Sharing is caring!

নোয়াখালী প্রবেদক:

 

নোয়াখালী সদর উপজেলার আন্ডারচরে বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার ধর্ষণের শিকার কিশোরী অন্তস্বত্তা হয়ে পড়লে গ্রাম্য শালিসে বিয়ের আড়াই মাস পর নববধূর বাচ্চা নষ্ট করে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে প্রেমিক স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে।

 

গত ৩১ আগস্ট পেটের সন্তান নষ্ট এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে নোয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী নববধূ খুরশিদা বেগম (১৮)।

খুরশিদা বেগম উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়নের কাজীর চর গ্রামের মো. ছায়েদল হকের মেয়ে। অভিযুক্ত প্রেমিক স্বামী মো. আবদুল জলিল (২৫) একই এলাকার আবুল হাশেমের ছেলে।

নববধূ খুরশিদা বেগম বলেন, আন্ডারচর ইউনিয়নের কাজীর চর গ্রামের আবুল হাশেমের ছেলে মো. আবদুল জলিল আমাদের প্রতিবেশী হওয়ার সুবাধে তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সম্পর্ক চলাকালীন সময়ে জলিল খুরশিদাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। এতে খুরশিদা ৫ মাসের অন্তস্বত্তা হয়ে পড়ে। পরে জলিলকে বিয়ের চাপ প্রয়োগ করলে খুরশিদার পেটের বাচ্চা নষ্ট করার পর তাকে বিয়ে করবে বলে জানায় জলিল। খুরশিদা পেটের বাচ্চা নষ্ট করতে রাজি না হয়ে গ্রামের লোকজনকে বিষয়টি জানালে গত ১৭ এপ্রিল সামাজিকভাবে শালিস বৈঠকে তাদের বিবাহ দেওয়া হয়।

খুরশিদা বলেন, বিয়ের পর তার প্রেমিক স্বামী আবদুল জলিল এবং তার পরিবারের সদস্যরা খুরশিদার গর্ভের বাচ্চার কারণে তাদের সামাজিক সম্মানহানী হবে বলে ওই বাচ্চা নস্ট করে ফেলতে খুরশিদাকে চাপ প্রয়োগ করে। খুরশিদা তার পেটের বাচ্চা নষ্ট করতে রাজি হয়নি। ওই থেকে শুরু হয় খুরশিদার ওপর চরম নির্যাতন। পরে জলিলের পরিবার দাবি করেন তাদের ছেলে দেশে থাকলে এলাকায় সম্মান নিয়ে চলতে পারবেনা। তাই তাকে বিদেশ পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এজন্য খুরশিদার কাছে তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন।

খুরশিদার অভিযোগ, তার দরিদ্র পরিবারের পক্ষে স্বামী আবদুল জলিলকে তিন লাখ টাকা যৌতুক দিতে না পারায় গত জুন মাসে খুরশিদাকে ওষুধ খাইয়ে তার গর্ভের সাড়ে ৭ মাস বয়সী সন্তান নষ্ট করে পেলেন জলিল। ওই সময় খুরশিদা শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে না নিয়ে স্থানীয় মোল্লা বাজারের পল্লী চিকিৎসক সাইফুল ইসলামকে দিয়ে চিকিৎসা করানো হয়।

 

এরপর থেকে কারণে-অকারণে খুরশিদার ওপর নির্যান করতে থাকেন শশুরবাড়ির লোকজন। সর্বশেষ গত ২৪ আগস্ট বিকালে যৌতুকের চাহিত টাকার জন্য এলোপাতাড়ি মারধর করে স্বামী আবদুল জলিল, শশুর আবুল হাশেম, শাশুড়ি ফাতেমা বেগমসহ শশুর বাড়ির লোকজন। পরে খুরশিদার শোর-চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার তার বাবার বাড়িতে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরদিন খুরশিদার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের বর্হিবিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

শারীরিক নির্যাতন ও গর্ভের সন্তান নষ্ট করার বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী খুরশিদা বেগম গত ২৭ আগস্ট সুধারাম মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ নিয়ে গেলে থানার ওসি আদালতে মামলাটি করার পরামর্শ দিলে ৩১ আগস্ট নোয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী নববধূ খুরশিদা বেগম।

ভুক্তভোগী খুরশিদা বেগম বলেন, আদালতে মামলা করার পর ওই মামলা তুলে নিতে তাকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে তার স্বামী এবং শশুরবাড়ির লোকজন।

আন্ডারচর ইউনিয়নের মোল্লা বাজারের পল্লী চিকিৎসক সাইফুল ইসলাম জানান, রোগীর নরমাল ডেলিভারি ও শারীরিক সুস্থতার জন্য আমি ওষুধ দিয়েছি। কিন্তু মৃত বাচ্চার জন্ম হয়। বাচ্চা নষ্ট করার জন্য আগে কোন ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে কিনা সেই ব্যাপারে কোন তথ্য জানেন না বলে জানান ওই পল্লী চিকিৎসক।

অন্তস্বত্তা নববধূর গর্ভের সন্তান নষ্ট ও নববধূকে শারীরিক নির্যাতন করে যৌতুক দাবির বিষয়ে খুরশিদার স্বামী মো. আবদুল জলিলের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করে সংযোগ না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Sharing is caring!