Sharing is caring!

কার্যকারিতা বিচারে সব মাস্ক একরকম না। একেক ধরনের মাস্কের কোভিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা  কার্যকারিতা একেক রকম।

বিজ্ঞানীরা এক গবেষণায় কাপড়ের মাস্ক থেকে শুরু করে  KN-95  মাস্ক সহ প্রায় ১৪ ধরণের মাস্ক নিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছেন মানুষের মুখ, নাক থেকে নির্গত ড্রপলেটস গুলো প্রতিরোধ করতে কোন মাস্কের পারদর্শিতা বেশি। এবং সম্প্রতি  Science Advantage জার্নালে গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।

কার্যকারিতা বিচারে প্রাপ্ত ফলাফল

নাক, মুখ থেকে নির্গত ড্রপলেটস প্রতিহত করতে মেডিক্যাল গ্রেড KN-95 (ভাল্ব ছাড়া), যেটি ফ্রন্টলাইন মেডিকেল কর্মীরা ব্যবহার করছেন সবচেয়ে কার্যকর। এরপরেই রয়েছে সার্জিক্যাল মাস্ক, পলিপ্রোপাইলিন মাস্ক এবং কটন প্রোপাইলিন মাস্ক।

কাপড়ের মাস্ক ড্রপলেট প্রতিরোধে মোটামুটি কার্যকর বলা হয়েছে। তবে, কাপড়ের টুকরা বা ওড়না দিয়ে মুখ ঢাকলে ড্রপলেট গুলো প্রতিহত করতে পারে না বললেই চলে। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, মাস্ক একেবারেই না পরার চেয়ে এটি ভালো।  পশমের মাফলার দিয়ে নাক মুখ ঢাকলে এটি মাস্ক না পরার চেয়েও খারাপ। কারণ এর ফলে বড় ড্রপলেটস গুলো ভেঙ্গে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আকার ধারণ করে।

গবেষণার ধরণ 

উক্ত গবেষণার জন্য, উত্তর ক্যারোলিনার ডিউক ইউনিভার্সিটির একটি বহুমাত্রিক দল একটি অন্ধকার ঘর, একটি বাক্স, কয়েকটি লেজার, একটি লেন্স এবং একটি স্মার্টফোন ক্যামেরা সমন্বিত একটি সেট আপ তৈরি করেছিলেন। এই পদ্ধতির সাহায্যে গবেষকরা দেখেন যে, ব্যক্তির কথা বলার সময় মুখ ও নাক থেকে নির্গত ড্রপলেট মাস্ক দ্বারা প্রতিহত করা যায়।

ফেস মাস্কগুলির কার্যকারিতা সম্পর্কে এই বৈজ্ঞানিক ফলাফল নিয়ে যথেষ্ট বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে ইতোমধ্যেই। স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন দিক নির্দেশনা আসায় জনমনে নানারকম বিভ্রান্তি থাকলেও, মাস্ক পরলে ব্যাক্তির সংক্রমণের ঝুঁকি যে কমে এ বিষয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে তেমন একটা মতভেদ নেই।

স্বাভাবিক কথাবার্তা বলার সময় আক্রান্ত ব্যাক্তির মুখ ও নাক দিয়ে নির্গত ড্রপলেট আশেপাশের বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং ঐ বাতাস নিঃশ্বাসের সাথে গ্রহণ করলে কোভিড-১৯ সংক্রমিত হতে পারে বলে এ নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে। এটি আবদ্ধ স্থানে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

“আমরা নিশ্চিত করেছি যে ব্যক্তি যখন কথা বলে তখনও ছোট ড্রপলেট বের হয়, ফলে শুধু কাশি বা হাঁচি না বরং কথা বলার সময়ও রোগ ছড়াতে পারে,” ডিউকের রসায়ন বিভাগের সহযোগী গবেষণা অধ্যাপক মার্টিন ফিশার একটি বিবৃতিতে এ কথা বলেছিলেন। তিনি আরও বলেন  “আমরা আরও দেখতে পেলাম যে কিছু মুখের মাস্ক বের হয়ে আসা ড্রপলেটগুলি ব্লক করার ক্ষেত্রে অন্যদের চেয়ে অনেক ভাল কাজ  করছে।”

ফিশার আরও বলেন- “ এটি একটি ডেমনস্ট্রেশন মাত্র, মাস্কের বিভিন্ন ধরণ, বক্তা এবং মাস্ক পরার ধরনের উপর সংক্রমণের হার নিয়ে আরও অনেক বেশি গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।”

এ বিষয়ে মায়ার ডাক্তার তাহমিনার মতে  –

“ কোভিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য মাস্ক পরিধান হল সবচেয়ে সাধারণ এবং সহজ সমাধান। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উপসর্গবিহীন ব্যাক্তিরাই সংক্রমণ ঘটানোর জন্য দায়ী। যেহেতু, তারা জানেন না যে তারা সংক্রমিত সেহেতু, তাদের সাথে কথা বলা ও তাদের হাঁচি, কাশির মাধ্যমে অন্যরা সহজেই সংক্রমিত হয়।”

মাস্ক পরিধানের ফলে কোভিড-১৯ সংক্রমণ যে কমে তার প্রমাণ হল সম্প্রতি বিশ্বের প্রায় ১৯৮ টি দেশের উপর করা এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে সমস্ত দেশে মাস্ক পরিধানের নির্দেশনা যথাযথ ভাবে মানা হয়েছে সে সমস্ত দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণে  মৃত্যুহার  অন্যান্য দেশের (যারা মাস্ক পরিধানের নির্দেশনা  যথাযথভাবে মানে নি বা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে ) তুলনায় কম।

সুতরাং, সময় থাকতে সচেতন হন। ঘরের বাইরে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করুন এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলুন।

Sharing is caring!