Sharing is caring!

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, শিক্ষা ও কর্ম অঙ্গাঙ্গিভাবে সম্পৃক্ত। কর্মহীন শিক্ষা অনেক সময় মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করে। তৈরি করে অভিজাত শিক্ষিত বেকার। বেকারত্বের বোঝা নিয়ে তরুণরা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্পদ না হয়ে দায় হিসেবে চিহ্ণিত হয়। তাই আমি আশা করবো, সকল যোগ্য ছেলেমেয়ে এ সেন্টার থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। বুধবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে কিশোরগঞ্জে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এসব কথা বলেন।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক এবং কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি।

আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ডিজেল প্ল্যান্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. রফিকুল ইসলাম এসপিপি। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (গ্রেড-১) বিকর্ণ কুমার ঘোষ।

আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম, পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার), জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান প্রমুখ ছাড়াও শহরের নানা শ্রেণি পেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা অনুষ্ঠানে লার্নিং এন্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় ফ্রিল্যান্সারদের মাঝে ল্যাপটপ বিতরণ করা হয়। এছাড়া অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নপূরণের তথ্যচিত্র প্রদর্শন এবং শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারের অবকাঠামোর ওপর তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

এর আগে বিকালে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের শোলমারায় ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সেখানে চারটি বৃক্ষের চারা রোপণ করেন রাষ্ট্রপতি।

নিজ জেলা কিশোরগঞ্জে ৫ দিনের সফরে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে গত রোববার (২৭ মার্চ) বিকালে মিঠামইনে যান প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ। মিঠামইন, ইটনা ও অষ্টগ্রাম এই তিন উপজেলায় মতবিনিময় ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে হেলিকপ্টারে বুধবার (৩০ মার্চ) বিকালে মিঠামইন থেকে তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে পৌঁছান। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় পোঁছার পর সার্কিট হাউজে রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

এর আগে, মিঠামইন উপজেলার কামালপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। মোনাজাতে রাষ্ট্রপতির বাবা-মা এবং নিকটাত্মীয়দের রূহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও রাষ্ট্রপতির বড় ছেলে রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক ও রাষ্ট্রপতির ছোট ভাই অধ্যক্ষ মো. আবদুল হকসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। কিশোরগঞ্জ শহরের খরমপট্টি অবস্থিত নিজ বাসায় রাত্রিযাপন শেষে পরদিন বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতির।

Sharing is caring!