Sharing is caring!

নোয়াখালী প্রতিবেদক:

 

 

সন্ত্রাস, মাদক ও ইয়াবা ব্যবসায়ী তানভির আহম্মেদ জয় প্রকাশ ইয়াবা বাবুর পরিবার ও তার সাঙ্গ পাঙ্গদের হাত থেকে রেহায় পেতে আকুতি জানিয়েছেন বেগমগঞ্জ থানাধীন ১২নং কুতুবপুর ইউনিয়নের কিছমত আবদুল্লাহ পুর গ্রামের হাজী আবুল হাসেম ও তার পরিবার।

তিনি জানান, বাবু ও জনি এলাকায় কিশোর গাংয়ের নেতৃত্ব দেয়। প্রানের ভয়ে এদের বিরুদ্ধে কেউ মামলা করতে চায় না। তাদের অত্যাচারে এলাকাবাসি অতিষ্ট। একসময় ছাত্র শিবির এখন দল পাল্টিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে লিপ্ত। বাবু ও তার মা বিবি মরিয়ম গত ৪ বছর যাবত তাদের বিরুদ্বে নারী নির্যাতন ও ধর্ষন, হাইজ্যাক, মার্ডার সহ প্রায় ৫ টি মামলা দায়ের করেন। এর মধ্যে নারী নির্যাতন ও ধর্ষন মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল থেকে মিথ্যা মামলা হিসাবে খারিজ করা হয়। এছাড়াও প্রতিপক্ষগন ফেইজ বুক ও সোসাল মিডিয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন অরুচিপূর্ন বক্তব্য ও ছবি দিয়ে তাদের সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করছেন।

এদিকে আবুল হাসেম অভিযোগ করেন, গত ৩০ জুন সকাল ১১ টায় হাজী আবুল হাশেমের বাড়ীতে (প্রকাশ মফজল মিয়ার বড়ী) জায়গা জমিন সংক্রান্ত ব্যপার নিয়ে সাবেক জামাত নেতা আদম ব্যবসায়ী ইউছুফ খোকন এর স্ত্রী বিবি মরিয়ম, তার ছেলে তানভির আহমেদ জয় প্রকাশ ইয়াবা বাবু দ্ ইসমাইল হোসেন জনি , মোঃ শরীফ প্রকাশ ন্ত্টিকটক শরীফ এবং তাদের ভাড়া করা আরো চার-পাঁচজন সন্ত্রাসী নিয়ে অর্তকৃত ভাবে জন প্রকাশ্যে তার ছেলে নিজাম উ্দ্দীন দুলাল এর উপর হামলা চালিয়ে এলোপাথাডি, কিলগুশি, লোহাররড, কাঠ ও বাঁশ দিয়ে আক্রমন করে এসময় একই বাড়ীতে অবস্থান কারী তার বয়বৃদ্ধ চাচা আব্দুল খালেক (৭০), আব্দুল মতিন (৭৪) ও চাচাতো ভা্ই মোঃ ইব্রাহিম এবং নজরুল ইসলাম এগিয়ে আসলে তাদের ভাড়া করা সন্ত্রাসীরা তাদের উপর ও হামলা চালায়। এতে নিজাম উদ্দীন দুলাল, মোঃ ইব্রাহিম, নজরুল ইসলাম, আব্দুল মতিন সহ আরো ৭ জন মহিলা পুরুষ আহত হয়।

ঘটনাটি স্থানীয় মেম্বার মোহাম্মদ নুরুল হুদা আলমগীর, সাবেক মেম্বার আলী এবং আশে পাশের বাড়ীর লোকের সামনে প্রকাশ্যে সংঘটিত হয়। বিষয়টি তৎক্ষনাত কুতুবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম হিরন এর নিকট জানানো হয়। পুরো সন্ত্রাসীদের আক্রমনের এক পর্যায়ে তাহাদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের ধস্তাধস্তিতে বিবি মরিয়ম মাথায় আঘাত প্রাপ্ত হয়। সন্ত্রাসীরা বাড়ি ত্যাগ করলে ঘটনার দিনই নিজাম উ্দ্দীন দুলাল থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে কর্তব্যরত ডিউটি অফিসার বিষয়টি সামাজিক ও থানার সমন্নয়ে মিমাংসা করার কথা বলে অভিযোগটি গ্রহন করেন নাই ।

পরবর্তীতে তানভীর একটি অভিযোগ নিয়ে উপরের লেবেল থেকে থানায় ফোন করিয়ে অভিযোগটি গ্রহন করতে ডিউটি অফিসার ও অফিসার ইনচার্জকে জোর প্রয়োগ করেন কিন্ত অফিসার ইনচার্জ বিষয়টি তদন্তের জন্য দুইজন অফিসার এনামুল ও শামীমকে পাঠালে তাহারা স্বরজমিনে তদন্তকরে এসে বিবি মরিয়মের কোন মাথা নিজামউদ্দীন দুলাল কর্তৃক পাটানো হয়নি বলে রিপোট প্রদান করলে অফিসার ইনচার্জ বিষয়টি থানা ও সামাজিক ভাবে মিমাংসা করার কথা বলেন এবং ঐদিন সন্ধ্যার পরে ৮টায় উভয়কে নিয়ে বসেন এসময় বর্তমান মেম্বার নুরুল হুদা আলমগীর ও সাবেক মেম্বার আরব আলীকে থানায় ডেকে নিয়ে আসেন।নুরুল হুদা আলমগীর ও আরব আলীর বক্তব্য শুনার পর অফিসার ইনচার্জ বেগমগঞ্জ থানা ও অফিসার ইনাচার্জ (তদন্ত) উভয় পক্ষকে পরবর্তী তারিখ ১ জুলাই মিমাংসা উদ্দেশ্যে থানায় আসার জন্য বলেন।

১ জুলাই দুপুর ২টায় এস অই মোস্তাক হোসেন বিষয়টি থানায় মিমাংসা করার কথা বলে নিজাম উদ্দীন দুলাল, নজরুল ইসলাম, আব্দুল খালেক, আব্দুল মতিন কে ফোনের মাধ্যমে বেগমগঞ্জ থানায় ডেকে নিয়ে আসেন । তারা বেগমগঞ্জ থানায় অফিসার ইনচার্জ তদন্ত এর নিকট গেলে তিনি তানভীর আহম্মেদ এর অভিযোগটি গ্রহন করে তাহাদের থানাতেই আটক করে ফেলেন । তারা আদালতে জামিন আবেদন করলে নিজাম উদ্দিন ছাড়া বাকীদের আদালত জামিন মঞ্জুর করেন। ভুক্ত ভোগী পরিবারটি এধরনের হয়রানী থেকে রেহাই পেতে প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান শিকদার জানান, উভয় পক্ষের মধ্যে জায়গা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মারামারি হয়, এতে এক পক্ষের বিবি মরিয়ম আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের লিখিত এজাহার তদন্ত করে মামলা রেকর্ড হয়েছে এবং আসামী গ্রেফতার হয়েছে। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ ও একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন তা তদন্তধীন রয়েছে।

Sharing is caring!