Sharing is caring!

দ্বিতীয় দফা ভাগ্য পরীক্ষার লড়াইয়ে নামছে ভারতের সবচেয়ে জনবহুল ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য উত্তর প্রদেশের রাজনৈতিক দলগুলো। আজ সোমবার রাজ্যের ৯টি জেলার ৫৫টি আসনে ভোট যুদ্ধে নামবেন ৫৮৬ জন পদপ্রার্থী।
উত্তরপ্রদেশের দ্বিতীয় পর্বের এ ভোটে বর্তমানে ক্ষমতায় থাকা বিজেপির যেখানে জেতা আসন ধরে রাখার লড়াই, সেখানে সমাজবাদী পার্টির লক্ষ্য যাদব-মুসলিম ও জাঠদের ভোট জড়ো করে মূলত পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ ও রোহিলাখণ্ডের অধিকাংশ আসনে জয় নিশ্চিত করা। তাহলেই রাজ্যটিতে শেষ ‘বিজেপিরাজ’।

উত্তর প্রদেশে গোড়া থেকেই বিজেপির প্রধান চিন্তা প্রথম দুই পর্বের ভোট। এটি মূলত হচ্ছে পশ্চিম উত্তর প্রদেশের কৃষিপ্রধান জাঠ বলয়ে। বিতর্কিত কৃষি আইনসহ বিভিন্ন কারণে আখ উৎপাদনকারী এলাকা হিসেবে পরিচিত পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের কৃষকরা বিজেপির ওপর ক্ষুব্ধ। জাঠদের বড় অংশ এবার বিজেপিকে হারাতে মরিয়া। ক্ষুব্ধ জাঠদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে এসপির মুসলিম ও যাদব ভোটারেরা। ফলে প্রথম পর্বের ৫৮টি ও দ্বিতীয় পর্বের ৫৫টি আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন ধরে রাখাই বিজেপির কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
দলের কেন্দ্রীয় এক নেতার কথায়, “প্রথম দু’টি পর্বই এ বার দলের কাছে প্রধান চ্যালেঞ্জ। প্রথম দু’টি পর্বের ফলের ওপর সার্বিক ফল নির্ভর করছে। ” তবে প্রথম দফায় কিছুটা কম ভোট পড়ায় কিছুটা হলেও স্বস্তিতে বিজেপি নেতৃত্ব। দলটি মনে করছে, মানুষের মধ্যে যদি এ মুহূর্তে সরকারের বিরুদ্ধে প্রবল ক্ষোভ থাকত, তা হলে তারা দলে দলে ঘর থেকে বেরিয়ে ভোট কেন্দ্রে যেত। সে ক্ষেত্রে ভোটের হার বৃদ্ধি পেত। তাতে ফল বিজেপির প্রতিকূলে যেতে পারে।
আজ যে ৫৫টি আসনে ভোট হচ্ছে, পাঁচ বছর আগের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি তার মধ্যে জিতেছিল ৩৮টিতে। এসপি জেতে ১৫টি ও কংগ্রেস দু’টি। এসপি-র যে ১৫ জন বিধায়ক গতবার জিতেছিলেন, তার মধ্যে দশ জনই মুসলিম সমাজের। আজ ভোট হবে মূলত বিজনৌর, অমরোহা, মোরাদাবাদ, রামপুর, বদায়ুন শাহজাহানপুরের মতো এলাকাগুলোতে। ওই এলাকাগুলোতে মুসলিম সমাজের, বিশেষ করে বরেলভি ও দেওবন্দ শাখার বিশেষ প্রভাব রয়েছে।

এরা প্রথাগতভাবে এসপি-র সমর্থক। সেই কারণে এই এলাকাগুলোতে ফৌজদারি মামলা থাকা সত্ত্বেও প্রভাবশালী মুসলিম নেতা আজম খান ও তাঁর ছেলে আবদুল্লা আজমের ওপর ভরসা করছে এসপি।

Sharing is caring!