ও বয়স্কদের চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাঁশের মই দুলতে থাকায় প্রায়ই পা পিছলে পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে।
আরো পড়ুন: শাহজালাল বিমানবন্দরে বাতিল হল মধ্যপ্রাচ্যের আরো ৫৪ ফ্লাইট
সুন্দরবন ইউনিয়নের বাসিন্দা শিক্ষক জামাল ফরাজি বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে এ সেতু। তবে সেতু নির্মাণের পাঁচ বছরেও তৈরি হয়নি সেতুর দুইপাশে চলাচলের রাস্তা। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা সেতুটি সংযোগ সড়ক ছাড়া অচল পড়ে আছে। দ্রুত জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি বলেন, আমরা গ্রামবাসী বিষয়টি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। স্থানীয় বাসিন্দা কালাম শিকদার বলেন, সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় আগে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতার কারণে এখনো সংযোগ সড়ক হয়নি। এতে আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। জমিলা বেগম নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই সেতুটির জন্য কষ্ট করছি। দুই পাশে বাঁশের মই দিয়ে চলাচল করতে হয়। আমার স্বামী মই থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। অনেকেই পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন। ছোট ছোট বাচ্চারা ভয় নিয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ পথে স্কুলে যাচ্ছে। আমরা দ্রুত রাস্তা নির্মাণের দাবি জানাই। আজিজ ভাট্টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমন হাওলাদার জানায়, মই বেয়ে সেতু পার হতে তার খুব ভয় লাগে। ওপর উঠলে মই দুলতে থাকে। বাঁশতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী তন্নি বলে, স্কুলে যেতে হলে এই ব্রিজটি পার হতে হয়। মইটা অনেক উঁচু, আমাদের খুব ভয় লাগে।
আরো পড়ুন: শুরু অগ্নিঝরা মার্চ, নানাভাবেই স্মরণীয় মাসটি
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে মোংলার সুন্দরবন ইউনিয়নের পাখিমারা খালের ওপর নির্মাণকাজ শুরু হয় পাখিমারা সেতুর। সেতুটির নির্মাণকাজ করেছে পটুয়াখালীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আবুল কালাম আজাদ।
আরো পড়ুন: নিখোঁজের ২ দিন পর ডোবায় মিলল শিশুর মরদেহ উদ্ধার
এলজিইডির পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৯০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটির কাজ শেষ হয় ২০২১ সালে। ছয় কোটি ৩২ লাখ ৭৩ হাজার ৫২২ টাকা ব্যয়ে সেতুর মূল কাঠামো শেষ হলেও দুই পাশের সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ এখনো শুরু হয়নি।
নোয়াখালী টিভি জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি লিয়াকত, সম্পাদক রহিম
এ ব্যাপারে বাগেরহাট স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান বলেন, সেতুটির নির্মাণকাজ করেছে পটুয়াখালীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আবুল কালাম আজাদ। জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতার কারণে এখনো সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। তবে সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত সমাধান হবে আশা করি।















