নিজস্ব প্রতিবেদক:

কাস্টম হাউস। হচ্ছে জনসমাগম। হাজার চেষ্টায়ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত হচ্ছে না। আছে করোনার ভয়। কিন্তু রাষ্ট্রযন্ত্র সচল রাখতে প্রয়োজন রাজস্ব। আমদানি-রপ্তানি সচল না থাকলে যা সম্ভব নয়। খোলা ভ্যাট অফিস। বিকিকিনি, টেন্ডার, লেনদেন, উৎপাদন-সরবরাহ সর্বত্র প্রভাবে ভ্যাটের।

কাস্টমস-ভ্যাট-এ দু’বিভাগে এসব সেবার পাশাপাশি রাষ্ট্রযন্ত্র সচল রাখতে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে কাজ করছে কাস্টমস-ভ্যাট কর্মকর্তারা। এতে দু’বিভাগে হু হু করে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। কখনো নিজে, আবার কখনো স্বপরিবারে। দু’বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা ‘হাফ সেঞ্চুরি’ পার করেছে।

যার মধ্যে একজন ডেপুটি কমিশনার ও একজন সহকারী কমিশনারও রয়েছেন। শতাধিকের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী অসুস্থ, হয়েছে পরীক্ষা। আক্রান্তদের সংস্পর্শে এসে অনেকেই আছেন হোম কোয়ারেন্টাইনে। অনেকেই আক্রান্ত হয়েও উপসর্গ না থাকায় ভাইরাস নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন।

আক্রান্ত থেকে বাদ যায়নি এ যোদ্ধাদের শিশু সন্তানরাও। সংস্পর্শে এসে কাস্টমসের একজনের চার বছরের শিশুও আক্রান্ত হয়েছেন। করোনায় ইতোমধ্যে এক কর্মকর্তা প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। তবুও থেকে নেই কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগ। এ দুটি বিভাগকে সচল রাখতে হলে ‘গণহারে’ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের বুথ স্থাপন ও চিকিৎসার ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের হিসাবে, রোববার পর্যন্ত দু’বিভাগে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৫ জন। গত দু’দিনে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন দশজন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দুইজন রাজস্ব কর্মকর্তা, একজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা। আইসিডি কমলাপুরে একজন ড্রাইভার। কাস্টমস ও ভ্যাট একাডেমির একজন রাজস্ব কর্মকর্তা। তার মেয়ে মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রীও আক্রান্ত।

তবে ইতোমধ্যে তার স্ত্রী ও মা করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। কুমিল্লা ভ্যাট কমিশনারেটের একজন সেপাই। যশোর ভ্যাট কমিশনারেটের একজন রাজস্ব কর্মকর্তা। সিলেট ভ্যাট কমিশনারেটের একজন সেপাই। ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটে দুইজন সাব-ইন্সপেক্টর আক্রান্ত। একজনের সংস্পর্শে এসে তার চার বছরের শিশু কন্যা আক্রান্ত হয়েছেন। পানগাঁও কাস্টম হাউসে একজন রাজস্ব কর্মকর্তা আক্রান্ত।

সূত্র আরো জানায়, ৫৫ জনের মধ্যে তিনজন সুস্থ হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছে-একজন ডেপুটি কমিশনার, একজন সহকারী কমিশনার, ২৩ জন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, ২০ জন রাজস্ব কর্মকর্তা, দুইজন সাব-ইন্সপেক্টর, চারজন সেপাই, একজন কম্পিউটার অপারেটর, একজন উচ্চমান সহকারী, একজন অফিস সহায়ক ও একজন ড্রাইভার।

সূত্র আরো জানায়, আক্রান্তের শীর্ষে রয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। এ হাউসে আক্রান্ত দাঁড়িয়েছে ২৫। এর মধ্যে দু’জন সুস্থ হয়েছে। এছাড়া ঢাকা কাস্টম হাউসে ছয়জন (একজন সহকারী কমিশনার), আইসিডি কমলাপুরে তিনজন, চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনারেটে একজন, ভ্যাট উত্তর কমিশনারেটে একজন, ভ্যাট পশ্চিম কমিশনারেটে একজন, যে সুস্থ। ভ্যাট দক্ষিণ কমিশনারেটে চারজন, রংপুর ভ্যাট কমিশনারেটে একজন (ডেপুটি কমিশনার), ঢাকা পূর্ব কমিশনারেটে দুইজন, ভ্যাট সিলেট কমিশনারেটে দুইজন, ঢাকা বন্ড কমিশনারেটে দুইজন, চট্টগ্রাম বন্ড কমিশনারেটে একজন, কাস্টমস গোয়েন্দায় একজন, মোংলা কাস্টম হাউসে একজন, কুমিল্লা ভ্যাট কমিশনারেটে একজন, যশোর ভ্যাট কমিশনারেটে একজন এবং কাস্টমস ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমিতে একজন। পানগাঁও কাস্টম হাউস একজন।

বিসিএস (কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট) অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব এবং মূসক, নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মুসফিকুর রহমান শেয়ার বিজকে বলে, আক্রান্তের হার লাফিয়ে বাড়ছে। এতে আমরা উদ্বিগ্ন। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই আমার সহকর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন। ইতোমধ্যে একজন প্রাণ দিয়েছেন। অ্যাসোসিয়েশন থেকে আক্রান্তদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। তবে এ মূহুর্তে গণহারে নমুনা পরীক্ষা করা দরকার। রাজস্ব আহরণ, সেবা প্রদানের স্বার্থে তাদের জন্য নমুনা সংগ্রহের আলাদা বুথ ও যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

বাংলাদেশ কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাকাএভ) প্রতিনিধি মো. ফরিদুল ইসলাম ভূঞা মুকুল শেয়ার বিজকে বলেন, আক্রান্তদের সাথে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। আক্রান্ত সহকর্মীদের সংগঠনের পক্ষ থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া বাসায় চিকিৎসারত ঢাকায় সহকর্মীদের অবস্থা কোন কারণে অবনতি হলে তাদের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।