Sharing is caring!

নোযাখালী প্রতিনিধি :

বিশ^জুড়ে আজ করোনাভাইরাসের মহামারি পরিস্থিতিতে সৃষ্ট সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মহীন নিম্ন আয়ের খেটে-খাওয়া মানুষ। এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানোই এখন মানবিকতার সবচেয়ে বড় পরিচয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ধারাবাহিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ, ত্রাণ বিতরণ, কৃষকের ক্ষেতের ধান কাটা, ছিন্নমূল মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ, ইফতারি-ঈদ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ও বিশ্বদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে মানবিকতার গল্প জুড়ে দিয়েছেন ছাত্রলীগ নেতা মো.নাজিম উদ্দিন।

নাজিম উদ্দিন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। নোয়াখালী সদর উপজেলার ধর্মপুর গ্রামে তার বাড়ি।
দেশে মহামারী করোনার থাবার শুরু থেকেই ঘরবন্দী মানুষের ধারে ধারে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নিয়েছেন এ ছাত্রলীগ নেতা। তার সঙ্গে ছিলো শতশত ছাত্রলীগ কর্মী। তারা মানুষের ঘরে পৌঁছে দিচ্ছেন খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী।

গৃহবন্ধী মানুষের সংকট নিরসনে কাজ করতে ছাত্রলীগ কর্মীদের দিয়ে বিভিন্ন ইউনিটে স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করে লিফলেটের মাধ্যমে সচেতনতার বাণী ও স্বেচ্ছাসেবক টিমের সদস্যদের মোবাইল নাম্বার ছড়িয়ে দেন নোয়াখালী জেলা সদরের বিভিন্ন এলাকায়। ওই নাম্বারগুলোতে ফোন করলেই পৌঁছে যায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য। শুধু নিজ জেলা নোয়াখালীতেই নয়, ছাত্রলীগ কর্মীদের মাধ্যমে কুমিল্লা, ফেনী, লক্ষীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বিপন্ন মানুষের খোঁজখবর নিয়েছেন তিনি।

করোনার ভয়াল থাবায় শ্রমিক সংকটে কৃষকের ক্ষেতের পাকা ধান যখন নষ্ট হওয়ার পথে তখন ছাত্রলীগের স্বেচ্ছাসেবক টিমের সদস্যদের নিয়ে ৫.৫ একক জমির পাকা ধান কেটে কৃষকের ঘরে পৌঁছে দেন নাজিম উদ্দিন। এ দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগ নেতা নাজিম উদ্দিনকে ভিডিও কলে ধন্যবাদ জানান।

জানা যায়, মহামারী করোনার শুরুতেই নোয়াখালী জেলা সদরের ধর্মপুরে দুইশতাধিক মানুষের মাঝে মাক্স, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণের পাশাপাশি তাদের স্বাস্থ্য সচেতন করতে জোর প্রচারণা চালান নাজিম উদ্দিন। একই সময়ে তিনি প্রায় এক হাজার পাঁচশত কর্মহীন-অসহায় পরিবারকে বাড়িতে বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেন। নিজে খাবার রান্না করে খাওয়ান সোনাপুর রেলওয়ে স্টেশন ও মাইজদী রেলওয়ে স্টেশনের ভাসমান-ছিন্নমূল অসহায় দুইশতাধিক মানুষকে।

করোনায় খাদ্য সংকটে কর্মহীন মানুষের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ঢাকা বিশ্বদ্যালয় ও নোবিপ্রবিসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঁচশতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিয়ে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ছাত্রলীগের এ নেতা।

জেলার বাহিরে কুমিল্লায় স্থানীয় ছাত্রলীগ কর্মীদের মাধ্যমে দুইশতাধিক পরিবারের মাঝে ইফতারি ও ঈদের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। ঈদের আগেই নিজ গ্রামের পাঁচশত পরিবারের জন্য রাতের আঁধারে ‘ঈদ উপহার’ নিয়ে অসহায় মানুষরে ঘরে ঘরে যান নাজিম উদ্দিন।

ঢাকা বিশ্বদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুইশত শিক্ষার্থী ও নোয়াখালীতে একশত ছাত্রলীগ কর্মীর মুঠোফোনে বিকাশ এর মাধ্যমে পৌঁছে দেন‘ঈদ উপহার’। একশত অসহায় পরিবারের মাঝে বিতরণ করেন শাড়ী, লুঙ্গী ও গেঞ্জি। করোনাকালে এ পর্যন্ত নাজিম উদ্দিন প্রায় চার সহ¯্রাধিক পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ছেন।

বাংরাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, রাজনীতির মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে মানবসেবা। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসেবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ থেকে এই শিক্ষা গ্রহণ করেছি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ, প্রশাসনের পাশাপাশি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এলাকায় সাধারণ মানুষের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। নেত্রীর নির্দেশে আমিও ব্যক্তিগত অর্থায়নে কর্মহীন-অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। করোনার শুরু থেকে এ পর্যন্ত দুই হাজার পাঁচশতেরও বেশি মানুষকে স্বাস্থা সুরক্ষা সামগ্রী, ত্রাণ সহায়তা, খাবার ও ঈদ উপহার প্রদান করেছি এবং পাঁচ শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে নগদ টাকা ও ঈদ উপহার প্রদান করেছি।

নাজিম বলেন, পরিস্থিতি যাই হোক, নোয়াখালী সদরের মানুষ যেন অনাহারে না থাকে, তার ক্ষুদ্র চেষ্টা চালিয়ে যাবো। ছাত্রলীগের একজন ক্ষুদ্রকর্মী হিসেবে যতদিন প্রয়োজন আমি আমার এই প্রয়াস অব্যাহত রাখব।

Sharing is caring!