ঢাকা ০৩:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
নোয়াখালীতে শতাধিক পরিবার পেল উতাস’র ঈদ উপহার ঝড়ের রাতে চরে আটকা লঞ্চ, ১৭ ঘণ্টা পর উদ্ধার শতাধিক যাত্রী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল তরুণীর সাথে ভিডিও ভাইরাল, হাতিয়ার সেই ইউএনও ওএসডি চাটখিলে অসহায় ও দুস্থদের মাঝে বিএনপি নেতার ঈদ সামগ্রী বিতরণ হাতিয়ায় গৃহবধূকে হত্যা: র‌্যাবের হাতে স্বামী ও দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রেপ্তার কাভার্ডভ্যান চাপায় মাদরাসা ছাত্রের মৃত্যু, চালক আটক হাতিয়ার ইউএনওর সঙ্গে নারী আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, জেলা জুড়ে তোলপাড় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভুয়া বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষক নিয়োগ’সহ দুর্নীতির অভিযোগ বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার এখন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা

হাতিয়ায় পানিবন্দি ১৫ গ্রামের মানুষ 

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৫:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২০ ৯৩৬ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ
নোয়াখালীর বিচ্ছন্ন দ্বীপ উপজেলায় হাতিয়া মেঘনা নদীর কোল ঘেষা চর ঈশ্বর, সুখ চর, নলচিরা ও নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নে ভাঙ্গা বেড়ী বাঁধ দিয়ে আকশ্মিক ভাবে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে করে ১৫ গ্রামের ১০ হাজার লোক পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন। পানি বন্ধি লোকজন মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
জানা গেছে, গত কয়েক দিনের টানা প্রবল বর্ষন ও পূর্নিমার জোয়ারের টানে জেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়র মেঘনা নদীর পানি অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত শুক্রবার থেকে জেলার চর ঈশ্বর, নিঝুমদ্বীপ, সুখ চর ও নলচিরা ইউনিয়নে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ (বেড়ি বাঁধ) এর ভাঙ্গা অংশ দিয়ে প্রবল জোয়ারের স্রোতের মাধ্যমে পানি প্রবেশ করতে থাকে। এতে করে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়। পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে ১০হাজার মানুষ।
হাতিয়া উপজেলার সুখচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন জানান, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষন ও উঁচু হয়ে আসা জোয়ারের পানি গত শুক্রবার রাত থেকে তার ইউনিয়নে প্রবেশ করতে থাকে । পানিতে মাকসুদিয়া গ্রাম, আব্দুল গফুর গ্রাম, মৌলুভীর গ্রাম, চান্দালি গ্রাম, মুলদি গ্রাম, কাদির সরদারের গ্রাম ও কাহারপাড়া গ্রামে বন্যা দেখা দেয়। তিনি আরও বলেন, তার ইউনিয়নের ভাঙ্গা বেড়ি বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করেছে। এতেকরে ওই সকল গ্রামের লোকজন গত ৪ দিন যাবৎ বন্যার পানিতে বন্দি হয়ে মানবতর জীবন যাপন করছেন। চেয়ারম্যান বলেন, তার ইউনিয়নে গত মাসে সৃষ্ট ঘূর্নিঝড় আম্পানের প্রভাবে আধা কিলো মিটার বেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। এতে করে ভাঙ্গা বেড়ি বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করেছে। এর ফলে পানিতে ফসল ও খামারে মাছ ভেসে গেছে।
উপজেলার চর ঈশ্বর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাশেদ উদ্দিন জানান, গত ৪দিন যাবৎ তার ইউনিয়নে বেড়ি বাঁধ বিহিন এলাকা দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে ১,২,৩ ও ৪ নং ওয়ার্ডে পানি প্রবেশ করে। এতে করে ইউনিয়নের তালুকদার গ্রাম, ফরাজিগ্রাম, বাদশা মিয়া হাজি গ্রাম, পন্ডিত গ্রাম, জেলে কলনি পাড়া, মৌলভী গ্রাম ও পঞ্চায়েত গ্রামে বন্যা দেখা দেয়। বন্যার পানিতে ১ হাজার পরিবার পানি বন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। চেয়ারম্যান বলেন গত কয়েক বছর আগে প্রবল জোয়ারের স্রোতে  ও ঘূর্নিঝড়ে তার ইউনিয়নে সাড়ে ৩ কিলো মিটার বেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে যায়। ভাঙ্গা বেড়ি বাঁধ পুন: নির্মান না করায় খুব সহজেই জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ে। এতে করে ফসল ও খামারের মাছ ভেসে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
নলচিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ন কবির বাবলু জানান, তার ইউনিয়নে ১ কিলোমিটার বেড়ি বাঁধ দীর্ঘ দিন যাবৎ ভাঙ্গ রয়েছে। বেড়ি বাঁধের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে বাড়ি ঘর ফসলের মাঠ ও মৎস খামার প্লাবিত হচ্ছে।
নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: নাছির উদ্দিন বলেন, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষন ও পূর্নিমার প্রভাবে মেঘনা নদীতে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে হাতিয়া উপজেলার ৩-৪ টি ইউনিয়নের লোকজন পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন। আগামী ২-৩ দিন পানি আরও বাড়ার আশংকা রয়েছে। বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন হাতিয়ার মেঘনা নদীর পানি বেড়ে বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মেঘনার পানি বৃদ্ধির ফলে প্রতিদিনই হাতিয়া উপজেলার নিম্নাঞ্চল সহ বাড়ি ঘর ও ফসলের মাঠ প্লাবিত হচ্ছে। এতে করে বসত ঘর ফসল ও মৎস খামারের ক্ষতি হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, হাতিয়া উপজেলার সুখচর ইউনিয়নে দেড় কিলো মিটার এবং নল চিরা ও চর ঈশ্বর ইউনিয়নে ৬ কিলো মিটার বেড়ী বাঁধ নেই। এগুলো মেরামতের জন্য গত অর্থবছরে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে চিঠি লেখা হয়েছে। কিন্তু বরাদ্দ না থাকায় এ ভাঙ্গা বাঁধ গুলো মেরামত করা সম্ভব হয় নি।
তিনি আরও বলেন, হাতিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেড়ি বাঁধ নির্মান, নদী তীরবর্তী এলাকা ভাঙ্গন রোধে ২ হাজার ১৩২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রনালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। ওই প্রকল্প পাশ হলেই কাজ শুরু হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হাতিয়ায় পানিবন্দি ১৫ গ্রামের মানুষ 

আপডেট সময় : ১০:৫৫:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২০
নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ
নোয়াখালীর বিচ্ছন্ন দ্বীপ উপজেলায় হাতিয়া মেঘনা নদীর কোল ঘেষা চর ঈশ্বর, সুখ চর, নলচিরা ও নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নে ভাঙ্গা বেড়ী বাঁধ দিয়ে আকশ্মিক ভাবে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে করে ১৫ গ্রামের ১০ হাজার লোক পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন। পানি বন্ধি লোকজন মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
জানা গেছে, গত কয়েক দিনের টানা প্রবল বর্ষন ও পূর্নিমার জোয়ারের টানে জেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়র মেঘনা নদীর পানি অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত শুক্রবার থেকে জেলার চর ঈশ্বর, নিঝুমদ্বীপ, সুখ চর ও নলচিরা ইউনিয়নে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ (বেড়ি বাঁধ) এর ভাঙ্গা অংশ দিয়ে প্রবল জোয়ারের স্রোতের মাধ্যমে পানি প্রবেশ করতে থাকে। এতে করে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়। পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে ১০হাজার মানুষ।
হাতিয়া উপজেলার সুখচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন জানান, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষন ও উঁচু হয়ে আসা জোয়ারের পানি গত শুক্রবার রাত থেকে তার ইউনিয়নে প্রবেশ করতে থাকে । পানিতে মাকসুদিয়া গ্রাম, আব্দুল গফুর গ্রাম, মৌলুভীর গ্রাম, চান্দালি গ্রাম, মুলদি গ্রাম, কাদির সরদারের গ্রাম ও কাহারপাড়া গ্রামে বন্যা দেখা দেয়। তিনি আরও বলেন, তার ইউনিয়নের ভাঙ্গা বেড়ি বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করেছে। এতেকরে ওই সকল গ্রামের লোকজন গত ৪ দিন যাবৎ বন্যার পানিতে বন্দি হয়ে মানবতর জীবন যাপন করছেন। চেয়ারম্যান বলেন, তার ইউনিয়নে গত মাসে সৃষ্ট ঘূর্নিঝড় আম্পানের প্রভাবে আধা কিলো মিটার বেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। এতে করে ভাঙ্গা বেড়ি বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করেছে। এর ফলে পানিতে ফসল ও খামারে মাছ ভেসে গেছে।
উপজেলার চর ঈশ্বর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাশেদ উদ্দিন জানান, গত ৪দিন যাবৎ তার ইউনিয়নে বেড়ি বাঁধ বিহিন এলাকা দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে ১,২,৩ ও ৪ নং ওয়ার্ডে পানি প্রবেশ করে। এতে করে ইউনিয়নের তালুকদার গ্রাম, ফরাজিগ্রাম, বাদশা মিয়া হাজি গ্রাম, পন্ডিত গ্রাম, জেলে কলনি পাড়া, মৌলভী গ্রাম ও পঞ্চায়েত গ্রামে বন্যা দেখা দেয়। বন্যার পানিতে ১ হাজার পরিবার পানি বন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। চেয়ারম্যান বলেন গত কয়েক বছর আগে প্রবল জোয়ারের স্রোতে  ও ঘূর্নিঝড়ে তার ইউনিয়নে সাড়ে ৩ কিলো মিটার বেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে যায়। ভাঙ্গা বেড়ি বাঁধ পুন: নির্মান না করায় খুব সহজেই জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ে। এতে করে ফসল ও খামারের মাছ ভেসে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
নলচিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ন কবির বাবলু জানান, তার ইউনিয়নে ১ কিলোমিটার বেড়ি বাঁধ দীর্ঘ দিন যাবৎ ভাঙ্গ রয়েছে। বেড়ি বাঁধের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে বাড়ি ঘর ফসলের মাঠ ও মৎস খামার প্লাবিত হচ্ছে।
নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: নাছির উদ্দিন বলেন, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষন ও পূর্নিমার প্রভাবে মেঘনা নদীতে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে হাতিয়া উপজেলার ৩-৪ টি ইউনিয়নের লোকজন পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন। আগামী ২-৩ দিন পানি আরও বাড়ার আশংকা রয়েছে। বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন হাতিয়ার মেঘনা নদীর পানি বেড়ে বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মেঘনার পানি বৃদ্ধির ফলে প্রতিদিনই হাতিয়া উপজেলার নিম্নাঞ্চল সহ বাড়ি ঘর ও ফসলের মাঠ প্লাবিত হচ্ছে। এতে করে বসত ঘর ফসল ও মৎস খামারের ক্ষতি হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, হাতিয়া উপজেলার সুখচর ইউনিয়নে দেড় কিলো মিটার এবং নল চিরা ও চর ঈশ্বর ইউনিয়নে ৬ কিলো মিটার বেড়ী বাঁধ নেই। এগুলো মেরামতের জন্য গত অর্থবছরে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে চিঠি লেখা হয়েছে। কিন্তু বরাদ্দ না থাকায় এ ভাঙ্গা বাঁধ গুলো মেরামত করা সম্ভব হয় নি।
তিনি আরও বলেন, হাতিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেড়ি বাঁধ নির্মান, নদী তীরবর্তী এলাকা ভাঙ্গন রোধে ২ হাজার ১৩২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রনালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। ওই প্রকল্প পাশ হলেই কাজ শুরু হবে।