Sharing is caring!

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

 

 

নোয়াখালীর কবিরহাট ও চাটখিল উপজেলায় করোনা ভাইরাসের আক্রান্ত হয়ে আরও দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১৪৭জন। গত ২৪ঘন্টায় জেলার তিনটি পিসিআর ল্যাবে ৪৩৮টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৩৪জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার শতকরা ৩০দশমিক ৫৯ভাগ। এদিকে লকডাউন অমান্য করায় জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৮৬হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা ভিত্তিক লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্থদের সহযোগিতাও করা হচ্ছে।

 

জানা গেছে, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত লকডাউনে নোয়াখালীতে সকল ধরনের দুরপাল্লার যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে গত কয়েক দিনের তুলনায় সড়কে ছোট যানবাহন, ব্যক্তিগত গাড়ী ও মানুষের উপস্থিতি কিছুটা বেড়েছে। জেলার বিভিন্ন সড়কে কয়েকটি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করতে দেখা গেছে। জেলা শহর মাইজদী, সোনাপুর, বানিজ্যিক চৌমুহনীসহ বড় বাজারগুলোর সকল শপিংমল, মার্কেট বন্ধ থাকলেও কিছুসংখ্যক দোকানের সাটার অর্ধেক খোলা রেখে ব্যবসা চালাচ্ছেন ব্যবসায়ী। ভ্রাম্যমাণ আদালত ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে দোকান বন্ধ করলেও পরে পুনঃরায় আবার দোকান খুলছেন তারা। মানুষকে স্বাস্থ্য বিধি সম্পর্কে সচেতন করতে পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি কাজ করছে সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি, আনসারসহ আইন শৃংঙ্খলা বাহিনী ও স্কাউট সদস্যরা। গুরুত্বপূর্ন স্থানে বসানো হয়েছে পুলিশের চেক পোস্ট।

 

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার জানান, গত ২৪ঘন্টায় জেলায় নতুন আরও ২জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন আক্রন্ত ১৩৪জনসহ জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১১হাজার ৮৩৬জন। যার মধ্যে মারা গেছেন ১৪৭ আর সুস্থ্য হয়েছেন ৭হাজার ৫৭০জন রোগী। বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন ৪হাজার ১১৯জন। শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামের কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৭৯জন রোগী। জেলায় সংক্রমণের হার কমাতে স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। জনসচেতনতায় করা হচ্ছে মাইকিং, চালানো হচ্ছে প্রচার প্রচারণা।

 

জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. খোরশেদ আলম খান জানান, লকডাউ কার্যকর করতে ও জনগণকে স্বাস্থ্য বিধি সম্পর্কে সচেতন করতে জেলার বিভিন্ন বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। অভিযানকালে আইন অমান্যকারি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১১৪টি মামলায় ৮৬হাজার ৫০টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জনস্বার্থে আমাদের এ অভিযান অব্যহত থাকবে বলেও জানান তিনি। এছাড়াও লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্থ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজনকে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

Sharing is caring!