Sharing is caring!

এনকে বার্তা ডেস্ক::

করোনাভাইরাসের কারণে ঢাকা ও চট্রগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তারকা হোটেল ও রেস্টুরেন্টগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে উৎপাদিত সবজি আর কিনছেন না কেউ।

বগুড়ার গ্রামে উৎপাদিত রপ্তানীযোগ্য সুইট কর্ন, লেটুসপাতা ও দেশি-বিদেশী তুলসীসহ নানা ধরনের প্রায় কোটি টাকার সবজি খাচ্ছে গরু।

করোনাভাইরাসের কারণে রাজধানী ঢাকা ও বন্দর নগরী চট্রগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তারকা হোটেল ও রেস্টুরেন্টগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিবগঞ্জ উপজেলা বিভিন্ন গ্রামে উৎপাদিত সবজি আর কিনছেন না কেউ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, এসব সবজি তাদের আওতায় পড়ে না তবে কৃষকের ক্ষতি পোষাতে বীজ ও সার দেওয়ার উদ্দ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ মো আবুল কাশেম আযাদ বলছেন, “এই সবজিগুলো আমাদের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে। আমাদের নিয়মিত ফসলের আওতাধীন না হলেও আমরা ভর্তুকি হিসেবে বীজ ও সার দেওয়ার নির্দেশনা কৃষি অফিসারদের দিয়েছি।”

শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলায় বিদেশী বড় সবজির উৎপাদনকারী মোস্তাফিজুর রহমানসহ আরও কয়েকজন চাষী গত প্রায় দুই দশক ধরে চাষ করছেন থাই আদা, কারি পাতা, বীট, এসপারাগাস, লেমন গ্রাসসহ দেশি-বিদেশি তুলসী, সুইট কর্ন, চাইপস বা নীলার মতো আরো অনেক সবজি।

বিদেশীদের পাশাপাশি বাঙালিদের বিদেশি খাবারের স্বাদ দিতে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় গড়ে উঠা রেস্তোরা এসব সবজির বড় ক্রেতা হলেও করোনার কারণে বড় বড় হোটেল আর রেস্তোরা বন্ধ থাকায় আর বিক্রি হচ্ছে না বিদেশী সবজি। এ অবস্থায় গ্রামে গরুকে খাওয়ানো হচ্ছে বিদেশী সবজি।

চাষীরা বলছেন, করোনা পরিস্থিতি একপ্রকার নিঃস্ব করে ফেলেছে তাদের। সব বড় রেস্তোরা বন্ধ থাকায় সবজিগুলো বাজারজাত করতে পারছেন না তারা। যার ফলে নষ্ট হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার সবজি।

শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়নের মোস্তাফিজার রহমান এমনই একজন উৎপাদনকারী। শিবগঞ্জ এবং গাবতলী দুই উপজেলায় মোট সাড়ে ২২বিঘা জমিতে এইসব বিদেশি সবজি উৎপাদন করেন তিনি। এর মধ্যে ৮ বিঘা জমিতে থাই আদা এবং ৮ বিঘা জমিতে সুইট কর্ন লাগিয়েছেন। এগুলো বাজারজাত করার সময় পেরিয়ে গেছে ইতোমধ্যেই। জমিতেই নষ্ট হচ্ছে ফসল। সরবরাহ করতে না পারায় নেই আয়ও। তাই এসব সবজি কেটে ফেলে দেয়ার লোকও নিতে পারছেন না। কারণ শ্রমিক নিলেই দিতে হবে পারিশ্রমিক।

“শুধু সুইট কর্নেই আমার ক্ষতি ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকা। জমিতে থেকেই নষ্ট হয়ে গেল। কাটার জন্য মানুষ নিলে তাকে তো আবার পয়সা দিতে হবে। তাই গ্রামের মানুষদের বলেছি, তারাই যেন কেটে নিয়ে গিয়ে গরুকে খাওয়ায়। তাও আমার জমিটা পরিস্কার হোক। গ্রামের মানুষ করছে তাই। বছরে অন্তত কোটি টাকার সবজি যায় বড় বড় হোটেল রেস্তোরায়। করোনার কারণে ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ টাকার সবজি খাচ্ছে গরু। এসব সবজির যেমন দাম, তেমনি বীজেরও দাম অনেক বেশি। তাই এই সময়টায় পুরো শেষ। আমরা এসব সবজি উৎপাদন করে কোটি কোটি টাকা বাঁচিয়ে দিচ্ছি দেশের। নইলে এইসবই আমদানী করতে হতো। সেই হিসাবে আমরাও রেমিটেন্স আনার কাজ করছি। সরকারের উচিত আমাদের দিকেও নজর দেয়া”, বলছিলেন উৎপাদনকারী মোস্তাফিজার রহমান।

এসব জমিতে যারা কাজ করেন, তারাও পড়েছেন বিপাকে। পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না। আবার অবস্থা দেখে চাইতেও পারছেন না।

মোস্তাফিজারের জমিতে কাজ করা দিনমজুর আব্দুর রহমান বলেন, “আমরা তো দেখছি মালিকের কোন আয় নাই। কোন ফসল বিক্রি হচ্ছে না। তাই কেমন করে চাই। কিন্তু আমাদেরও তো পরিবার, ঘর-সংসার আছে। তাদের নিয়ে তো না খেয়ে থাকার মতো অবস্থা।”

Sharing is caring!