Sharing is caring!

আশা-নিরাশার দোলাচল চলল বারবার। দারুণ বোলিংয়ের শেষটা হয়েছিল হতাশার। ব্যাটিংয়ে খারাপ শুরুর পর ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা। নিগার সুলতানা জ্যোতি, সালমা খাতুনরা আশার আলো নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু শেষ অবধি দলকে জেতাতে পারলেন না কেউই।
বৃহস্পতিবার নারী বিশ্বকাপের ম্যাচটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৪ রানে হেরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। আগে ব্যাট করা ক্যারিবীয়ানদের ১৪০ রানের বেশি করতে দেননি সালমা খাতুনরা। জবাব দিতে নেমে ১৩৬ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।
১৪১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই হিলি ম্যাথুজের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফিরে যান শামীমা সুলতানা। রানের খাতাই খুলতে পারেননি এ উইকেটরক্ষক ব্যাটার। লক্ষ্য খুব বড় না হওয়ায় রানরেটের দিকে না তাকিয়ে খেলতে থাকেন শারমিন আক্তার সুপ্তা ও ফারজানা হক পিংকি।
এ দুজনের জুটিতে আসে ৩০ রান। ইনিংসের নবম ওভারে ম্যাথুজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন সুপ্তা। তার ব্যাট থেকে আসে ২৫ বলে ১৭ রান। এরপর উইকেটে আসেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। ফর্মে থাকা ফারজানা পিংকির সঙ্গে মিলে দেখে শুনে খেলতে থাকেন তিনি।
ইনিংসের ১৬তম ওভারে গিয়ে পূরণ হয় বাংলাদেশের দলীয় পঞ্চাশ। ঠিক পরের ওভার থেকেই শুরু হয় ক্যারিবীয়দের ঘুরে দাঁড়ানো। টানা তিন ওভার মেইডেন করেন কারিশমা রামহারাক। এর ফায়দা নেন লেগস্পিনার অ্যাফি ফ্লেচার। দুই ওভারে তিন উইকেট তুলে নেন তিনি।
ফ্লেচারের করা ২২তম ওভারের দ্বিতীয় বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়েছিলেন পিংকি। পরের বলেও সুইপ করতে গিয়ে সোজা বোল্ড হয়ে যান ২৩ রান করা এ টপঅর্ডার ব্যাটার। নিজের পরের ওভারে পরপর দুই বলে রুমানা আহমেদ ও রিতু মণিকে আউট করেন ফ্লেচার। দুজনের কেউই রানের খাতা খুলতে পারেননি।
কারিশমা-ফ্লেচারের এই স্পেলের ঘুর্ণিতে ১৬ ওভারে ২ উইকেটে ৫১ থেকে ২৫ ওভারে ৫ উইকেটে ৬৪ রানের দলের পরিণত হয় বাংলাদেশ। অর্থাৎ ৯ ওভারে মাত্র ১৩ রান তুলতেই সাজঘরে ফিরে যান তিন ব্যাটার। তবু আশার আলো জ্বালিয়ে খেলছিলেন বর্তমান অধিনায়ক জ্যোতি ও সাবেক অধিনায়ক সালমা খাতুন।
এ দুজনের জুটিতে স্কোরবোর্ডে যোগ হয় ২৫ রান। শেষ স্পেলে বোলিংয়ে এসে জ্যোতিকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে জুটি ভাঙেন হিলি ম্যাথুজ। জ্যোতির ব্যাট থেকে আসে ৭৭ বলে ২৫ রান। এক বল পর বোল্ড হয়ে যান ফাহিমা খাতুন। ফলে ৭ উইকেট হারিয়ে ফের বিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশ।
অষ্টম উইকেট জুটিতে আবার আশা জাগান সালমা খাতুন ও নাহিদা আক্তার। এই জুটিতেও আসে ২৫ রান। জয়ের জন্য ৩১ রান বাকি থাকতে ক্যারিবীয় অধিনায়ক স্টেফানি টেলরের বলে কারিশমার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৪০ বলে ২৩ রান করা সালমা।
এরপর জাহানারা আলম এক চারের মারে ১০ বলে ৮ রান করেন। তাকেও সাজঘরে পাঠান টেলর। এই ক্যাচটিও ধরেন কারিশমা। ফলে শেষ উইকেটে জয়ের জন্য বাকি থাকে ১৯ রান। বাংলাদেশের আশার প্রদীপ হিসেবে ছিলেন বল হাতে জাদু দেখানো নাহিদা।
শেষ চার ওভারে ১৮ রানের সমীকরণে ৪৭তম ওভারের প্রথম বলে বাউন্ডারি হাঁকান নাহিদা। পরে শেষ বলে এক রান নিয়ে স্ট্রাইক নিজের কাছেই রাখেন তিনি। সমীকরণ দাঁড়ায় ১৮ বলে ১৩ রানে। টেলরের করা ওভারে দুই ওয়াইডের পর শেষ বলে সিঙ্গেল নেন নাহিদা।
দেয়ান্দ্র ডটিন করেন ৪৯তম ওভার। সেই ওভারে হয় একটি ওয়াইড। বাকি পাঁচ বলে বাউন্ডারির চেষ্টা করেও সফল হননি নাহিদা। শেষ বলে এক রান নিয়ে স্ট্রাইক রাখেন নিজের কাছেই। শেষ ওভারে বাকি ৮ রান। ক্যারিবীয়দের পক্ষে দায়িত্ব তুলে নেন অধিনায়ক টেলর নিজেই।
শেষ ওভারের প্রথম বলে অন সাইডে মেরে দুই রান নেন নাহিদা। পরের বলে এক রান এলে স্ট্রাইক চলে যায় ফারিহা তৃষ্ণার কাছে। তিনি প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে গেলে ৪ রানে জিতে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নন স্ট্রাইক প্রান্তে অপরাজিত থেকে যান ৬৪ বলে ২৫ রান করা নাহিদা।
ক্যারিবীয়দের পক্ষে ১০ ওভারে মাত্র ১৫ রান খরচায় ৪ উইকেট নিয়েছেন ম্যাথুজ। অ্যাফি ফ্লেচারের শিকার ২৯ রানে ৩ উইকেট, টেলরও ২৯ রানে নিয়েছেন ৩টি উইকেট। কোনো উইকেট না পেলেও ১০ ওভারে মাত্র ১৫ রান খরচ করেছেন কারিশমা।
এর আগে টস জিতে আগে ফিল্ডিং নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। পাকিস্তানকে হারানোর ম্যাচের একাদশে কোনো পরিবর্তন আনেনি বাংলাদেশ দল। সেই ম্যাচের আত্মবিশ্বাস থেকেই আজকের ম্যাচে তারকাসমৃদ্ধ ক্যারিবীয় ব্যাটিং লাইনআপকে শুরু থেকেই চাপে রাখে বাংলাদেশ।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের নবম ওভারে প্রথম উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ডানহাতি পেসার জাহানারা আলমের বলে কট বিহাইন্ড হন ১৭ রান করা নারী ক্রিকেটের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার দেয়ান্দ্র ডটিন। পাওয়ার প্লে’র ১০ ওভারে ১ উইকেটে মাত্র ৩৪ রান করতে পারে তারা। জাহানারার সঙ্গে দারুণ বোলিং করেন বাঁহাতি পেসার ফারিহা তৃষ্ণা।
পরবর্তী ৩০ ওভারে ক্যারিবীয় ব্যাটারদের রীতিমতো নাচিয়ে ছাড়েন চার স্পিনার সালমা খাতুন, রুমানা আহমেদ, নাহিদা আক্তার ও ফাহিমা খাতুন। এই ৩০ ওভারে মাত্র ৫৩ রানে আরও ৬ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে ৪০ ওভারে স্কোর দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ৮৭ রান।
অবশ্য সপ্তম উইকেটের পতন ঘটেছিল দলীয় ৭০ রানের মাথায়। ক্যারিবীয় ইনিংসের ৩৬ ওভার শেষে সংগ্রহ ছিল ৭ উইকেটে ৭২ রান। সেখান থেকে শেষ ১৪ ওভারে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ৬৮ রান করে তারা। যা দলকে এনে দেয় বলার মতো সংগ্রহ।
নবম উইকেট জুটিতে সর্বোচ্চ ৩৬ রান যোগ করেন কারিশমা রামহারাক ও শারমেইন ক্যাম্পবেল। এর আগে অ্যাফি ফ্লেচারকে নিয়ে অষ্টম উইকেটেও ৩২ রানের জুটি গড়েন ক্যাম্পবেল। কারিশমা ৭ ও অ্যাফি করেন ১৭ রান।
আসরে নিজের দ্বিতীয় ফিফটিতে ১০৭ বলে ৫৩ রান করে অপরাজিত থাকেন ক্যাম্পবেল। তার ব্যাটে ভর করেই হিলি ম্যাথুজ (১৮), রাশাদা উইলিয়ামস (৪), স্টেফানি টেলর (৪), চেডন ন্যাশনদের (৬) ব্যর্থতা ছাপিয়ে লড়াই করার পুঁজি পেয়েছে ক্যারিবীয়রা।
বাংলাদেশের পক্ষে বল হাতে ডানহাতি সালমা ও বাঁহাতি নাহিদা নিজেদের প্রথম ছয় ওভারে তিনটি করে মেইডেন তুলে নেন, রান খরচ করেন সমান ১২ এবং উইকেটও নেন সমান ২টি করে। শুধু তাই নয়, শেষ পর্যন্ত।দুজনেরই বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ১০-৩-২৩-২!
এছাড়া জাহানারা, রুমানা ও রিতু মনি নিয়েছেন একটি করে উইকেট। ফারিহা (৬ ওভারে ২২) ও ফাহিমা (৮ ওভারে ১৯) উইকেট না পেলেও করেছেন কিপটে বোলিং।

Sharing is caring!