Sharing is caring!

মোঃ মাসুদ রানা, স্টাফ রিপোর্টার:

 

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার ধানশালিক ইউনিয়নে অবস্থিত চাপরাশি খালের উপর ১৮ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মাণাধীন চর এলাহী ব্রিজে বালু বাহী বলগেটের ধাক্কায় ব্রিজের স্টেজিং ভেঙ্গে পানিতে তলিয়ে গেছে, ঝুঁকিতে রয়েছে পুরো ব্রিজ।

 

বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) দুপুর পৌনে ১২ টার দিকে উপজেলার ধানশালিক ইউনিয়নের চর এলাহী ব্রিজে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এর আগেও তিন তিনবার একইভাবে বালু বাহী বলগেটের ধাক্কায় ব্রিজের দুইটি গার্ডার ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

 

বলগেটের ধাক্কায় ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান।

তবে এ বিষয়ে জানতে চেয়ে বারবার কল দিলেও ফোন রিসিভ করেননি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুল মামুন।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল খান জানান, বারবার বালু ব্যাবসায়ীদের বলগেটের আঘাতে ব্রিজের নির্মাণ কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এর আগেও তিনবার বলগেটের আঘাতে ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আমরা তখন ততকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি অবহিত করেছিলাম, তখন নির্বাহী অফিসার এসে বালু ব্যাবসায়ীদের বলগেট আনা নেওয়া স্থগিত করে, কিন্তু এর কিছুদিন যেতে না যেতেই আবারও তারা ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে বলগেটে করে বালু আনা শুরু করে। তিনি আরও বলেন, প্রথম বার দুর্ঘটনা ঘটার পর যদি প্রশাসন উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতো তাহলে আজ আবার দুর্ঘটনা ঘটতো না। আজকের দুর্ঘটনায় তার প্রতিষ্ঠান ২ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি ব্রিজের কাজ আরও অন্তত একবছর পিছিয়ে গেছে এ দুর্ঘটনার কারণে। এম এম বিল্ডার্সের পক্ষ থেকে বালু ব্যাবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কামাল খান।

 

কামাল খান আরও বলেন, দুর্ঘটনা ঘটার পর আমরা জেলাপ্রশাসক মহোদয়কে বিষয়টি জানিয়েছি, পাশাপাশি কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার আতিকুল মামুন ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিনকে এ বিষয়ে অবহিত করেছি।

 

দুর্ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বালু ব্যাবসায়ী মোঃ বেলাল এ প্রতিবেদককে মোবাইলে বলেন, বলগেটের ইঞ্জিন বিকল থাকায়, জোয়ারের তোড়ে সেটি ব্রিজের সাথে গিয়ে ধাক্কা লাগে, ইঞ্জিন ভালো থাকলে এমনটি হতো না। তিনি বলেন, আমরা ইচ্ছে করে তো আর ব্রিজে গিয়ে ধাক্কা মারি নি, দুর্ঘটনাবশত এটা হয়ে গেছে, ব্রিজের কোনো ক্ষতি হয়নি, শুধু সেন্টারিং ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ভবিষ্যতে আমরা আরও সতর্কভাবে বলগেট আনা-নেওয়া করবো যাতে ব্রিজের কোন সমস্যা না হয়।

 

আরেক বালু ব্যাবসায়ী খসরু বলেন, প্রথমবার আমার বালু বাহী বলগেটের দড়ি ছিড়ে ব্রিজে গিয়ে ধাক্কা লাগে, এরপর থেকে আমি সতর্কভাবে বলগেট আনা-নেওয়া করছি, তাই আমার কোনো বলগেট আর ব্রিজে গিয়ে আঘাত করেনি।

 

স্থানীয় জনগণ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বালু ব্যাবসায়ীদের সিন্ডিকেট অনেক ক্ষমতাধর, তারা স্থানীয় রাজনীতির সাথে জড়িত, তাই বারবার তাদের বালু বাহী বলগেট দ্বারা ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্থ হলেও কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়না তাদের বিরুদ্ধে।

 

এ বিষয়ে নোয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড.মোহাম্মদ আহাদ উল্যাহ বলেন, বিষয়টি জেনে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো.নিজাম উদ্দিন সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরও বলেন একাধিকবার বালুবাহী বলগেট নির্মাণাধীন ব্রিজের স্টেজিংয়ে আঘাত করায় আগামী বর্ষার আগে কাজটি সন্তোষজনক পর্যায়ে আনা কষ্টকর হয়ে পড়বে।

 

নোয়াখালী সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানাযায়, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট বাজার থেকে চর এলাহী বাজারের সাথে সরাসরি যোগাযোগের লক্ষ্যে ২০২০ সালের ১৫ ই ডিসেম্বর সড়ক ও জনপদ বিভাগ ১৮ কোটি টাকা ব্যায়ে ৯৭ মিটার দৈর্ঘ্য এ ব্রিজের নির্মাণ কাজ শুরু করে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এম এম বিল্ডার্স, মাহমুদুর রহমান ব্রিজটির নির্মাণ কাজ করছে।

Sharing is caring!