Sharing is caring!

ক্রিকেটে ক্যারিয়ার গড়তে গিয়ে দুই সপ্তাহ ধরে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে বারোদার ব্যাটসম্যান বিষ্ণু সোলানকিকে। প্রথমে একদিন বয়সী মেয়ে পরে নিজ পিতার মৃত্যু। প্রিয় দুজনকে হারানোর ব্যাথায় ভেঙে পড়ার কথা থাকলেও তিনি ছিলেন অবিচল। শোকের পাথর বুকে চেপে ২২ গজে দাপটে লড়াই করছেন তিনি। এই তো সেদিন, ১১ ফেব্রুয়ারি কটাকে স্কোয়াডের বাকিদের সঙ্গে কোয়ারেন্টাইনে থেকে জীবনের সবচেয়ে আনন্দের খবরটি শুনেছিলেন সোলানকি। প্রথম সন্তানের বাবা হওয়ার খবরে চোখেমুখে আনন্দ যেন উপচে পড়ছিল।

কিন্তু পরের দিন মাঝরাতে তাকে জাগিয়ে তুললেন বারোদা টিম ম্যানেজার ধর্মেন্দ্র আরোঠে। পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন সংবাদ দিলেন তাকে, এক দিন বয়সী মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। জীবিত মেয়েকে কোলে নিতে না পারলেও তাকে শেষ দেখা দেখতে পরের দিন ব্যাগ গুছিয়ে ঘরে ফিরে যান সোলানকি। লিগ পর্বে ১৬ থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি বেঙ্গলের বিপক্ষে বারোদার প্রথম ম্যাচ খেলেননি। শেষকৃত্য শেষে ১৭ ফেব্রুয়ারি কটাকে ফেরেন চন্ডীগড়ের বিপক্ষে বারোদার দ্বিতীয় ম্যাচের প্রস্তুতি নিতে। সদ্যজাত সন্তানের মৃত্যুর শোককে শক্তিতে পরিণত করে সোলানকি ম্যাচের দ্বিতীয় দিন শেষ করলেন ১০৩ রানে অপরাজিত থেকে। টিম ম্যানেজার আরোঠে ২৫ ফেব্রুয়ারি বলেছিলেন, ‘সে বলেছে, সেঞ্চুরিটি তার মেয়েকে উৎসর্গ করেছে।’

এই শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই রবিবার এলো বাবার মৃত্যুর খবর। সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে আরোঠে সোলানকি বাবার মৃত্যুর খবর শোনেন। তার পাঁচ মিনিট পরই শুরু হয় ম্যাচের শেষ দিনের খেলা। টিম ম্যানেজার প্রথমে এই খবর নিনাদ রাঠওয়ার মাধ্যমে দেন বারোদা অধিণায়ক কেদার দেবধরকে। সোলানকির ভালো বন্ধু রাঠওয়া, পরে তিনিই পৌঁছে দেন খবরটি। মাঠ ছেড়ে উঠে যান সোলানকি। আরোঠের তথ্য অনুযায়ী, সোলানকির ৭৫ বছর বয়সী দীর্ঘদিন শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন এবং হাসপাতালে ছিলেন প্রায় দুই মাস।

চন্ডীগড় ও বারোদা রোববারের ম্যাচে কালো আর্মব্যান্ড পরেছিল। ম্যাচ রেফারি অমিত পাঠক সোলানকিকে তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে ড্রেসিংরুমে ফোন ব্যবহারের অনুমতি দেন। আরোঠে বলেছেন, ‘ড্রেসিংরুম থেকে ভার্চুয়ালি সে তার বাবার শেষকৃত্যু দেখেছিল।’ সোলানকির পরিবারের দুই সদস্যের মৃত্যুতে দুই দলের সঙ্গে ম্যাচ অফিসিয়ালরা ২ মিনিটের নীরবতা পালন করেন।

সোলানকিকে যে কোনো ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বারোদা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন। এমনকি বাড়ি ফেরার জন্য বিমান টিকিটের ব্যবস্থাও করতে চেয়েছিল তারা। কিন্তু সোলানকি সবাইকে হতবাক করে জানায়, তিনি দলের সঙ্গে থাকতে চান এবং মৌসুমের শেষ লিগ ম্যাচ খেলতে চান। হায়রদাবাদের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি হবে ৩ মার্চ। সাবেক মুম্বাই অধিনায়ক ও বর্তমান বিসিএ প্রধান শিশির হাট্টাংগাড়ি সোলানকিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে টুইট করেছেন, ‘একজন ক্রিকেটারের গল্প, যে কয়েক দিন আগে সদ্যজাত মেয়েকে হারিয়েছিল। শেষকৃত্য শেষ করে ফিরে এসে দলকে প্রতিনিধিত্ব করেছিল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে। তার নাম হয়তো সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইকসের জোয়ার তুলবে না, কিন্তু আমার কাছে বিষ্ণু সোলানকি একজন সত্যিকারের হিরো। একটি অনুপ্রেরণার নাম।’

Sharing is caring!