ঢাকা ০৪:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫
সংবাদ শিরোনাম ::
অটোরিকশার সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, পাঁচ শিশুসহ আহত-৬ মানবিক তারুণ্যের ৮ম যুব সম্মেলন ও এ্যাওয়ার্ড বিতরণ সম্পত্তির বিরোধ নিয়ে থানায় অভিযোগ, পুলিশের তদন্তকালে বাদীর উপর হামলা, আহত ৪ হাসনাত-সারজিস ছাত্রলীগ থেকে গিয়ে নতুন দলে এসেছে: ইসমাইল সম্রাট কবিরহাটের একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র শিরিন গার্ডেনে হামলার অভিযোগ, পুলিশসহ আহত ৭ সুধারামে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম, অভিযোগ যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতকর্মীদের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মালিকানা ছিনতাই করেও এনসিপি সংগঠন হিসেবে ব্যর্থ হয়েছে: নাছির Blind Amjad receives Eid gift from Tarique Zia জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে দৃষ্টি হারানো আমজাদ পেলো তারেক জিয়ার ঈদ উপহার ভাড়াটিয়ার দোকানে তালা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

১৮বছর পর স্বজনদের পেলো আসমা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৩:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৫৫৩৯ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
নোয়াখালী প্রতিনিধি : 
বাংলা সিনেমায় নায়ক নায়িকাদের আজগুবি হারিয়ে যাওয়া ও ফিরে পাাওয়র গল্প নিয়ে অনেক হাসি ঠাট্টা হয়। এবার শুনুন এক সত্যিকারের হারিয়ে যাওয়া ফিরে পাওয়ার গল্প।
আজ থেকে ১৮ বছর আগে ২০০২ সালে চট্টগ্রামে হারিয়ে যাওয়া আসমা নামের শিশুকে এক পরিবার বাসায় কাজ করাতে পথ থেকে নিয়ে যায়। একদিন মারধর করলে সে আবার পথে বেরিয়ে পড়ে।
পরে নোয়াখালীর জনৈকা ফেরদৌসী কান্নারত আসমাকে কয়েকদিন নিজের হেফাজতে রাখেন। কিন্তু কেউ খোঁজ খবর করছেনা দেখে তিনি আসমাকে নিয়ে আসেন নিজের এলাকা নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাসপুর গ্রামে।
তারপর নিয়তি তাকে বিভিন্ন যায়গায় টেনে নিয়েছে। পাঁচ বছর ছিলো নোয়াখালীর টেলিফোন বিভাগের কর্মকর্তা ফরহাদ কিসলু’র বাসায়। এরপর আরো দুই বাসায় আরো ছয় বছর থেকে পুনরায় ফরহাদ কিসলু’র বাসায় ফিরে আসে। ফরহাদ কিসলু’র সহধর্মিণী ফাতেমা জোহরা সীমা আসমাকে তার বাবার বাড়ি একলাসপুরে পাঠিয়ে দেন।
তখন ফাতেমা জোহরা সীমা’র বাবার বাড়িতে গৃহ নির্মাণের কাজ চলছিলো। ডানপিটে আসমার সাথে এক নির্মাণ শ্রমিকের হৃদয়ের আদান প্রদান ঘটলে তারা পালিয়ে যায় চট্টগ্রামে। সেখানে তিন বছরের দাম্পত্য জীবনে একটা কন্যা ন্তানের জন্ম দেয় আসমা।
কখনো সুখে কখনো স্বামীর অত্যাচারে জীবন বয়ে যাচ্ছিলো। হঠাত স্বামী প্রবাসে চলে গেলে আবার নোয়াখালীতে ফিরে আসে আসমা। আশ্রয় নেয় পুনরায় ফরহাদ কিসলু’র বাসায়।
এবার জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ফিরে আসা আসমাকে কীভাবে শেকড়ের খোঁজ পাওয়া যায় জন্য ফরহাদ কিসলু’র সহধর্মিণী সীমা স্থানীয় সাংবাদিক মেজবাহ উল হক মিঠু’র সহযোগিতা চান নড়াই গ্রাম,  ব্রাক্ষনবাড়িয়া জেলা এটুকু সূত্র ধরে।
সাংবাদিক মিঠু ব্রাক্ষনবাড়িয়া নবীনগরের বিটিভি ও ইত্তেফাক প্রতিনিধির মাধ্যমে তৃতীয়বারের প্রচেষ্টায় খুঁজে পান আসমার পরিবারকে!
পুরো ঘটনাটির নিজ চোখে দেখা মানবিক সংগঠক সুমন নুর জানান, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ইমুতে ভিডিও কলে কথা হয় আসমার মা, ভাইয়ের সাথে। সে এক আবেগপূর্ণ দৃশ্য! দীর্ঘ আঠারো বছর পরে হারিয়ে যাওয়া মেয়েকে দেখে আসমার মা, বোনকে দেখে আসমার ভাই আবেগ সংবরণ করতে পারেননি। এদিকে আসমারও যেনো মুখে কথা ফুটেনা। শীঘ্রই আসমাকে নিতে আসবেন তার ভাই স্থানীয় একজন মাতব্বরকে নিয়ে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

১৮বছর পর স্বজনদের পেলো আসমা

আপডেট সময় : ১০:৪৩:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০
নোয়াখালী প্রতিনিধি : 
বাংলা সিনেমায় নায়ক নায়িকাদের আজগুবি হারিয়ে যাওয়া ও ফিরে পাাওয়র গল্প নিয়ে অনেক হাসি ঠাট্টা হয়। এবার শুনুন এক সত্যিকারের হারিয়ে যাওয়া ফিরে পাওয়ার গল্প।
আজ থেকে ১৮ বছর আগে ২০০২ সালে চট্টগ্রামে হারিয়ে যাওয়া আসমা নামের শিশুকে এক পরিবার বাসায় কাজ করাতে পথ থেকে নিয়ে যায়। একদিন মারধর করলে সে আবার পথে বেরিয়ে পড়ে।
পরে নোয়াখালীর জনৈকা ফেরদৌসী কান্নারত আসমাকে কয়েকদিন নিজের হেফাজতে রাখেন। কিন্তু কেউ খোঁজ খবর করছেনা দেখে তিনি আসমাকে নিয়ে আসেন নিজের এলাকা নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাসপুর গ্রামে।
তারপর নিয়তি তাকে বিভিন্ন যায়গায় টেনে নিয়েছে। পাঁচ বছর ছিলো নোয়াখালীর টেলিফোন বিভাগের কর্মকর্তা ফরহাদ কিসলু’র বাসায়। এরপর আরো দুই বাসায় আরো ছয় বছর থেকে পুনরায় ফরহাদ কিসলু’র বাসায় ফিরে আসে। ফরহাদ কিসলু’র সহধর্মিণী ফাতেমা জোহরা সীমা আসমাকে তার বাবার বাড়ি একলাসপুরে পাঠিয়ে দেন।
তখন ফাতেমা জোহরা সীমা’র বাবার বাড়িতে গৃহ নির্মাণের কাজ চলছিলো। ডানপিটে আসমার সাথে এক নির্মাণ শ্রমিকের হৃদয়ের আদান প্রদান ঘটলে তারা পালিয়ে যায় চট্টগ্রামে। সেখানে তিন বছরের দাম্পত্য জীবনে একটা কন্যা ন্তানের জন্ম দেয় আসমা।
কখনো সুখে কখনো স্বামীর অত্যাচারে জীবন বয়ে যাচ্ছিলো। হঠাত স্বামী প্রবাসে চলে গেলে আবার নোয়াখালীতে ফিরে আসে আসমা। আশ্রয় নেয় পুনরায় ফরহাদ কিসলু’র বাসায়।
এবার জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ফিরে আসা আসমাকে কীভাবে শেকড়ের খোঁজ পাওয়া যায় জন্য ফরহাদ কিসলু’র সহধর্মিণী সীমা স্থানীয় সাংবাদিক মেজবাহ উল হক মিঠু’র সহযোগিতা চান নড়াই গ্রাম,  ব্রাক্ষনবাড়িয়া জেলা এটুকু সূত্র ধরে।
সাংবাদিক মিঠু ব্রাক্ষনবাড়িয়া নবীনগরের বিটিভি ও ইত্তেফাক প্রতিনিধির মাধ্যমে তৃতীয়বারের প্রচেষ্টায় খুঁজে পান আসমার পরিবারকে!
পুরো ঘটনাটির নিজ চোখে দেখা মানবিক সংগঠক সুমন নুর জানান, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ইমুতে ভিডিও কলে কথা হয় আসমার মা, ভাইয়ের সাথে। সে এক আবেগপূর্ণ দৃশ্য! দীর্ঘ আঠারো বছর পরে হারিয়ে যাওয়া মেয়েকে দেখে আসমার মা, বোনকে দেখে আসমার ভাই আবেগ সংবরণ করতে পারেননি। এদিকে আসমারও যেনো মুখে কথা ফুটেনা। শীঘ্রই আসমাকে নিতে আসবেন তার ভাই স্থানীয় একজন মাতব্বরকে নিয়ে।