Sharing is caring!

নোয়াখালী প্রতিবেদক:

 

 

বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে নোয়াখালীর কবিরহাট পৌরসভা, সুবর্ণচর ও হাতিয়া উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনব্যাপী কয়েকটি কেন্দ্রে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অর্তকিত হামলার শিকার হয়ে আহত হয়েছেন এক সংরক্ষিত ইউপি সদস্য প্রার্থীর স্বামী। প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে হামলা, হুমকি ধমকিসহ নান অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেছেন আওয়ামী লীগের ২জনসহ ৫জন চেয়ারম্যান প্রার্থী। একই অভিযোগ এনে কবিরহাট পৌরসভায় ভোট বর্জন করেছে ২ কাউন্সিলর প্রার্থী। এদিকে জাল ভোট দেওয়ার অপরাধে হাতিয়ার ২টি কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে ৪ জন প্রিজাইডিং ও ২জন পোলিং অফিসারকে আটক করেছেন কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

 

সোমবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। আটককৃত কর্মকর্তারা হলেন, চরঈশ্বর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের হাতিয়া ইউনিয়ন মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সহকারি প্রিজাইডিং মাহবুবুর রহমান ও মো: বেলায়েত হোসেন। জাহাজমারা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মোজাম্মেল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কেন্দ্রের সহকারি প্রিজাইডিং আহাম্মদ রাফি, মো: ছিদ্দিক উল্যা এবং ওই কেন্দ্রের পোলিং কর্মকর্তা মুন্নি বেগম ও ফারজানা আক্তার।

 

দুপুরে হাতিয়ার চরঈশ্বর ও জাহাজমারা ইউনিয়নের পৃথক দু’টি কেন্দ্রে জাল ভোট প্রদান ও সহযোগিতা করার অভিযোগে ভোটকেন্দ্র দায়িত্বে থাকা ৬ কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে চার জন সহকারী প্রিজাইডিং দুইজন পোলিং কর্মকর্তা।

 

হাতিয়ার ইউপি নির্বাচনে দায়িত্ব প্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম, জানান, জাল ভোটে সহযোগিতা করার সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাদেরকে আটক করে। তাদেরকে হাতিয়া থানায় সোপার্দ করা হয়েছে।বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে অবগত করা হয়েছে। কমিশন থেকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

অপরদিকে, সুবর্ণচর উপজেলার চর আমান উল্যা ইউনিয়নের দক্ষিণ নয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে ৭,৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার প্রার্থী ফেরদৌস আরা বেগমের স্বামী সাহাব উদ্দিনের ওপর অর্তকিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসময় হামলাকারিরা তার বুক ও মাথায় কুপিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

 

এরআগে, সকাল থেকে দুই উপজেলার কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টি ও কাদা মাটি উপেক্ষা করে কেন্দ্র গুলোতে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। প্রতিটি কেন্দ্রে পুরুষের তুলনায় নারীদের উপস্থিতি ছিল বেশি। হাতিয়ায় কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে বুড়িরচর, চরঈশ্বর, সোনাদিয়া, জাহাজমারা ও নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ৫জন চেয়ারম্যান প্রার্থী এবং কবিরহাট পৌরসভার ৬ ও ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ভোট বর্জন করেন। এদের মধ্যে কয়েকজন ভোটের আগের দিন ও বাকিরা ভোট শুরুর কয়েক ঘন্টা পর বর্জনের ঘোষণা দেন।

 

সকাল ৯টার দিকে হাতিয়ার জাহাজমারা ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী এ টি এম সিরাজ উল্যা, বুড়িরচর ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী জিয়া আলী মোবারক কল্লো, সোনাদিয়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল ইসলাম মালেশিয়া, চরঈশ্বর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হালিম আজাদ ও ভোট গ্রহণের আগের দিন নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহরাজ উদ্দিন নির্বাচন থেকে সরে দাড়ানোর ঘোষণা দেন।

 

বুড়িরচরের নৌকার প্রার্থী জিয়া আলী মোবারক কল্লোল অভিযোগ করে বলেন, ভোটের আগের রাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সাংসদ মোহাম্মদ আলীর সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ফখরুল ইসলামের অনুসারীরা আশেপাশে অবস্থান নেয়। ভোটের দিন সকালে কেন্দ্রে এজেন্টদের প্রবেশে বাধা প্রদান করে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি বাধ্য হয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁডানোর সিদ্ধান্ত নেন।

সোনাদিয়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল ইসলাম মালেশিয়া বলেন, ১৩টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতে নৌকার প্রার্থীর লোকজন প্রভাব বিস্তারের কারণে আমার কোন এজেন্ট কেন্দ্রে ডুকতে পারেনি। তাই ভোটারদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সকাল ৯টায় নির্বাচন থেকে সরে দাড়াঁনোর ঘোষণা দেন।

 

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রবিউল আলম জানান, কয়েকটি ছোট-খাট ঘটনা ছাড়া ২টি উপজেলায় ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। জাল ভোটে সহায়তার অভিযোগে আটককৃতদের বিরুদ্ধে কমিশন থেকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Sharing is caring!