Sharing is caring!

ডেস্কঃ

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্তবর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় চোরাইপথে মাদক আমদানি নতুন কিছু নয়। পান থেকে চুন খসে পড়ার মতো তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে হানাহানিও রীতিমতো এখানকার ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। মাদক ও গ্রাম্য দাঙ্গা ছাড়াও চুরি ছিনতাই, ধর্ষণ এবং হত্যাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনায় জেলার নয় থানা মিলে প্রতি মাসে গড়ে চারশ থেকে পাঁচশ মামলা দায়ের হয়। সব মিলিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ সদস্যদের সারাক্ষণ ছুটতে হয় অপরাধীদের পেছনে। তবে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়েছে অপরাধ পরিসংখ্যানে। অদৃশ্য করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে মামলার সংখ্যা কমে এসেছে ইতিবাচক হারে।

তবে একেবারেই যে অপরাধ হচ্ছে না তা নয়। এখনও থানাগুলোতে যে মামলা হচ্ছে এর বেশিরভাগই মাদক, গ্রাম্য দাঙ্গা ও নারী নির্যাতন সংক্রান্ত। অন্যান্য ঘটনায় মামলা হলেও তার পরিমাণ পূর্বের সময়ের তুলনায় অনেক কম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা করোনা ইস্যুতে ব্যস্ত থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চোরাকারবারিরা এখনও মাদক পাচার করে যাচ্ছে।

খবর নিয়ে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া, কসবা ও বিজয়নগর উপজেলা ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্ত ঘেঁষা। এই তিন উপজেলায় মাদক কারবারিদের সংখ্যাও কম নয়। এ সব মাদক কারবারিরা সীমান্তরক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে সীমান্তের কাঁটাতার দিয়ে অবৈধভাবে গাঁজা, ফেনসিডিল ও মদ আমদানি করে।এছাড়াও জেলার সরাইল, আশুগঞ্জ, নাসিরনগর, নবীনগর ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় প্রায়ই এলাকায় আধিপত্য বিস্তারসহ ছোট-খাটো নানা বিষয় নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এর মধ্যে লকডাউন ভেঙে গত ৩১ মার্চ জেলার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের ভূইশ্বর গ্রামে ড্রেন নির্মাণ নিয়ে বর্তমান ও সাবেক দুই ইউপি সদস্যের সমর্থকদের সংঘর্ষে ৫০ জন আহত ও ১২ এপ্রিল নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের থানাকান্দি গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মোবারক মিয়া (৪৫) নামে এক ব্যক্তির পা কেটে ‘আনন্দ মিছিল’ করার ঘটনাটি সারাদেশে সমালোচিত হয়।

পুলিশের মতে, গ্রাম্য সদার্ররা এলাকায় নিজেদের আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে গ্রামে দাঙ্গা-হাঙ্গামা লাগিয়ে রাখে। এতে করে আর্ধিকভাবেও লাভবান হন তারা। চুরি-ছিনতাই, ধর্ষণ ও হত্যার মতো অপরাধের সংখ্যাও কম নয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। মাদক ও গ্রাম্য সংঘর্ষের মামলার পর নারী নির্যাতন ও হত্যা মামলার সংখ্যাই বেশি। তবে করোনাভাইরাসের প্রভাবে প্রায় সব ধরণের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডই কমে এসেছে। থানাগুলোতে এখন মামলা হচ্ছে হাতে গোনা।

জেলা পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, গত জানুয়ারি মাসে জেলার নয় থানায় মোট ৩৭০টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে চুরি ছিনতাইয়ের মামলা ১৩টি, হত্যা মামলা ছয়টি, মারামারি ৪৪টি, নারী নির্যাতন ২৫টি এবং মাদক মামলা ১৭৩টি। এ ছাড়া বিভিন্ন ঘটনায় আরো অনেকগুলো মামলা হয়েছে।

ফেব্রুয়ারি মাসে মোট মামলা হয়েছে ৩২২টি। এর মধ্যে চুরি-ছিনতাইয়ের মামলা ১৬টি, হত্যা তিনটি, মারামারি ৩৮টি, নারী নির্যাতন ৪৪টি এবং মাদক মামলার ১৩৫টি মামলা উল্লেখযোগ্য।

মার্চ মাসে মামলা হয়েছে ৩৩৮টি। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য চুরি-ছিনতাইয়ের মামলা ১৬টি, হত্যা চারটি, মারামারি ৭২টি, নারী নির্যাতন ৪০টি এবং মাদক মামলা ১১৯টি। এপ্রিল মাসে মামলা দায়েরের হয়েছে ২৩৯টি। এর মধ্যে চুরি ছিনতাই নয়টি, হত্যা আটটি, মারমারি ৭২টি, নারী নির্যাতন ১২টি এবং মাদক মামলা ৬১টি। আর ২০ মে পর্যন্ত নয় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে ২৮০টি। এসব মামলার মধ্যে চুরি-ছিনতাই নয়টি, হত্যা আটটটি, মারামারি ৭৫টি, নারী নির্যাতন ১৬টি এবং মাদক মামলা ৮৮টি।

বিশিষ্টজনরা বলছেন, করোনাভাইরাসের কারণে মানুষ ঘরে থাকার ফলে অপরাধ প্রবণতা কমে এসেছে। এর ফলে থানায় মামলাও হচ্ছে কম। তবে এখনও যারা অপরাধ করে বেড়াচ্ছে তাদের অনেকেই পারিবারিকভাবে বঞ্ছনার শিকার। কেউ কেউ আবার নিম্ন আর্থ সামাজিক ব্যবস্থা এবং সঙ্গদোষে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে মানুষজন ঘরে অবস্থান করছে, এতে করে সামাজিক যে অপরাধগুলো হয় সেগুলো কমে গেছে।

Sharing is caring!