ঢাকা ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় কি/শো/রী/কে ধ-র্ষ-ণের অভিযোগ নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ১০৪ জয়পুরহাটে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইংরেজি বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ত্রিশাল নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সভাপতি ড. রফিক ও সম্পাদক মোখলেছ দুরারোগ্য রোগের যন্ত্রণায় এসিড পান করে যুবকের মৃত্যু নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ১০ দিনে আটক ১১০৬ কবিরহাটে সরকারি জায়গায় বালু ফেলে দখল চেষ্টার অভিযোগ নতুন কূপে খনন শেষে মিলেছে গ্যাস, জাতীয় গ্রীডে প্রতিদিন যুক্ত হবে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদে নরোত্তমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সংবাদ সম্মেলন হামে আক্রান্ত শিশুর মৃত্যু, চাটখিলে হাসপাতালে ভাঙচুর

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে সৎ মা কে কারাগারে পাঠালো পুলিশ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৪:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ মে ২০২১ ২১৯৩ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নোয়াখালী প্রতিবেদক:

 

 

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার হরনী ইউনিয়নে মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে সৎ মাকে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত খালেদা আক্তার (২৯) উপজেলার হরনী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের আবুল কাশেমের স্ত্রী।

নিহত শাবনূর বেগম (১২)। সে হরনী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ আদর্শ বাজারের ব্যবসায়ী আবুল কাশেমের মেয়ে এবং স্থানীয় দক্ষিণ আদর্শ গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

শুক্রবার (২৮মে) রাত ৮টায় হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আবুল খায়ের এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, গত বুধবার (২৬ মে) এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে অভিযুক্ত স্ত্রীকে প্রধান আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

ওসি আবুল খায়ের আরো বলেন, গত (২৫ মে) দুপুর দেড়টার দিকে নিখোঁজের ১২ ঘন্টা পর পুলিশ উপজেলার দক্ষিণ আদর্শ গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিছনের একটি ঝোপঝাড় থেকে নিখোঁজ ওই স্কুল ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে এবং একই সাথে তার স্বামীর অভিযোগের ভিত্তিতে সৎ মাকেও আটক করে পুলিশ। পরে বৈরি আবহওয়ার কারণে নৌ-চলাচল বন্ধ থাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার তাকে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

নিহতরে পিতা আবুল কাশেম জানান, গত ১২ বছর আগে সন্তান প্রসবের সময় তার প্রথম স্ত্রী মারা যায়। প্রথম ঘরে তার ৩ মেয়ে এক ছেলে সন্তান রয়েছে। দ্বিতীয় স্ত্রী খালেদা আক্তারের (২৯) ঘরে তার তিন ছেলে মেয়ে রয়েছে। তিনি স্থানীয় আদর্শ গ্রাম বাজারের একজন ব্যবসায়ী। গত সোমবার (২৪ মে) সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তার মেয়ে তাকে দোকানে সহযোগীতা করে। পরে তিনি মেয়েকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। দুপুরের দিকে তিনি বাড়িতে গিয়ে মেয়েকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুজি শুরু করেন। কিন্তু তিনি দিন রাত খুঁজে তার কোন সন্ধ্যান পাননি। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে প্রতিবেশীরা দক্ষিণ আদর্শ গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিছনের ঝোপঝাড়ের মধ্যে শাবনূরের মরদেহ দেখতে পেয়ে আমাকে খবর দেয়।

নিহতের পিতা আবুল কাশেম অভিযোগ করেন, এ ঘটনার পর তার বসত ঘরের একটি কক্ষে রক্তের দাগ দেখতে পাওয়া যায়। তার একটি লুঙ্গি এবং নিহত শাবনূরের একটি নতুন ওড়না ঘরের মধ্যে ভিজে পাওয়া যায় এবং ঘরের পাশে দুটি লাঠি পাওয়া যায়। সৎ মা তাকে বেধড়ক পিটিয়ে এবং কুপিয়ে হত্যা করে। তিনি আরো জানান, তার দ্বিতীয় স্ত্রী খালেদা আক্তার পারবারিক কলহের জের ধরে তাকে অনেকবার নির্যাতন করেছেন। একাধিকবার অন্ডকোষ চেপে হত্যা করতে চেষ্টা করেন।

হাতিয়া মোর্শেদবাজার তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. হেলাল উদ্দিন জানান, শাবনূরকে মাথায়, মুখে, ঘাড়ে, কানে দা দিয়ে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে হত্যা করে ঝোপঝাড়ে মরদেহ ফেলে দেয় তার সৎ মা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
নিউজ ডেস্ক
ট্যাগস :

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে সৎ মা কে কারাগারে পাঠালো পুলিশ

আপডেট সময় : ১১:২৪:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ মে ২০২১

নোয়াখালী প্রতিবেদক:

 

 

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার হরনী ইউনিয়নে মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে সৎ মাকে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত খালেদা আক্তার (২৯) উপজেলার হরনী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের আবুল কাশেমের স্ত্রী।

নিহত শাবনূর বেগম (১২)। সে হরনী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ আদর্শ বাজারের ব্যবসায়ী আবুল কাশেমের মেয়ে এবং স্থানীয় দক্ষিণ আদর্শ গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

শুক্রবার (২৮মে) রাত ৮টায় হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আবুল খায়ের এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, গত বুধবার (২৬ মে) এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে অভিযুক্ত স্ত্রীকে প্রধান আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

ওসি আবুল খায়ের আরো বলেন, গত (২৫ মে) দুপুর দেড়টার দিকে নিখোঁজের ১২ ঘন্টা পর পুলিশ উপজেলার দক্ষিণ আদর্শ গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিছনের একটি ঝোপঝাড় থেকে নিখোঁজ ওই স্কুল ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে এবং একই সাথে তার স্বামীর অভিযোগের ভিত্তিতে সৎ মাকেও আটক করে পুলিশ। পরে বৈরি আবহওয়ার কারণে নৌ-চলাচল বন্ধ থাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার তাকে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

নিহতরে পিতা আবুল কাশেম জানান, গত ১২ বছর আগে সন্তান প্রসবের সময় তার প্রথম স্ত্রী মারা যায়। প্রথম ঘরে তার ৩ মেয়ে এক ছেলে সন্তান রয়েছে। দ্বিতীয় স্ত্রী খালেদা আক্তারের (২৯) ঘরে তার তিন ছেলে মেয়ে রয়েছে। তিনি স্থানীয় আদর্শ গ্রাম বাজারের একজন ব্যবসায়ী। গত সোমবার (২৪ মে) সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তার মেয়ে তাকে দোকানে সহযোগীতা করে। পরে তিনি মেয়েকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। দুপুরের দিকে তিনি বাড়িতে গিয়ে মেয়েকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুজি শুরু করেন। কিন্তু তিনি দিন রাত খুঁজে তার কোন সন্ধ্যান পাননি। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে প্রতিবেশীরা দক্ষিণ আদর্শ গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিছনের ঝোপঝাড়ের মধ্যে শাবনূরের মরদেহ দেখতে পেয়ে আমাকে খবর দেয়।

নিহতের পিতা আবুল কাশেম অভিযোগ করেন, এ ঘটনার পর তার বসত ঘরের একটি কক্ষে রক্তের দাগ দেখতে পাওয়া যায়। তার একটি লুঙ্গি এবং নিহত শাবনূরের একটি নতুন ওড়না ঘরের মধ্যে ভিজে পাওয়া যায় এবং ঘরের পাশে দুটি লাঠি পাওয়া যায়। সৎ মা তাকে বেধড়ক পিটিয়ে এবং কুপিয়ে হত্যা করে। তিনি আরো জানান, তার দ্বিতীয় স্ত্রী খালেদা আক্তার পারবারিক কলহের জের ধরে তাকে অনেকবার নির্যাতন করেছেন। একাধিকবার অন্ডকোষ চেপে হত্যা করতে চেষ্টা করেন।

হাতিয়া মোর্শেদবাজার তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. হেলাল উদ্দিন জানান, শাবনূরকে মাথায়, মুখে, ঘাড়ে, কানে দা দিয়ে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে হত্যা করে ঝোপঝাড়ে মরদেহ ফেলে দেয় তার সৎ মা।