Sharing is caring!

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের বাসভবনের বাইরে সহিংসত বিক্ষোভের জেরে কলম্বোর বেশ কয়েকটি এলাকায় জারি করা করাফিউ তুলে নেওয়া হয়েছে; বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে নারীসহ ৪৫ জনকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ।
শুক্রবার ভোর ৫টায় কারফিউ প্রত্যাহার করা হয় বলে কলম্বো পুলিশের মুখপাত্র এসএসপি নিহাল থালডুয়ার বরাতে জানায় শ্রীলঙ্কার ডেইলি মিরর।
এর আগে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে দেশটির রাজধানী কলম্বোতে প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসের পদত্যাগ দাবি করে বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন প্রায় ৫ হাজার ক্ষুব্ধ শ্রীলঙ্কার নাগরিক। এ সময় বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
তবে প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া তখন বাসভবনে ছিলেন না বলে জানিয়েছিল একটি সূত্র।
এদিন বিদ্যুৎ-সংকটের কারণে কলম্বোর সড়কের বাতি নিভিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। সন্ধ্যা থেকে প্রেসিডেন্টের বাড়ির সামনে অবস্থান নিতে শুরু করেন বিক্ষোভকারীরা। তারা সরকার থেকে প্রেসিডেন্ট ও তার পরিবারের সদস্যদের পদত্যাগ দাবি করেন।
পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানালে প্রত্যাখ্যান করেন বিক্ষোভকারীরা। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে বিক্ষোভকারীরা। পুলিশও বিক্ষোভ দমনে টিয়ার গ্যাস, জলকামান ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে। এ সময় ৪৫ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে ৪০ জন আহত হয়। বিক্ষোভকারীরা এ সময় পুলিশের একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়।
১৯৪৮ সালে স্বাধীনতার পর এখনই সবচেয়ে কঠিন অর্থনৈতিক সংকটের মোকাবেলা করতে হচ্ছে ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপ দেশটিকে। এ বছর কলম্বোকে প্রায় ৬৯০ কোটি ডলারের ঋণ পরিশোধ করতে হবে, অথচ ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ছিল ২৩০ কোটি ডলারের মতো।
২ কোটি ২০ লাখ মানুষের এই দেশটির মানুষকে এখন প্রতিদিনি ১৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে, কারণ জ্বালানি তেল আমদানির মত যথেষ্ট বিদেশি মুদ্রা দেশটির সরকারের হাতে নেই। দেউলিয়া হতে বসা শ্রীলঙ্কা সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছে। আইএমএফের একজন মুখপাত্র বৃহস্পতিবার বলেছেন, এ বিষয়ে তারা শিগগিরই কলম্বোর সঙ্গে আলোচনায় বসবেন।
ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেলের মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় গত মাসে শ্রীলঙ্কা তাদের একমাত্র তেল শোধনাগারটি বন্ধ করে দেয়। ডিজেল-সংকট যত বাড়বে বিদ্যুতের লোডশেডিংও তত বাড়তে থাকবে।
বিদ্যুৎ না পাওয়ায় দেশটির প্রধান স্টক মার্কেটে লেনদেনের সময় কমিয়ে এনেও কাজ হচ্ছে না। বিদ্যুৎ বাঁচাতে সড়ক বাতিও নিভিয়ে রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কার বিদ্যুৎ মন্ত্রী পবিত্র ভান্নিয়ারাচ্চি।
শ্রীলঙ্কার পরিসংখ্যান বিভাগ জানিয়েছে, মার্চে মূল্যস্ফীতি হয়েছে আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১৮.৭ শতাংশ। খাদপণ্যের মূল্যস্ফীতি ৩০.২ শতাংশে পৌঁছেছে।

Sharing is caring!